অজু এবং গোসলে অধিক পানি খরচ করা

85

আমরা মৌসুমি অঞ্চলের অধিবাসী হওয়াতে পানির জন্য আমাদের তেমন একটা কষ্ট পোহাতে হয় না। তারপরও বর্তমানে মানুষ যেভাবে যান্ত্রিক উপায়ে বিভিন্ন পদ্ধতিতে ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলন করছে, সে বিষয়ে আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভূ-তাত্ত্বিক-গনই চিন্তায় হিম-শিম খেয়ে যাচ্ছে। তারা বলছেন যে, “ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর যেভাবে নীচে নেমে যাচ্ছে, তাতে অদূর ভবিষ্যতেই আমাদের নিত্য প্রয়োজনীয় পানির অভাব দেখা দেয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়”। তার প্রমাণও আমরা পেয়ে যাচ্ছি যখন খরার সিজন হয়, সে অবস্থায় শহরে পানির জন্য বিশাল লম্বা লাইনের সিরিয়াল দিতে দেখা যায়।

এই ব্যাপারে হাদিসে আমাদের শিক্ষা দেয় যে, “তোমরা অপচয় ক’রো না, যদি তা প্রবহমান নদীর পানিও হয়”। এতে আমরা যে শিক্ষা পাই তাহলো, নদীর পানি ব্যবহার করলে যেখানকার পানি সেখানেই থাকে, মধ্যে থেকে আমাদের কাজ সমাধা হয়ে যায়। সেখানে থেকে পানি মোটেও কমে যাওয়ার কোন সম্ভাবনা থাকেনা। তাছাড়া প্রবহমান হওয়ার কারণে পানির উৎস থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পানি আসতে থাকে। তার পরও মিতব্যয়ী হতে মানুষকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, যাতে করে মানুষ বেশি পানি খরচ না করে অথবা অভ্যস্ত না হয়।

এমতাবস্থায় বর্তমানে আমরা ঝর্ণা ছেড়ে দিয়ে যে ভাবে গোসল করি, অথবা নলকা ছেড়ে দিয়ে যেভাবে অজু করি, তাতে যে কত পানির অপচয় হয়, তা আর বলার অবকাশ রাখে না। অপচয়-কারীদের সম্পর্কে মহান মহান আল্লহ রব্বুল আলামীন বলেন, “নিশ্চয়ই অপচয়-কারী-গন শয়তানের ভাই”। টিউবওয়েলে চেপে চেপে সে পানিতে অজু করলেও প্রায় চার জন লোকের অজু করার মত পানি দিয়ে একজনের অজু সম্পন্ন করা হয়। অজু-গোসল ধর্মীয় ইবাদত হওয়া সত্ত্বেও সেটি পালন করতে যেয়ে আল্লহর বানী মোতাবেক আমরা যদি শয়তানের ভাই হয়ে যাই, তাহলে আমাদের অন্যান্য ইবাদত করে কতটুকু ফায়দা লাভ করা যাবে?  কারণ: শয়তান কি ইবাদত করে কোন ফায়দা লাভ করতে পারবে?

তাই যতটুকু পানি আমাদের প্রয়োজন, ঠিক ততটুকু পানি যদি আমরা খরচ করি, তাহলে একদিকে যেমন আমরা গুনাহ থেকে বেচে থাকতে পারব, অপর দিকে সকল জাতী বা সৃষ্টি পানির কষ্ট থেকে মুক্তি পাবে। আর এটাই আমাদের পবিত্র ধর্মীয় দায়িত্ব। বর্তমানে যে সকল অজুর নলকাগুলো তৈয়ার হয়, তার ১০০%ই যদি স্প্রিং যুক্ত করে অর্থাৎ চাপ দিলে পানি বের হবে এবং চাপ না দিলে পানি বন্ধ থাকবে এমন পদ্ধতি করে তৈয়ার করা হয়, তাহলে অনেক পানি অপচয় রোধ করা সম্ভব। গোসলের নলকাগুলোও যদি এই ভাবে তৈয়ার করা হয়, তাহলে হয়তো আরাম ভোগীদের জন্য আরাম একটু কম হবে, কিন্তু আল্লহর অভিশাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। কাজেই এখন থেকে আমরা ওয়াদা-বদ্ধ হই যে, অধিক পানি অপচয় থেকে সর্বদাই দূরে থাকব এবং রসুল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পথ ও নির্দেশকে মান্য করব ইনশা আল্লহ। যদিও উত্তম বিষয়টি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনই ভাল জানেন, তারপরও এ বিষয়ে আরও অধিক জানার জন্য ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন:

http://www.islam-qa.com/en/ref/171285/water%20for%20wudo 

 

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *