অমুসলিমদের নামের সাথে শহিদ যোগ করা

মুসলমানদের মধ্যে সবথেকে মর্যাদাপূর্ণ পদবী বা খেতাব হল শহিদ। একমাত্র মুসলমান ছাড়া আর কোন ধর্মের মধ্যেই এই শহীদ শব্দ ব্যবহার হয় না। অথচ ১৯৭১ সনের মুক্তি যুদ্ধে যে সকল বিধর্মী ব্যক্তি-গন নিজ দেশ তথা বাংলাদেশের জন্য যুদ্ধ করে মৃত্যু বরন করেছেন, তাদেরকে এক চাটিয়া শহিদ হিসাবে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে। আসলে যারা এই সকল উপাধি দেয়ার মত ক্ষমতা রাখেন, তারা শুধুমাত্র এই টুকুই বুঝেন যে, যারা দেশের জন্য জীবন দিয়ে যায়, তারাই শহিদ। আসলে সেই সকল উপাধি দেয়ার মত ক্ষমতাধর ব্যক্তিগন ধর্মীয় দৃষ্টির শহীদের সংজ্ঞা জানেন না এবং একমাত্র মুসলমান ছাড়া যে অন্য কোন ব্যক্তির নামের সাথে শহীদ যোগ করা যায় না, এতথ্য সম্বন্ধে তারা একেবারেই অনবগত।

কিছু যায়গা এমন আছে যে, (যেমন বগুড়া জেলার শেরপুর) যেখানে শহিদ নামে চালিয়ে দেয়া প্রায় সকল ব্যক্তিই হিন্দু। অথচ সেটাই হল শহীদদের তালিকা বোর্ড। হিন্দু বা অমুসলিমদের যে দেশের জন্য মায়া নেই, তা কিন্তু মোটেও বলা যাবে না। কারণ মাতৃভূমির মায়া ও অধিকার সকলের কাছেই সমান। সেই হিসাবে যে সকল অমুসলিম ব্যক্তি মুক্তিযুদ্ধের সময় বা দেশের প্রয়োজনে নিজের জীবন কে বিলিয়ে দিয়েছেন, তাদেরকে অবশ্যই “দেশ প্রেমিক” “বা “দেশের জন্য জীবন উৎসর্গকারী“ অথবা আত্মোৎসর্গকারী হিসাবে উপাধি দেয়া যেতে পারে। যেক্ষেত্রে মৃত্যু-জনিত অবদানে সকল ধর্মের লোক জড়িত থাকে, সেই সমস্ত প্রাতিষ্ঠানিক শব্দকে আরবি ভাষার বা শুধুমাত্র মুসলমানদের জন্য ব্যবহৃত শহীদ শব্দ ব্যবহার না করে বরং বাংলা বা ইংরেজি ভাষার প্রচলিত শব্দ ব্যবহার করাই উচিত। তাছাড়া অমুসলিমদের জন্য তাদের নিজ নিজ ধর্মের নিয়মানুসারেও তাদের উপাধি দেয়া যেতে পারে। সেই ক্ষেত্রে কোন অমুসলিমদের বেলায় তাদের ধর্মেও যেমন শহীদ শব্দের কোন স্থান নেই, ঠিক তেমনি ইসলাম ধর্মের কোন যায়গায়-ই একমাত্র মুসলমান ছাড়া অন্য কাউকে শহীদ উপাধি দেয়ার বা বলার অধিকার নেই।

ইংরেজী শব্দে সকল ধর্ম নির্বিশেষে সবাইকে Martyr এবং বাংলা শব্দে সবাইকে আত্মোৎসর্গকারী বলা যাবে, তবে আরবি শব্দের সমন্বয়ে শুধুমাত্র মুসলমান ছাড়া আর কারো নামের সাথেই শহীদ যোগ করা যাবে না। সেক্ষেত্রেও আবার প্রশ্ন থাকে যে, হয়তো সকল মুসল্মানকেই শহীদ বালা যাবে, তবে সকল হাদিসেরই একই সারাংশ, আর তাহলো “আল্লহর সন্তস্টি অর্জনের জন্য যার মৃত্য হবে, সে-ই কেবল শহীদ হিসাবে মর্যাদা লাভ করবে”। একটি বিষয় লক্ষনীয় যে, কোন মুসলমান মৃত্যু বরণ করলে তারজন্য অন্য কোন বিশেষ সমস্যা না থাকলে সেই মৃত ব্যক্তিকে গোসল করানো বাধ্যতামূলক; অথচ সেই ব্যক্তি যদি শহীদ হন, তাহলে তার কোন প্রকার গোসল না দিয়ে বরং যে কাপড় পরিহিত অবস্থায় তিনি শহিদ হয়েছেন, সেই কাপড়ে এবং রক্ত মাখা শরীরেই তাকে দাফন করতে হবে। কাজেই যাদের ধর্মে কবর দেয়ার কোন বিধান-ই নেই, বা কোর’আনের আলোকে যাদের কোন ইমান-ই নেই অর্থাৎ মুশরিক, সেই সকল অমুসলিম ব্যক্তিদেরকে নামের সাথে শহীদ বলা ইসলামে মোটেও জায়েজ নেই। যদিও উত্তম বিষয়টি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনই ভাল জানেন, তারপরও এ বিষয়ে আরও অধিক জানার জন্য ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন:

http://islamqa.com/en/ref/39344/martyr

http://islamqa.com/en/ref/8511/shahid

 

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *