অর্থ না বুঝে কুর’আন তিলাওয়াত অনুচিত মনে করা

অর্থ না বুঝে কোরআন তিলাওয়াত...

হাদিসের তথ্যানুসারে সকল প্রকার জিকিরের মধ্যে সর্বোত্তম জিকির হল কুর’আন তিলাওয়াত। মহানবী সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কুরআন শরীফের একটি অক্ষর পড়লো (নাপাকী অবস্থা ব্যতীত যে কোন সময়) তাকে প্রতিটি অক্ষরেরে বিনিময়ে দশটি করে নেকী দেয়া হবেউদাহরণস্বরূপ আলিফ লা-ম মী-ম উচ্চারণের তিনটি হরফের জন্য ৩×১০=৩০টি নেকী দেয়া হবেঅবগতি হল বর্তমানে উচ্চ সার্টিফিকেট ধারি কিছু মাওলানা উপাধিযুক্ত ব্যক্তি-গনও তাদের বক্তৃতায় বলে থাকেন যে, “অর্থ না বুঝে কুর’আন তিলাওয়াত করলে তার কোন ফায়দা হবে না”।

সে সকল মাওলানাদের কাছে আমার প্রশ্ন হল, রসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের  উদাহরণ অনুসারে আলিফ লা-ম মি-ম এর কি সে সকল আলেম-গন জানেন বা বুঝেন?  তাহলে তাঁদের বক্তৃতানুসারে এই শব্দ তিলাওয়াত করলে কি কোন ফায়দা লাভ হবে না?  উল্লেখ্য রসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ভুল করে কি এই ধরনের উদাহরণ দিয়েছিলেন?  (নাউজু বিল্লাহ) আর এই শব্দের অর্থ কি কেউ জানে অথবা কখনো জানতে পারবে?  রসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক এই উদাহরণটি দেয়ার কারণ হল যাতে মানুষ অর্থের দিকে না তাকিয়ে বরং তিলাওয়াতের গুরুত্বর দিকে তাকায়। অথচ আমাদের দেশের অন্ধ আধুনিকতার সমর্থক মাওলানা-গন কোন বিষয়ের মুল গুরুত্ব না বুঝে নিজস্ব চিন্তায় যা আসে তার উপরই বক্তৃতা দিয়ে থাকেন। তাদের এই ধরনের বক্তৃতায় মানুষের কতটুকু ক্ষতি হতে পারে, এই বিষয়টি বুঝতে পারলে তাঁরা এই ধরনের কথা বলতে পারতেন না। এই ধরনের বক্তৃতা শুনে অনেক অশিক্ষিত লোক যারা নিয়মিত কুর’আন তিলাওয়াত করেন, তারা দ্বিধা-দ্বন্দ্বের মধ্যে পরে যান এবং  অনেকে বলেন যে, “আলেমদের কথা অনুসারে আমরা যেহেতু অর্থই বুঝি না, কাজেই আমাদের কুর’আন শরীফ পড়ে তো কোন লাভ নেই”।

মহান আল্লহ রব্বুল আলামীন পাক কালামে বলেন, তোমরা কুরআন তিলাওয়াত কর ধীরে ধীরে এবং  তারতীল (পাঠের নিয়ম) অনুসারেলক্ষ্যনীয় বিষয় যে, মাওলানা-গন যখন মঞ্চে উঠে কুর’আনের বিভিন্ন আয়াত তিলাওয়াত করেন, তখন কি তাঁরা খেয়াল করেছেন যে, তাদের কুর’আন তিলাওয়াত শুদ্ধ হয় কি-না?  যেখানে শুদ্ধ রূপে কুর’আন তিলাওয়াত করা ফরজ, সেখানে তাঁদের কোন খেয়াল নেই। অথচ যে বিষয়ের ব্যাপারে হাদিসয়ের কোন ডকুমেন্ট নেই, সে বিষয়ে কথা বলতে তাঁদের বুক কাঁপে না কেন?  তাদের খেয়াল রাখা উচিৎ যে, অপরের দোষ এক আঙ্গুল তুলে দেখানোর সময় হাতের দিকে খেয়াল করে দেখুক, তিন আঙ্গুল বলছে যে তাঁরাই দোষী। অতএব কথা হল, যে সকল আলেম উপাধি ধারি ব্যক্তি-গন বলেন যে, অর্থ না বুঝে কুর’আন তিলাওয়াত করলে কোন ফায়দা নেই, নিঃসন্দেহে তাঁরা মিথ্যাবাদী। কাজেই তাঁদের কোন কথা আপনারা সাধারণ জনগণ শুনবেন না।

হাদিসে আছে যে, তোমাদের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে, যারা কুরআন তিলাওয়াত করে অথচ কুরআন তাদেরকে অভিশাপ দেয়’’অপর দিকে পাক কালামের ভাষা অনুসারে মহান আল্লহ রব্বুল আলামীন এর প্রতিটি সৃষ্টি এমনকি জীবন্ত গাছ পর্যন্ত যার যার নিজস্ব ভাষায় মহান আল্লহ রব্বুল আলামীন এর জিকির করে। যেমন দাউদ (আঃ)য়ের সময় তাঁর সাথে সকল প্রাণী কূল একসাথে জিকির করত। তাহলে একথা আমাদের বুঝা উচিৎ যে, আমরা শুদ্ধরূপে কুর’আন তিলাওয়াত করলে আল্লহর প্রতিটি সৃষ্টি তা শ্রবণ ক’রে যেমন আমাদের জন্য সাক্ষী হবেন, ঠিক তেমনি কুর’আন শরিফ অশুদ্ধ রূপে তিলাওয়াত করলে সে প্রতিটি সৃষ্টিই তিলাওয়াত কারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আল্লহর কাছে তার ধ্বংস কামনা করবে। সেখানে একথা বললে কাজ হবে না যে, আমি কুর’আন শুদ্ধ রূপে তিলাওয়াত না করলে কি হবে, কিন্তু আমি প্রতিটি শব্দের অর্থ বুঝতাম। কাজেই যারা শুধুমাত্র অর্থ বুঝার দিকেই অধিক গুরুত্ব দেয়, তাদের অর্থ বুঝা তাদের কাছেই থাকবে, মধ্যে থেকে আপনার বিরুদ্ধে সাক্ষী দেয়ার মত সৃষ্টির অভাব থাকবে না। তাই কুর’আনের অর্থ সমাজের অল্প পরিমাণ মানুষ বুঝলেই চলবে, কিন্তু তিলাওয়াতের বেলায় ১০০% মানুষকেই শুদ্ধ রূপে তিলাওয়াত করতে হবে। সাহাবি (রাঃ) দের সময়ে তাদের ভাষা আরবি হওয়া সত্ত্বেও তাঁরা সকলেই অর্থ বুঝতেন না বরং যারা ভাল বুঝতেন, তাদের সহযোগিতায় সকলেই আমল করতেন। অতএব আলেমদের এই ধরনের বক্তব্য কখনোই দেয়া উচিৎ নয় যে, ‘অর্থ না বুঝে কুর’আন তিলাওয়াত করলে কোন ফায়দা পাওয়া যাবে না’। এখানে একটা উদাহরণ সবারই মেনে চলা উচিৎ। তাহলো যতগুলো মানুষ দুনিয়াতে আছে, তাদের প্রত্যেকের শরীরেই রোগ হওয়া স্বাভাবিক। তাই বলে প্রতিজন মানুষকেই ডাক্তার হওয়া জরুরি নয়। সেই ক্ষেত্রে সমাজের মধ্য থেকে কিছু লোক ডাক্তার হলেই তাদের উছিলায় সকলের চিকিৎসা হওয়া সম্ভব। কাজেই কুর’আনের প্রতিটি হরফ বা অক্ষর অথবা শব্দের অর্থ সবাইকে জানা বাধ্যতামূলক বা জরুরী নয়; বরং সমাজের মধ্যে যাতে অর্থ বুঝার মত লোকের সন্ধান থাকে, সেদিকে লক্ষ্য দেয়া অবশ্য সবার জন্যই জরুরী। একটা বিষয় সবার মনে রাখতেই হবে, তাহলো ধর্ম পালনের জন্য যতটুকু আরবি ভাষা আমাদের জন্য জানা এবং  শিক্ষা করা বাধ্যতামূলক বা ফরজ তার বাহিরে যে আরবি ভাষা আছে, তার চেয়ে আমার মায়ের ভাষার গুরুত্ব আমার কাছে সবার থেকে বেশী হওয়াই উচিৎ। কারণ আমার এই ভাষা মহান আল্লহ রব্বুল আলামীন-ই আমার জন্য নির্বাচিত করেছেন। তাই সবারই অপরের ভাষায় শুধুমাত্র মহাপণ্ডিত না হয়ে বরং নিজের ভাষার দিকেও যথেষ্ট জ্ঞান রাখা এবং  সেদিকে লক্ষ্য দেয়া দরকার। যদিও উত্তম বিষয়টি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনই ভাল জানেন, তারপরও এ বিষয়ে আরও অধিক জানার জন্য ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন:

http://en.allexperts.com/q/Islam-947/2010/5/Tajweed.htm   

http://en.allexperts.com/q/Islam-947/2008/7/hafiz.htm    

http://en.allexperts.com/q/Islam-947/2011/1/dream-interpretation-6.htm

 

You may also like...