আল্লহ এবং মোহাম্মদ নাম একই সমানে কোথাও রাখা বা লেখা

73

আমাদের প্রথমেই যে বিষয়টি জানা দরকার, তাহলো মহান আল্লহ রব্বুল আলামীন এবং মহানবী সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মধ্যে পার্থক্যটা কি?  এর একমাত্র উত্তর আসবে হল মহান আল্লহ রব্বুল আলামীন স্রষ্টা আর মহানবী সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সৃষ্টি। তাই স্রষ্টা আর সৃষ্টির মধ্যে পার্থক্য কখনও লিখে বর্ণনা করা সম্ভব নয়। যাহোক আমরা একমাত্র মহান আল্লহ রব্বুল আলামীন কে প্রভু হিসাবে স্বীকার করি, আর হযরত মোহাম্মদ সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের রসুল। এই সুবাদে আমরা অনেক সময় উভয়ের মধ্যে পার্থক্য না বুঝে উভয়ের প্রতি আমাদের পূর্ণ মহব্বত ও ভালবাসার নিদর্শন স্বরূপ তাঁদের নাম পাশা–পাশী রাখি। এটা কৌশলগত শিরক এবং একপ্রকার বিশাল গুনাহের কাজ।

মসজিদকে আমাদের পবিত্র যায়গা তথা ইবাদতের স্থান মনে করে সেখানেই হয়তো দরজার সামনে অথবা মিহরাবের দুই পার্শে আল্লাহু এবং মোহাম্মদ নাম সম-উচ্চতায় রাখি। বর্তমানে আবার টাইলসের মধ্যেই এই ধরণের লিখা পাওয়া যায়, যা মসজিদের সোভা বর্ধনের জন্য ব্যবহার করা হয়। একটু লক্ষ্য করে দেখবেন কি যে হেরেম শরীফ, বায়তুল মোকাদ্দাস, বায়তুল মোকাররম, কাকরাইল সহ দেশের বৃহত্তম মসজিদগুলোর কোথাও এই ধরনের অঙ্কন আছে কি-না?  যে সকল মসজিদে জ্ঞানী আলেম আছে, সেখানে কখনো এই ধরনের শিরকী পূর্ণ কাজ হতে পারেনা। শিরক কখনও ঢাক-ঢোল পিটিয়ে অথবা খুব বিশাল অনুষ্ঠান করে আমাদের মধ্যে প্রবেশ করে না, বরং তা সু–কৌশলে শয়তানের প্ররোচনায় আমাদের মধ্যে প্রবেশ করে।

কোর’আন থেকে শুরু করে পৃথিবীর কোথাও আল্লহ এবং মোহাম্মদ নাম পাশা-পাশী লেখা নেই। কালেমার বেলায় লক্ষ্য করুন: প্রথমে বলা হচ্ছে যে, আল্লহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই, পরে বলা হচ্ছে “মোহাম্মদ সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লহর রসুলআপনার কোথাও কি দেখেছেন আল্লহ এবং রসুল একসাথে লেখা?  এই দুইটি নাম যেখানে আছে, সেখানই লেখা আছে আল্লহ এবং তাঁর রসুল। উদাহরণটা এই ভাবে দেয়া যায়, আপনাকে যদি দায়িত্ব দেয়া হয় যে, আজ রাত্রে এই ডাকবাংলায় রাষ্ট্রপতি থাকবেন এবং তার সাথে একজন সেবকও থাকবে। সেমতাবস্থায় আপনি কি রাষ্ট্রপতি আর সেবকের জন্য একই মানের বা পাশা-পাশী বিছানার ব্যবস্থা করবেন, না কি সেবকের জন্য নিকটেই কোথাও আলাদাভাবে বিছানার ব্যবস্থা করবেন?  নিশ্চয়ই আপনার উত্তর হবে “অসম্ভব, একসাথে রাখা যাবে না”। সাধারণত দুনিয়ার একজন প্রেসিডেন্টয়ের সাথে যদি একজন সেবক থাকার অনুমতি না পায়, তাহলে একজন স্রষ্টার সাথে এবং সম উচ্চতায় কিভাবে তাঁর সৃষ্টিকে রাখেন?  আল্লহ রব্বুল আলামীনের রোষ থেকে বাচতে চাইলে সকল মসজিদ থেকে পাশা-পাশী আল্লহ এবং মোহাম্মদ লেখা টাইলস গুলো খুলে ফেলুন।

কোন বিষয়ে সঠিক তথ্য না জেনে শুধুমাত্র দেখা-দেখি কোন কিছুতে বেশি ধর্মীয় মহব্বত দেখানো উচিৎ নয়, তাতে হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। অনেক মানুষ আবার কথায় কথায় ব্যবহার করে আল্লহ রসুল, কেউ কেউ বলে থাকেন আল্লহ এবং তার রসুল যদি সাহায্য করেন, কেউ কেউ বলেন, আল্লহ এবং তার রসুলকে সাক্ষী রেখে বলছি, ইত্যাদি কথা গুলো নিঃসন্দেহে শিরক পূর্ণ কথা। কারণ সর্বাবস্থায় মহান মহান আল্লহ রব্বুল আলামীন আমাদের সাথে আছেন, কিন্তু রসুল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনোই থাকেনা। তবে সাহাবি (রা:) দের সময়ে যদি কখনও রসুল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোন বিষয়ে কাউকে জিজ্ঞাসা করতেন, “অমুক বিষয়টা কেন হল তুমি কি তা জান”?  তখন সাহাবি (রা:) গন বলতেন, “ আল্লহ এবং তাঁর রসুলই এই বিষয়ে ভাল জানেন”। সে ক্ষেত্রে রসুল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপস্থিতিতেই বিষয়টি এই ভাবে বুঝানো হত যে, মহান মহান আল্লহ রব্বুল আলামীন তার রসুল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যা কিছু জানিয়ে দিয়েছেন, তার থেকে বেশী কারো জানা সম্ভাবনা। অতএব বর্তমানে রসুল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুপস্থিতিতে আল্লহ এবং রসুলকে একসাথে করে সম্বোধন করা কখনও বৈধ নয়। যদিও উত্তম বিষয়টি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনই ভাল জানেন, তারপরও এ বিষয়ে আরও অধিক জানার জন্য ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন:

http://www.islamqa.com/en/ref/178/name

 

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *