ইবাদত বিহীন মুসলমানকে যাকাত প্রদান করা

রসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা করেছেন যে, “তোমরা এক মুসলমান অপর মুসলমানের ভাই”। সে আলোকে পৃথিবীর সকল মুসলমান একই পরিবারের সদস্য এবং একই বন্ধনে আবদ্ধ। মু’মিন হওয়ার পর একজন মুসলমানের সব থেকে প্রথম এবং গুরুত্ব পূর্ণ ইবাদত হল নামাজ। সুতরাং যে ব্যক্তি নামাজ পড়েনা, সে মুসলমানের তালিকাবদ্ধ থাকতে পারেনা। কারণ: রসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “কাফির এবং মু’মিনের মধ্য একমাত্র বাহ্যিক পার্থক্য হল নামাজ”। কাজেই যে ব্যক্তি নামাজই পড়েনা, সে আবার রসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বানী অনুসারে মুসলমানের মধ্যে তালিকাবদ্ধ থাকে কিভাবে?  রসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং আমিরুল মু’মেনিনদের যুগে এই বিধান ছিল যে, কাফির-মুশরিকদের নিকট থেকে জিজিয়া এবং খারাজ আদায় করে তাদের হেফাজত কর, আর যারা মুরতাদ তাদেরকে হত্যা কর”। সে আলোকে বে-নামাজী মুসলমানের থেকে মুশরিক-কাফির-গন এক গ্রেড উপরেই আছে। উদাহরণস্বরূপ: আবু বকর সিদ্দিক (রা:)এর খিলাফতের সময় কিছু মুসলমান যাকাত দিতে অস্বীকার করায় তিনি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঘোষণা করেছিলেন।

কাজেই যে সকল নাম-ধারী মুসলমান নামাজই পড়েনা, তারা কখনই ইসলামের বিধানের গুরুত্বপূর্ণ সাহায্য তথা যাকাত পেতে পারেনা। সাধারণ ভাষায় একটা প্রবাদ আছে, কিছু লোক আছে, যারা ‘ছিন্নি দেখলে আগায়, আর মোল্লা দেখলে পিছায়’, এই সকল যাকাত গ্রহণকারী মুসলমান হল সে দলের লোকজন। সামগ্রিকভাবে বে-নামাজি মুসলমান ইসলামের সুবিধা যতগুলো আছে, তার সবগুলো পেতে চায়, তবে ইসলামের কিছুটা কষ্টকর কোন আমলই করতে রাজি নয়। কথা থাকে যে, যাকাত দাতাও যদি বে-নামাজী হয়, তাহলে তো সেখানে ইসলামের কোন বিধানই প্রযোজ্য নয়। সেক্ষেত্রে “যেমন শশুর বাড়ি, তেমন অজুর পানি”। তাই কিছুটা যাকাত দান করলে যদি সমাজে যাকাত দাতা হিসাবে নাম-ধাম হয়, তাহলে দোষের কি?  আর যারা নামাজি যাকাত-দাতা, তাদের জন্য অবশ্যই নামাজি মুসলমান ছাড়া নামধারী বেনামাজি বা শুধুমাত্র ঈদের নামাজ পড়া আর গরু খাওয়া মুসলমানকে যাকাত দান করা উচিৎ নয়।

প্রতিজন নেসাব পরিমাণ মালের অধিকারী ব্যক্তিদের জন্যই যাকাত আদায় করা ফরজ। নেসাব পরিমাণ সম্পদ হল ৭.৫ ভরি স্বর্ণ বা ৫২ ভরি রৌপ্যের মূল্যের সমমান। নিত্য ব্যবহার্য সকল সামগ্রী বাদ দিয়ে যা থাকবে, তার সকল মূল্যই একসাথে যোগ করে দেখতে হবে যে, নেসাব পরিমাণ স্বর্ণ বা রৌপ্যের সমমূল্য হয়েছে কি-না। হয়ে থাকলেই যাকাত তার উপর ফরজ। হাদিসের বর্ণনা মতে রমজান মাসে যে কোন নেক কাজ ৭০ গুনে বৃদ্ধি পায়। তাই প্রত্যেক যাকাত দান কারীরই কমপক্ষে রমজান মাসের যে কোন একটি দিনকে চিহ্নিত করে প্রতি বৎসরই সে দিনে যাকাত দানের যোগ্য সকল সম্পদের হিসাব করে যাকাতের অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করা উত্তম বিষয়। মালিকানা ভুক্ত সম্পদের যাকাতের পরিমাণ হল ৪০ ভাগের ১ ভাগ। কৃত্রিম উপায়ে (সার, বিষ, সেচ ইত্যাদি সহযোগিতায়) আবাদ-কৃত ফসলের ওশর ২০ ভাগের ১ ভাগ এবং প্রাকৃতিক সহযোগিতায় উৎপাদিত ফসলের ওশর ১০ ভাগের ১ ভাগ হারে প্রদান করা বাধ্যতামূলক। আমরা কি উল্লিখিত নিয়মে যাকাত প্রদান করি?  যদিও উত্তম বিষয়টি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনই ভাল জানেন, তারপরও এ বিষয়ে আরও অধিক জানার জন্য ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন:

http://www.islamqa.com/en/ref/44738/bid’ah

http://www.islam-qa.com/en/ref/43162/social

 

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *