ইসলাম ধর্মে বংশীয় বা বর্ণীয় ব্যবধান করা

74

বংশ এবং বর্ণের জন্য মানুষের মধ্যে পার্থক্য হওয়ার কোন সুযোগ ইসলামে নেই। ইসলামে মর্যাদা বৃদ্ধি বা কমতি হয় তাকওয়া বা আল্লহ ভীতির উপর ভিত্তি করে। তাই যদি না হত তাহলে চেহারার কারণে প্রথমেই ইসলাম থেকে বাদ পরতেন হযরত বিল্লাল (রা:)। অথচ রসুল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিরাজে গিয়েও বিল্লাল (রা:)এর খড়মের আওয়াজ শুনতে পেয়েছিলেন।

বর্তমানে আমরা নামের শেষে যে উপাধি দেখতে পাই, তার রহস্য না জানা থাকার কারণে অনেকের কাছে নিজের বংশের খুব গর্ব করতে দেখা যায়। এই উপাধি সমূহ আমাদের পূর্ব পুরুষ-গন আদি অবস্থায় থেকে নিয়ে আসেনি। ইতিহাসের তথ্যানুসারে বাংলার সুলতান শের শাহ যখন ক্ষমতায় ছিলেন তখন তার রাজ্যের কর বা খাজনা উঠানো থেকে শুরু করে বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের জন্য বিভিন্ন উপাধি দিয়েছিলেন। সম্রাট আলমগিরের সময় পর্যন্তও কিছু নতুন উপাধি সংযোজনা করা হয়। পরবর্তী পর্যায়ে আমরা যারা তাদের সন্তান, তারা সে উপাধি নিয়েই অহংকারে ব্যস্ত আছি। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে, বর্তমান সময়ের চৌকিদার, দফাদার, তহশিলদার, নায়েব, মেম্বার, চেয়ারম্যান যেমন সরকারের দেয় একপ্রকার দায়িত্ব প্রাপ্ত উপাধি। আর বর্তমানে আমরা নামের পরে যে সকল উপাধি ব্যবহার করি, যেমনঃ চৌধুরী, পাটোয়ারী, মুকাদ্দম, খান, মণ্ডল ইত্যাদি সেগুলোও ছিল তদানীন্তন সময়ের জন্য বিভিন্ন রাজ-রাজাদের দেয় উপাধি। আর এই উপাধিগুলো কেবল ভারত উপ মহাদেশেই সীমাবদ্ধ। যারা উচ্চ শ্রেণীর ইতিহাস পড়েছেন, তারা প্রত্যেকেই বিষয় গুলো ভাল করেই জানেন (কৌতূহলী ব্যক্তি-গন ইতিহাসের অধ্যাপকদের কাছে জিজ্ঞাসা করতে পারেন)। যার কারণে আমরা আরব দেশ সমূহের কারো নামের পিছনে এই ধরনের কোন প্রকার উপাধি সংযোজনা দেখতে পাই না। রসুল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এক বংশের নাম ছিল কুরাইশ বংশ। কুরাইশ ছিল তার পিতৃ বংশের একজনের নাম। যেমনঃ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মুত্তালিব, বিন কুরাইশ বিন হাশেম। তাহলে আমরা যে বংশীয় মর্যাদা নিয়ে এত অহংকার করি, সেই নামে কি আমাদের পিতৃ বংশের কেউ ছিল?  অবশ্যই-না! তাহলে আমাদের এত অহংকার কেন?

মুসলমানদের মধ্যে বর্ণ বলতে বুঝায় সিয়া-সুন্নিকে। বর্ণের বাহাদুরি দেখা যায় হিন্দু ধর্মে। তাদের এক বর্ণের ছেলের সাথে অন্য বর্ণের মেয়ের বিবাহ হওয়ার নিয়ম হিন্দু ধর্মীয় শাস্ত্রে নেই। নিম্ন বর্ণের লোকেরা উচ্চ বর্ণের লোকদের বাড়িতেও ঢুকতে পারেনা। সেক্ষেত্রে উচ্চ বর্ণের লোকদের জাতের মর্যাদা নষ্ট হয়ে যায়। যদিও ইন্দিরা গান্ধী ভারতের প্রধান মন্ত্রী থাকা অবস্থায় বেশ কিছু নিয়ম রাষ্ট্রীয় ভাবে পরিবর্তন করে গেছেন, যার বরাতে এখন কিছু বিয়ে-শাদি বর্ণের ভেদাভেদের বাহিরেও সম্পন্ন হচ্ছে। হিন্দুদের বর্ণ ভেদাভেদ দেখা-দেখি মুসলমানদের মধ্যেও বংশের ভেদাভেদ নিয়ে অনেক গর্ব করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে অন্যের বংশের উপাধি তুলে বকা-ঝকা করতেও দ্বিধা করে না। মনে রাখা উচিৎ যে, আমাদের উপ মহাদেশে আরবদের মত কোন বংশের উপস্থিতি বিদ্যমান নেই। কারণ: আমাদের পূর্ব পুরুষ-গনের মধ্যে বর্ণের ভেদাভেদ বিদ্যমান ছিল, কাজেই তাদের অনুকরণস্বরূপ আমাদের বর্ণের যায়গায় বংশের বাহাদুরি করাটাই স্বাভাবিক; যদি আমরা পূর্ব পুরুষদেরকে অনুকরণ করার ইচ্ছা করি। কিন্তু যেহেতু আমরা আমাদের পূর্ব পুরুষদের মুশরিকি বা কুফরি থেকে মু’মিন হয়েছি, তাই তাদেরকে অনুসরণ করা উচিৎ নয়। যদিও উত্তম বিষয়টি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনই ভাল জানেন, তারপরও এ বিষয়ে আরও অধিক জানার জন্য ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন:

http://www.islam-qa.com/en/ref/2294/relative

http://www.islam-qa.com/en/ref/85108 

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *