ঈদের নামাজে ইমামের সাথে মুসুল্লি-গনেরও তাকবীর বলা

123

ঈদের নামাজের জন্য খুতবা একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জুমুয়ার নামাজ আর ঈদের নামাজের খুতবা শ্রবণ করা মুত্তাকীদের জন্যে ওয়াজিব। তবে পার্থক্য হল জুমুয়ার নামাজের খুতবা হয় নামাজের পূর্বে, আর ঈদের নামাজের খুতবা হয় নামাজের পরে। ঈদের নামাজের খুতবা প্রদানের সময় ইমাম সাহেবকে অনেক বার আল্ল-হু আকবার আল্ল-হু আকবার ……বলে তাকবীর দিতে হয়। আর খুতবার মত এই তাকবীর শ্রবণ করাও প্রতিজন নামাজি ব্যক্তির জন্যে ওয়াজিব। কিন্তু সরজমিনে দেখা যায় যে, যখন ইমাম সাহেব তাকবীর দেয়া শুরু করে, তখন সমস্বরে সকল মুসুল্লি-গনও ইমাম সাহেবের সাথে সাথেই তাকবীর দেয়া শুরু করে। সব থেকে বড় কথা হল ইমাম সাহেবের সাথে সকল মুক্তাদিদের তাকবীর দেয়া লাগবে কি লাগবে না, তাই অনেক ইমাম সাহেবের জানা নেই। যার ফলে তাঁরা বছরের পর বছর ঈদের নামাজ পড়িয়ে যাচ্ছেন এবং মুক্তাদি-গনও তাঁর পিছনে নামাজ পড়ে যাচ্ছে, কিন্তু তিনি এই ব্যাপারে কোন নিষেধই করছেন না। এর জন্য সব থেকে বড় দায়ী হল ইমাম সাহেবদের মাওলানা উপাধির আত্মহংকার। যেহেতু তাঁরা সার্টিফিকেট পেয়ে মাওলানা উপাধি পেয়ে গেছেন, কাজেই তাঁরা আর অধ্যয়নের প্রয়োজন মনে করছেন না। মনে রাখতে হবে, মহান আল্লহ রব্বুল আলামীন এর প্রথম আদেশ হল ‘পড়’, আর এই পড়ার কোন বিকল্প নেই। অতএব মোট কথা হল, কোন অবস্থায়ই ইমাম সাহেবের সাথে সাথে তাকবীর না দিয়ে বরং এমতাবস্থায় নীরবে সেই খুতবা শ্রবণ করতে হবে।

যারা সিজনাল বা শুধুমাত্র ঈদের দিনের নামাজী, তারা কোন অবস্থায়ই ঈদের দুই রাকাত নামাজ শেষ হওয়ার পরে আর জায়নামাজে বসে থাকতে চায় না। মনে হয় ঈদগাহের নামাজ-তো নয়, তারা হটাত করে কোন খাঁচায় বন্দি হয়ে গেছে। যার কারণ বন্দি খাঁচার পাখির মতই ঈদগাহ ত্যাগ করার জন্য ছট-পট করে। কাজেই তারা আর ইমাম সাহেবের বক্তৃতা বা খুতবা শুনার প্রয়োজন মনে করে না। তাদের দেখা দেখি কিছু সাধারণ নামাজিও খুতবা না শুনেই ঈদগাহ ত্যাগ করতে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছে। তাই সবার জন্য পরামর্শ হল, আপনি নিজে ঈদের খুতবা শ্রবণ করুন এবং যারা খুতবা না শুনেই চলে যায়, তাদেরকে বুঝান যে, খুতবা শেষ না হওয়ার পূর্বে ঈদের নামাজ শেষ হয় না, কারণ ঈদের নামাজ আদায় করা যেমন ওয়াজিব, নামাজ শেষে খুতবা শ্রবণও একইরূপ ওয়াজিব। যদিও উত্তম বিষয়টি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনই ভাল জানেন, তারপরও এ বিষয়ে আরও অধিক জানার জন্য ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন:

http://www.islam-qa.com/en/ref/127851/eid

http://www.islam-qa.com/en/ref/3247/takbir

 

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *