উকিল বাপ, ধর্ম বাপ, দিদা, দাদু, নানু সম্পর্ক ব্যবহার করা

72

উকিল বাপ শব্দ তথা উকিল বাপ সম্পর্কটা বাংলাদেশের জন্য তৈরিকৃত একটি শব্দ, যার কোন অস্তিত্ব ইসলামে নেই। ইসলামে পবিত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার জন্য দুই জন পুরুষ অথবা একজন পুরুষ ও দুই জন মহিলা সাক্ষী হওয়া বাধ্যতামূলক। এই সাক্ষী মণ্ডলীর একজনকে বলে উকিল। যদি সাক্ষী ব্যক্তি-গনই উকিল বাপ হয়, তাহলে দুইজন সাক্ষীই কি উকিল বাপ হচ্ছে না?  বাপ কি রাস্তা-ঘাটে খুঁজে পাওয়া যায় না-কি?  উকিল সম্পর্কের লোকদের সাথে দেখা করাই যেখানে মুসলমান মহিলাদের জন্য হারাম, সেখানে শুধুমাত্র উকিল বাপই নয় উকিল বাপের সকল আত্মীয়-স্বজনের সাথে যেভাবে রক্তের সম্পর্কের মত আচরণ করা হয়, তা যে কতটুকু নিষিদ্ধ তা আর বলার অবকাশ রাখে না।

বাপ দুনিয়াতে একটাই, যার ঔরসে মানুষ জন্ম নিয়ে থাকে। এই ছাড়া আরও এক প্রকার বাপ আছে যা ইসলামে বাপের মতই সর্বাবস্থায় হারাম। তাহলো দুধ পিতা অর্থাৎ কোন শিশু যদি অন্য কোন মহিলার দুধ পান করে, তাহলে সে মহিলার স্বামী উল্লেখিত শিশুর দুধ পিতা। বাপের সাথে তার কোন আচরণেরই পার্থক্য থাকবে না। বর্তমানে বাজারে শিশু খাদ্য পর্যাপ্ত থাকায় এই দুধ পিতার কোন অস্তিত্ব নেই। বৈবাহিক সম্পর্কের মাধ্যমে আর এক প্রকার পিতার সম্পর্কের সৃষ্টি হয়, তাহলো শশুর। শশুর স্বামীর পিতা হওয়ার কারণে তার সাথে স্থায়ী ভাবে চিরতরে বিবাহ হারাম। স্বামী যদি কখনো তার স্ত্রীকে তালাকও দিয়ে দেয়, তাহলে স্বামীর সাথে আর দেখা করা যাবে না ঠিকই, কিন্তু সেই শশুর সেমতাবস্থায়ও হারামই থেকে যাবে; অর্থাৎ তার সাথে পিতার মত সর্বাবস্থায় দেখা দেয়া যাবে।

ধর্ম পিতার কোন স্থান ইসলামে নেই। অনেকে ধর্ম পিতাকে নিজের পিতার যায়গায় বানিয়ে তার সাথে তথা তার সকল আত্মীয় –স্বজনের সাথে নিজের রক্তের সম্পর্কের আত্মীয়দের মত দেখা-সাক্ষাৎ বা আচরণ করতে থাকে, যা ইসলামে হারাম। কারণ: ধর্ম পিতা সর্বাবস্থায় পর পুরুষ। একই ভাবে ধর্ম মা, ধর্ম ভাই, ধর্ম বোন ইত্যাদি বানানো সম্পর্কের কোন অনুমোদন ইসলামে নেই। ইসলামে সকল মুমিন পুরুষ ও মহিলাই ভাই-বোন সম্পর্কের। তাই বলে তাদের সকলের সাথে দেখা দেওয়া জায়েজ নেই। যাদের সাথে বিবাহ স্থায়ীভাবে হারাম, তাদের সাথেই কেবল সকল অবস্থায় দেখা দেয়া জায়েজ।

আঞ্চলিক ভিত্তিতে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় আরও এক ধরনের বাপের তথ্য পাওয়া যায়, তাহলো বড়/ছোট আব্বা/বাপ। চাচাদেরকে এই ধরনের শব্দে ডাকা হয়। হিন্দু ধর্মে বাপের বড় ভাইকে বলে ‘জেঠা’ আর ছোট ভাইকে বলে ‘খুড়ো’। মুসলমান ধর্মে চাচাদের মধ্যে ডাকের বেলায় কোন পার্থক্য নেই, তবে যিনি বড় তিনি বড় চাচা; আর যিনি ছোট তিনি ছোট চাচা হিসাবে সম্বোধিত হয়। সেখানে বড় চাচাকে বড় আব্বা, আর ছোট চাচাকে ছোট আব্বা বলে ডাকার কোন ব্যবস্থাপনা ইসলামে নেই। কারণ: আব্বা কখনো চাচা হয় না, আর চাচা কখনো আব্বা হয় না। তদ্রূপ আম্মা সর্বদাই আম্মা। পিতার যদি একাধিক স্ত্রী থাকে, তাহলে অবশ্যই তাঁদেরকে শ্রেণী মোতাবেক বড় আম্মা, ছোট আম্মা বলে ডাকতে হবে। সেখানে খালা আম্মা, চাচী আম্মা, চাচীদেরকে বড় আম্মা, ছোট আম্মা, ফুপু আম্মা, মাওই আম্মা ইত্যাদি ডাকের কোন অবস্থান ইসলামে নেই। এই সকল প্রশ্ন আন্তর্জাতিক ফতোয়া বিভাগকে বুঝানোই যায় না। তাঁদের কাছে এই ধরনের প্রশ্ন করলে তাঁরা মনে করেন যে, এই প্রথম কোন নতুন প্রশ্ন শুনল, যে বিষয়ের কোন অস্তিত্ব ইসলামী কিতাবে নেই, তাহলে তাঁরা উত্তর দেয়ার সূত্র পাবে কোত্থেকে?

বাংলা ভাষায় দাদা-নানা হল পুরুষ বাচক শব্দ, আর দাদী-নানী হল স্ত্রী বাচক শব্দ। আর দাদু-নানু হল তার মধ্যবর্তী একটি শব্দ। দাদু নানু বলতে ছেলে- মেয়ে কোনটাই বুঝায় না। তবে নানা-নানী তার নাতী-নাতনীকে স্নেহ করে নানু বলে ডাকবে এবং দাদা-দাদী তাদের নাতী–নাতনীকে দাদু বলে ডাকবে এতে কোন সমস্যা নেই। কারণ: নাতী-নাতনীদেরকে নাম ধরে ডাকা যায়, কিন্তু কখনো কখনো তাঁরা নাম ধরে না ডেকে বরং একটু স্নেহ করে ছেলে–মেয়ে নির্বিশেষে নানু/দাদু বলে ডাকে, আর এটাই সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। এমতাবস্থায় তাঁরা নাতী-নাতনীদেরকে মধ্যবর্তী লিঙ্গ জনিত স্নেহের একটি সম্বোধন দাদু নানু বলে ডাকাতে কোন দোষ নেই। উদাহরণস্বরূপ: আমি আমার নাতিকে একটু আদরের স্বরে নেংটু বলে ডাকি। তাই বলে সে কি সব সময় নেংটু হিসাবেই থাকবে?  কখনই না। কথা বলা শিখলেই-তো উলটো আমাকেই বলবে, ”আমি কি এখনো নেংটা আছি?  তাহলে আমাকে নেংটু বলেন কেন”?  যাহোক নাতী-নাতনী হয়ে কোন নানা-নানী বা দাদা- দাদীকে কি নাম ধরে ডাকা যায়?  তাহলে তাদেরকে ব্যাকরণ বহির্ভূত সম্বোধন নানু বা দাদু বলে ডাকা যাবে কিভাবে?  যেখানে তাঁদের জন্য পুরুষ বা স্ত্রী বাচক শব্দ সম্বোধনের জন্য নির্ধারিত আছে, সেখানে কি তাদের সে লিঙ্গ জনিত সম্বোধনকে পরিবর্তন করা উচিৎ?

আবার বর্তমানে কিছু মা-দাদীরা তাদের সন্তানদেরকে দাদীকে দিদা বলতে শেখায়। অবশ্য এই ধরনের পরিবর্তনে কিছু লোকের জন্য তেমন কোন সমস্যা নেই, কারণ: যেখানের মহিলারা প্যান্ট-শার্ট বা গেঞ্জি ব্যবহার করা শুরু করে দিয়েছে, সে সাথেই তাল মিলিয়ে পুরুষরাও সালোয়ার পাঞ্জাবী ও ওড়না পরা শুরু করে দিয়েছে। অথচ পুরুষদের জন্য মহিলাদের আর মহিলাদের জন্য পুরুষদের পোশাক পরা হারাম। সে আলোকে দাদীকে দিদা বললেই আর দোষের কি?  আসলে জান্নাত–জাহান্নাম বলে তাদের কোন চিন্তাই নেই। কাজেই এই গুলোর দিকে দৃষ্টি দেয়ার মত সময় কোথায়?  যদিও উত্তম বিষয়টি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনই ভাল জানেন, তারপরও এ বিষয়ে আরও অধিক জানার জন্য ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন:

http://www.islam-qa.com/en/ref/137095/mahram 

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *