ওরস পালন করা বা মাজার পূজা করা

67

ওরস অর্থই কারো মৃত্যু দিবসকে বাৎসরিক ভাবে ঘটা করে পালন করা। আমাদের দেশে সাধারণত পীর, পাগলা, বাবা, ফকির উপাধি ধারি ব্যক্তি-গণের মৃত্যু দিবসকে তাদের জীবিত কালীন কিছু অনুসারী-দের সমন্বয়ে গঠিত রম-রমা ভাবে পালিত উৎসবকেই ওরস বলে। প্রায় অনুসারী-গণই নামাজ-কালামের ধারে-কাছে না থাকলেও তাদের ধারনা যে, যার নামে তারা ওরস করছে, তিনি যদি খুশি থাকেন, তাহলে আর পর-কালীন মুক্তির জন্য কোন প্রকার অসুবিধা নেই। কারণ যার উদ্দেশ্যে ওরস করা হচ্ছে, সে ব্যক্তির দ্বারাই তাঁর সকল অনুসারীদের জন্য মুক্তির ব্যবস্থা করা সম্ভব (নাউজুবিল্লাহ)।

আসলে ওরস মানে কিছু ভণ্ড লোকদের সমন্বয়ে গাজা, ভাং এবং অন্যান্য অবৈধ নেশাযুক্ত সামগ্রী সরকারের পুলিশ বাহিনীর উপস্থিতিতে বৈধ ভাবে খেয়ে ফকিরান্তি বা সে দরবার সংক্রান্ত বিভিন্ন দলীয় সংগীত পরিবেশন এবং মাতলামি সহ বাস্তব ভণ্ডামির একটা বহিঃপ্রকাশ মাত্র। ইসলামে এর কোন অস্তিত্ব নেই। স্মরণ করা উচিৎ যে, যদি কারো ওরস ইসলামে জায়েজ থাকত, তাহলে সর্ব প্রথমে রসুল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওরসের ব্যবস্থা করা হত। অথচ রসুল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “তোমারা আমার কবরকে সিজদার স্থানে পরিণত ক’রো না, কারণ তোমাদের পূর্ববর্তীদের ধ্বংস হওয়ার কারণ ছিল তাদের নবীদের কবরকে সিজদার স্থানে রূপান্তর করা”। যার কারণে ওরসের নামে কবর পূজা সরাসরি শিরকী গুনাহ। বাংলাদেশের মানুষগণ হজ্জ করতে যেয়ে দেশে প্রচলিত কবর পূজার অনুসরণে রসুল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রওজাকে পূজা শুরু করা মাত্রই সৌদি পুলিশগণ সে ব্যক্তির ঘাড় ধরে টেনে তুলে বলেন যে, “এখানে চাওয়ার কিছু নেই, আল্লহর কাছে চাও”। সে সাথে সৌদি আরবের মানুষ জানে যে, বাংলাদেশের মানুষ জানা-অজানা অবস্থায় অনেক প্রকার শিরকী ও কুফরি আমলের সাথে জড়িত। যার কারণে তাদের দেশের মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক বাংলাদেশী ছাত্র শিক্ষা সমাপন করার পর তাদের দেশের অর্থেই চাকুরী দিয়ে আবার বাংলাদেশে পাঠিয়ে থাকেন আমাদের দেশের শিরক-কুফর আমল কারীদের সে পথ থেকে ফেরানোর জন্য। এখনও বাংলাদেশে এরূপ অনেক ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠান নিয়মিত রূপে সৌদি আরব থেকে বেতন-ভাতা পেয়ে যাচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন হল তারা এত চেষ্টার পরেও কি বাংলাদেশ থেকে এরূপ পরোক্ষ শিরকী বন্ধ করতে পেরেছে?  মোটেও না, কারণ কুকুরের লেজ ঘি দিয়ে মালিশ করলে কখনও সোজা হয় না। আমাদের দেশের জনগণেরও হয়েছে সে দশা।

আমি বলছিনা যে বাংলাদেশের সকল পীরই শরিয়তের গণ্ডির বাহিরে। মোট কথা হল আমাদের দেশের প্রায় ৯৫% পীরই ভণ্ড পীর, যার বিভিন্ন প্রমাণ আমরা মাঝে মধ্যেই দৈনিক কাগজ সমূহে দেখতে পাই। ভাবতে হবে যে হজরত বড়পীর (র:) ৩৬০ জন অনুসারী সহ সর্ব প্রথম বাংলাদেশে এসেছিলেন। এই ছাড়াও আরও বেশ কিছু কয়েকজন খ্যাতিমান পীর আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে মুসলমান হতে অনুপ্রাণিত করে সফল হয়েছেন। তাদের সে ত্যাগ ছিল নিঃসন্দেহে আল্লহর সন্তুষ্টির জন্য। আর বর্তমানে যারা পীর খেতাব নিয়ে একটা স্থানকে নির্ধারিত করে ধর্ম ব্যবসা শুরু করেছেন, তাদের এই ব্যবসা যাতে মৃত্যুর পরেও বংশানুক্রমে স্থায়ী থাকে, তার জন্যই এই ওরসের ব্যবস্থা এবং মানুষের মধ্যে জাগরণের সৃষ্টি।

একটা বিষয় আমাদের মাথায় রাখতে হবে, তাহলো উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে, কারেন্ট আমাদের জন্য বর্তমানে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় একটি মাধ্যম। সে কারেন্টের মধ্যে ১, ৩৩, ০০০ বা ৯৯, ০০০ ভোল্টেজ কারেন্টের লাইন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পরে। তার পর বিভিন্ন মানের ট্রান্সফরমারের মাধ্যমে সর্বশেষে ২২০ ভোল্ট লাইনের মাধ্যমে আমরা সে উচ্চ ভোল্টেজের কারেন্টকে ব্যবহার করে থাকি। আবার আমাদের মধ্যেই কিছু মর্টার জাতীয় যন্ত্র আছে, যেগুলো ২২০ ভোল্টে স্টার্ট হয়না। সেগুলো স্টার্ট করার জন্য ৪৪০ ভোল্ট বা টু ফেইস অথবা থ্রি ফেইস কারেন্টয়ের দরকার পরে। যাই হোক বাসায় ব্যবহারের জন্য কখনও ভুল বশত হলেও ২২০ ভোল্টয়ের যায়গায় ৪৪০ ভোল্ট সংযোগ করার সাথে সাথে ১ সেকেন্ডের মধ্যে গৃহের সকল বৈদ্যুতিক সামগ্রী ধ্বংস হয়ে যাবে। কাজেই কেউ যদি কোন উপযুক্ত ধর্মীয় ব্যক্তির সান্নিধ্যে ছাড়া শুধুমাত্র কুর’আন-হাদিস দেখে বা শিখে মন্তব্য করে যে, এলেম  শিক্ষা এবং আমলের জন্য কুর’আন হাদিসই যথেষ্ট, সেজন্য আলাদা ভাবে কোন শিক্ষকের দরকার নেই, তাহলে সে ব্যক্তির সাথে তুলনা করা যেতে পারে ট্রান্সমিটার ছাড়া বাসার কাজে ৪৪০ ভোল্ট কারেন্ট ব্যবহার কারীর সাথে। অর্থাৎ তার আমলে সর্ব ক্ষেত্রে ভুল হওয়া স্বাভাবিক। আর যে ব্যক্তি ভণ্ড-পীরের সান্নিধ্যে অবস্থান করে, তার সাথে তুলনা করা যায় ফিউজ ট্রান্সমিটার ব্যবহারকারীর সাথে, যার কোন ফল ব্যবহারকারীর দ্বারা কিয়ামত পর্যন্ত পাওয়া সম্ভাবনা।

কাজেই যদি আল্লহর রোষানল থেকে বাঁচতে চান, তাহলে জরুরি ভিত্তিতে মাজার পূজা, ওরস করা এবং ভণ্ড পীরদের সংশ্রব ত্যাগ করে তওবা করুন এবং শরিয়তের সঠিক জ্ঞান সম্পন্ন ব্যক্তির নিকট থেকে সঠিক তথ্য জেনে সে অনুসারে আমল করে আল্লহর নৈকট্য হাসিল করুন। মহান আল্লহ রব্বুল আলামীন সর্বাবস্থায় আমাদের জন্য ক্ষমাশীল। যদিও উত্তম বিষয়টি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনই ভাল জানেন, তারপরও এ বিষয়ে আরও অধিক জানার জন্য ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন:

http://www.islam-qa.com/en/ref/6744/grave

http://www.islamicity.com/qa/action.lasso.asp? -db=services&-lay=Ask&-op=eq&number=4622&-format=detailpop.shtml&-find

http://www.islam-qa.com/en/ref/6744/attend%20in%20islam 

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *