ওয়াক্তিয়া বা পাঞ্জেগানা মসজিদ নামকরণ করা

51

মসজিদ মানেই হল সেজদার স্থান; হোক সেটি স্থায়ী অথবা অস্থায়ী। আর জামে মসজিদ মানেই হল যেখানে জুমু’য়ার নামাজ আদায় করা হয়। রসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “তোমরা প্রতি গোত্রে গোত্রে মসজিদ তৈয়ার কর”। এর পিছনে কারণ ছিল এই যে, মানুষ যখন গোত্রে অথবা মহল্লায় মসজিদ তৈয়ারি করবে, তখন নামাজ আদায় করার জন্য সময় জনিত যে সমস্যা, তা আর হবে না। তখন ফরজ নামাজ মসজিদ ছাড়া কেউই আর বাড়িতে আদায় করবেনা। তাছাড়া মসজিদ নিকটে থাকার কারণে শত ব্যস্ততার মধ্যেও সবাই যথা সময়ে নামাজ পড়া তথা একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সম্পন্ন করতে অভ্যস্ত হয়ে পরবে। যে ব্যক্তি জামায়াতে নামাজ পড়ে, কম পক্ষে সে ব্যক্তি জানে যে, যদি কোন নামাজ যথা সময়ে জামায়াতে আদায় করা না যায়, তাহলে সে নামাজ আদায় করা কত কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। কারণ এই সময় মানুষের চির শত্রু শয়তান একটার পর একটা সমস্যা সামনে এই নে দাড় করায়। শয়তানের মূল ইচ্ছা থাকে যে, যেহেতু তাকে কৌশলে একটা সমস্যা সৃষ্টি করে জামায়াত থেকে বিরত রাখা হয়েছে, তাই সে যাতে আর উল্লিখিত নামাজটাই না পড়তে পারে, সেটাই থাকে শয়তানের মুল পরিকল্পনা। তাই জামায়াতে নামাজ পড়ার সকল ঘরকেই বলা হয় মসজিদ বা সেজদার স্থান। সেক্ষেত্রে পাঞ্জেগানা মসজিদ বা ওয়াক্তিয়া মসজিদ বলতে কোন শব্দ ইসলামে নেই।

নিয়মানুসারে জুমুয়ার নামাজ আদায় করার মসজিদকে বলা হয় জামে মসজিদ। আমরা যেমন প্রায় সকল মসজিদেই জুমুয়ার নামাজ আদায় করি, ইসলাম কিন্তু তা আমাদেরকে শিক্ষা দেয়নি বা সমর্থন করেনি। হাদিসে আছে যে, “রাত্রিতে যে ব্যক্তি পরিবারের কাছে ফিরে যেতে পারবে, তার উপর জুমুয়া অবশ্য কর্তব্য”। পূর্বে এক হাদিসে আমরা জেনেছি যে, প্রতি মহল্লায় মসজিদ তৈরি করার নির্দেশ, আর এই হাদিসে আমরা পাই যে, জুমুয়ার নামাজ দূরে যেয়ে হলেও আদায় করার নির্দেশ। মোট কথা হল একটা জামে মসজিদের এলাকায় অনেকগুলো মসজিদ থাকার কথা। আর সপ্তাহে শুক্রবারে সমস্ত মসজিদের মুসুল্লি একত্রিত হয়ে একটি জামে মসজিদে নামাজ আদায় করবে, এটাই ইসলামের স্বাভাবিক নিয়ম। কারণ: জামে মসজিদ হওয়ার জন্য সর্ত আছে, কিন্তু মসজিদ হওয়ার জন্য কোন সর্ত নেই। জামে মসজিদের সাধারণ সর্তগুলো নিম্নরূপ যথা:

  ১। মসজিদে কমপক্ষে ৪০ জন প্রাপ্ত বয়স্ক মুসুল্লি হাজির থাকতে হবে।

  ২। মসজিদে সবার জন্য মুক্ত প্রবেশাধিকার উন্মুক্ত থাকতে হবে।

  ৩। মুসুল্লিদের মধ্যে কমপক্ষে ৪ জন মুসুল্লি ইমাম হিসাবে নামাজ পড়ানোর মত যোগ্যতা সম্পন্ন হতে হবে।

  ৪। আমিরুল মু’মেনিনের প্রতিনিধি তথা বর্তমান রাষ্ট্রীয় অবস্থা সম্বন্ধে জ্ঞাত, এমন একজন লোককে অবশ্যই সে জামায়াতে হাজির থাকতে হবে; যদিও এই দায়িত্বটি ইমাম সাহেবের আছে বলেই ধরে নেয়া হয়।

আমাদের সমাজে বে-হিসাবি ছড়িয়ে থাকা জামে মসজিদ ইসলাম কখনও সমর্থন করে না। বরং এই গুলো জামে মসজিদ না হয়ে মসজিদ হতে পারে। বাংলাদেশে যতগুলো জামে মসজিদ আছে, তার মধ্যে ইসলামী বিধান তথা ফিকাহের আলোকে শতকরা ৮০ ভাগ মসজিদে জুমুয়ার নামাজ বৈধ নেই। এরূপ প্রশ্ন হতে পারে যে, বিধান বহির্ভূত এত জামে মসজিদ কিভাবে হল?  এটা কি আলেম-গন জানেন না?  উত্তর হল, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ইমাম-গন জানেনই না। যারা জানেন, তাদের কথার গুরুত্ব কেউ দেয় না। কারণ: মসজিদে সভাপতি থেকে শুরু করে নিম্ন পদের দায়িত্ব প্রাপ্ত কোন ব্যক্তিই তো আর আলেম থাকেন না। তাছাড়া ইমামদের চাকুরীর স্বার্থ জনিত একটা ব্যাপার-তো আছেই। কাজেই আপনাদের সকল মুসুল্লিদের জন্য পরামর্শ হল, জুমুয়ার নামাজটা কমপক্ষে একটু সময় করে দূরে যেয়ে হলেও সর্ত সাপেক্ষে যেখানে জুমুয়ার নামাজ নিঃসন্দেহে বৈধ, এরকম একটি মসজিদে আদায় করুন। কারণ: জুমুয়ার নামাজটা গরীবদের জন্য হজ্জ স্বরূপ। যদিও উত্তম বিষয়টি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনই ভাল জানেন, তারপরও এ বিষয়ে আরও অধিক জানার জন্য ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন:

http://www.islam-qa.com/en/ref/7718/Jumu’ah inhttp://en.allexperts.com/q/Islam-947/sunna-salat-jumma.htm 

http://en.allexperts.com/q/Islam-947/Friday-Prayers.htm 

http://www.islamicity.com/qa/action.lasso.asp? -db=services&-lay=Ask&-op=eq&number=4625&-format=detailpop.shtml&-find

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *