ওয়ারিশদের কাউকে সম্পত্তি লিখে দেয়া

75

মানুষ মরে গেলে তার সম্পত্তি দুই প্রকার ব্যক্তির পাওয়ার অধিকার থাকে। (ক) ওয়ারিশ (খ) লা ওয়ারিশ। যাদের সম্বন্ধে পাক কালামে ফরায়েজ হিসাবে ভাগ পাওয়ার কথা লিপিবদ্ধ আছে, তারা হল ওয়ারিশ। আর যারা ফরায়েজের তালিকাভুক্ত নয় কিন্তু অভাবের তাড়নায় সম্পত্তি বণ্টনের সময় হাজির থাকে, তারা হল লা ওয়ারিশ। সম্ভব হলে উদ্বৃত্ত থেকে তাদেরও কিছু দিয়ে দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া আছে। মোট কথা হল মহান আল্লহ রব্বুল আলামীন কোন বিধান বর্ণনা করতে বাদ রাখেননি। তিনি পাক কালামে বর্ণনা করেন, “আর যে সম্পদকে আল্লহ তোমাদের জীবন যাত্রার অবলম্বন করেছেন, তা অর্বাচীনদের হাতে তুলে দিওনা; বরং তা থেকে তাদেরকে খাওয়াও, পড়াও এবং সান্ত্বনার বাণী শোনাও (যে, আমি মৃত্যু বরণ করার পর নিয়মানুসারেই তোমরা সম্পদের মালিক হবে)”। (সূরা নিসা-৫নং আয়াত)

তাই যারা জীবিত থাকতেই তাদের সম্পত্তি কোন ওয়ারিশদেরকে লিখে দেয়, তারা প্রকারান্তরে মহান আল্লহ রব্বুল আলামীন এর নির্দেশেরই বিপরীত করে। তারা মহান আল্লহ রব্বুল আলামীন এর বণ্টন নীতিমালার উপর সন্তুষ্ট না এবং মনে করে যে, সে মরে গেলে হয়তো তার সম্পত্তির সুষ্ঠু বণ্টন হবে না। যে ব্যক্তি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীন এর বিধানের উপর সন্তুষ্ট থাকতে পারেনা, তার যে কি অবস্থা হবে, তা আল্লহ বিশ্বাসী সকল মু’মিন মাত্রই বুঝতে পারা উচিৎ। অপর পক্ষে যদি লা ওয়ারিশ কাউকে সম্পত্তি লিখে দেয়া হয়, তাহলে কোন আপত্তি নেই। তবে সেখানেও সর্ত আছে যে, সে দান মোট সম্পদের এক তৃতীয়াংশের বেশি হতে পারবে না। অতএব মহান আল্লহ রব্বুল আলামীন এর বিধানের উপর ভরসা রেখে আপনাদের জীবিতাবস্থায়ই স্ত্রী-সন্তানদের কাউকে সম্পদ লিখে দেয়া বা দান করা থেকে বিরত থাকুন। কারণ: স্থাবর-অস্থাবর সকল প্রকার সম্পদের মালিকই মহান আল্লহ রব্বুল আলামীন। তিনি আলিমুল গায়েব এবং তিনি ভাল করেই জানেন যে, আপনার সম্পদের পরবর্তী অবস্থা কি হবে। অযথা আল্লহর বিধানের বিপরীতে চলে মহান আল্লহ রব্বুল আলামীন এর নৈকট্য হারাবেন না।

যদি কেউ তার সম্পদ কোন ওয়ারিশকে বা বিশেষ করে স্ত্রীকে ওছিয়ত নামা দলিল করে দান করে, তাহলে সেই দলিল রাষ্ট্রীয় আইনে কোন মূল্যই নেই। আর যদি স্বাভাবিক নিয়মে দলিল করে দেয় বা তার নামে ব্যাংকে এই কাউন্ট করে দেয়, তাহলে যে কাজগুলো হওয়ার সম্ভাবনা আছে, তা নিম্নরূপ:

১) নিজের কর্তৃত্ব হারানো, ২) স্ত্রীর অনুগত হতে বাধ্য হওয়া, ৩) সন্তানদের কাছে মূল্যহীন হওয়া, ৪) নিজের সমস্যায় অন্যদের মুখাপেক্ষী হওয়া, ৫) নিজের ভুল সিদ্ধান্তের জন্য স্থায়ীভাবে মানসিক অশান্তিতে ভোগা, ৬) সকল আত্মীয়-সজনের কাছে করুণার পাত্র হওয়া এবং ৭) সর্বোপরি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনের আদেশকে লঙ্ঘন করে কুফরি গুনায় লিপ্ত হওয়া। এত কিছু জানার পরও যদি কেউ তার কোন ওয়ারিশকে সম্পত্তি লিখে দেয়, তাহলে সেই হিসাব তার নিজেকেই দিতে হবে। সেই ক্ষেত্রে অন্য কারো কোন পরামর্শই কোন কাজ হবে না। যদিও উত্তম বিষয়টি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনই ভাল জানেন, তারপরও এ বিষয়ে আরও অধিক জানার জন্য ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন:

http://www.islamicity.com/qa/action.lasso.asp? -db=services&-lay=Ask&-op=eq&number=4337&-format=detailpop.shtml&-find

http://en.allexperts.com/q/Islam-947/2011/5/property-3.htm 

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *