কওমিকে খারিজী মাদ্রাসা বলাতে অপমান বোধ কর

65

আসলে মাদ্রাসার বেলায় খারিজী শব্দটা অসম্মানের না হয়ে বরং অতি গর্বের। কওমি মাদ্রাসার ছাত্র-গন এই তথ্য না জানার কারণে ক্ষেপে যায়। কারণ: তাদের মনে প্রশ্ন, খারিজের অর্থ হল বাতিল। তাহলে কওমি মাদ্রাসা কি বাতিল মাদ্রাসা?  উত্তর হল- মোটেও না বরং কওমি মাদ্রাসাই হল মৌলিক মাদ্রাসা।

এখন মূল বিষয়টি জানার চেষ্টা করুন। ইংরেজ শাসক গন কর্তৃক ১৯০৩ সালে ওল্ড স্কিম (কওমি+আলিয়ার প্রাথমিক রূপ) মাদ্রাসার পরিবর্তে নিউ স্কিম (প্রাথমিক পর্যায়ের আলিয়ার আধুনিকায়ন রূপ) মাদ্রাসায় পরিবর্তনের জন্য পরিকল্পনা করা হয়। ১৯০৫ সনে সেটি বাস্তবায়ন করা হয়। সে সময়ে সর্ত আরোপ করা হয় যে, যদি কোন মাদ্রাসা নিউ স্কিম পদ্ধতিতে তাদের শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তিত না করে, তাহলে তাদেরকে সকল প্রকার সরকারী সাহায্য- সহযোগিতা থেকে বঞ্চিত করা হবে। তখন যুক্ত বাংলার অনেক আলেমই এটাকে ইসলাম ধর্মের উপর নতুন কৌশল চাপিয়ে ইসলামকে ভিন্ন পথে পরিচালিত করার ছায়া দেখতে পেলেন। সে জন্য তাঁরা মাত্র কয়েকটি মাদ্রাসা মহান আল্লহ রব্বুল আলামীন রব্বুল আলামীনের উপর ভরসা রেখে সরকারী সাহায্য পাওয়ার আশা ত্যাগ করেই ওল্ড স্কিম (মূল) শিক্ষা ব্যবস্থার উপর অটল থাকার পরিকল্পনা করলেন। তখন সরকার এই সকল মাদ্রাসাগুলোকে খারিজী তথা সরকারী সাহায্য থেকে বাতিল হিসাবে ঘোষণা দেয়। হিসাবানুযায়ী ১৯২২ সালে যুক্ত বাংলা মিলে মাত্র ১৯ টি মাদ্রাসা ওল্ড স্কিমের তালিকায় ছিল।

পরবর্তীতে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসলমান-গন যখন দেখতে পেলেন যে সরকারী সাহায্য পুষ্ট আলিয়া মাদ্রাসায় পুরো-পুরি ধর্মের পথে অগ্রসর হতে পারছে না, তখন তারা ব্যক্তিগত সাহায্য-সহযোগিতার মাধ্যমে বহু সংখ্যক কওমি মাদ্রাসা দাড় করালেন এবং এটা উত্তরোত্তর বৃদ্ধিই পেতে থাকলো। দানশীলদের সে সাহায্যর হাত আজও বিদ্যমান আছে। কাজেই আলিয়া মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষক-গন যদি এটাকে খারিজী মাদ্রাসা বলে, তাহলে মোটেও দোষের কিছু নেই কারণ: ব্যাপারটি হল তাদের প্রায় বেশির ভাগই জানে না যে, আলিয়া মাদ্রাসার শুরুতে অর্থাৎ ১৭৮০-১৭৯০ পর্যন্ত এই মাদ্রাসার নামই ছিল শুধু আলিয়া, অন্যান্য সব কিছু যেমন: শিক্ষক, পাঠ্য-সূচি, শিক্ষা ব্যবস্থা ইত্যাদির ১০০% ই ছিল দরসে নিজামিয়া শিক্ষা ব্যবস্থার মত। শিক্ষক ছিলেন মোল্লা মাজদুদ্দিন(মৌলবি মদন), যিনি শাহ ওয়লীউল্লাহ দেহলভী ও মোল্লা নিজামুদ্দিন (দরসে নিজামিয়ার প্রবর্তক) এর শিষ্য ছিলেন। মোট কথা আলিয়া মাদ্রাসার জন্ম পরিচয়টা তারা ভুলে গেছে, যা ছিল তাদের জন্য অতি গর্বের। সেসময় ইংরেজ সরকার কর্তৃক মাদ্রাসার শিক্ষার ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার মত ক্ষমতা ছিলনা। বর্তমানে তারা সরকারের সাহায্যপুষ্ট মানেই হল সরকারী যে কোন প্রাকার সিদ্ধান্ত মেনে নিতে বাধ্য। আর কওমি মাদ্রাসা সরকারী সাহায্য থেকে বঞ্চিত মানেই হল সরকারি বাধ্য-বাধকতা থেকে বঞ্চিত বা খারিজ। তবে সাধারণ জনগণ হিসাবে এটা বলা ঠিক না। আর কওমি মাদ্রাসার জন্য খারিজী শব্দটা এই জন্য গর্বের যে, এই মাদ্রাসার সকল আর্থিক যোগান আল্লহর ইচ্ছায় সাধারণ জনগণের সাহায্যের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে থাকে, যারা সরকার থেকে কোন প্রকার সাহায্য পায় না। সরকারী কোন প্রকার সাহায্য ছাড়াই যে মহান আল্লহ রব্বুল আলামীন যেকোনো উছিলায় লক্ষ লক্ষ মানুষের শিক্ষা এবং উপার্জনের ব্যবস্থা করতে পারেন, কওমি মাদ্রাসা হল তার একটি জাজ্বল্যমান উদাহরণ। যদিও উত্তম বিষয়টি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনই ভাল জানেন, তারপরও এ বিষয়ে আরও অধিক জানার জন্য ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন:

http://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%86%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE_%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%AF%E0%A6%BC

http://www.shobdoneer.com/palash/15626

 

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *