কবরস্থান বাদ দিয়ে নিজের যায়গায় কবর দিতে বলা

12

আমাদের দেশে একটা সংস্কৃতি এখনও সমাজে বিদ্যমান আছে, তাহলো কবরটা নিজের যায়গাতে হলেই ভাল হয়। অনেকে আবার মৃত্যুর পূর্বে তার পরবর্তী ওয়ারিশদেরকে বলে যায় বা ওছিয়ত করে যায় যে, তাকে যেন তার পারিবারিক, পৈতৃক বা নিজস্ব যায়গায় কবর দেয়া হয়। আমরা আইয়ামে জাহেলিয়াতের যুগের দিকে তাকালে দেখতে পাই যে, তাদের বাবা মৃত্যু বরন করলে বাবার স্ত্রী বা নিজের সৎ-মাদেরকে ওয়ারিশ হিসাবে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিত। নিজের বোনকে বিয়ে করত। অর্থাৎ এই গুলো তাদের মধ্যে কোন নিষিদ্ধ ব্যাপার ছিল না। অথচ সে সময়ও জান্নাতুল বাকীর মত আরও অনেক কবরস্থান ছিল। তাহলে আমরা রসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের  উম্মত হয়ে কিভাবে যেখানে সেখানে কবর দেয়ার জন্য আমাদের ওয়ারিশদেরকে ওছিয়ত করে যাই?  ভারত উপ-মহাদেশের আমাদের পূর্বপুরুষ-গন মরে গেলে তাকে পোড়ানোর জন্য নির্ধারিত যায়গা ছিল ‘চিতা-খোলা’, যার অবস্থান হত অবশ্যই কোন জংগলাকীর্ণ স্থান বা অব্যবহৃত যায়গা, কথিত-রূপে যেখানে ছিল ভুতের আড্ডাখানা, যা এখনও হিন্দু ধর্মে বিদ্যমান আছে। আমরা কি সে অনুসারে এখনও আমাদের নিজস্ব যায়গায় তথা বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে কোন বাঁশ ঝাড় বা জংগলাকীর্ণ স্থানকে আমাদের কবরের জন্য নির্ধারিত করতে চাই, যেখানে থাকবে শিয়াল-বেজীর অবস্থান এবং মানুষের পায়খানার যায়গা?  অনেকে আবার নিজেদের যায়গায় কবর দেয়ার কারণ সেই ব্যক্তির কবরকে অধিক হেফাজত করার উদ্দেশ্যে পাকা করা এবং তার মধ্যে নাম লিখে জন্ম-মৃত্যু ইত্যাদি তথ্য লেখা। অথচ ইসলামী বিধানে এই বিষয়কে হারাম ঘোষনা করা হয়েছে।

দুর্ভাগ্য আমাদের জাতির জন্য, যাদের সুন্নত তো পরেই থাকুক, তারা নিজস্ব বর্তমান স্বার্থ ছাড়া ভবিষ্যতের ভাল-মন্দও বুঝে না। ভাল করে আমাদের স্মরণ রাখা উচিৎ যে, যে যায়গাতে আমাদের সন্তান আমাদেরকে কবর দিবে, সে যায়গা সর্বোচ্চ আমাদের তিন পুরুষ তথা ১০০ বৎসর বলবত থাকতে পারে, তার চেয়ে বেশি মোটেও নয়। তার পর হয়তো সে যায়গা বিক্রি হবে, নয়তো আমাদের বংশের লোকজনই সেখানে বাড়ি তৈয়ার করবে। এটাই ইতিহাস কর্তৃক সাক্ষ্য হিসাবে বর্তমান সমাজে বিদ্যমান। একজন মানুষ মৃত্যু বরন করলে তাকে গোরস্থানে কবর দিতে হবে, এটাই হল ইসলাম ধর্মের মূল আদর্শ। কারণ গোরস্থানে নিয়মিত মানুষের কবর হতে থাকে এবং দোয়া, দরুদ, কুল-কালাম বা কবর জিয়ারত চলতেই থাকে। সেখানে আল্লহর কতক প্রিয় বান্দার উছিলায় বা তার সম্মানে যে সকল বান্দাদের কবর আযাব নির্ধারিত হয়ে গেছে, তাদেরও অনেক সময় কবরের আযাব পর্যন্ত লঘু হয়ে যায়। তাছাড়া জনগণের জন্য নির্ধারিত কবরস্থানে কখনও কেউ অপবিত্র বা বাড়ি-ঘর নির্মাণ করতে পারেনা। তাই কবরের জন্য যদি কোন প্রকার ওছিয়ত করার থাকে, তাহলে আমাদের সবার জন্য তাই হওয়া উচিৎ যে, আমাদেরকে যেন কোন একটি কবরস্থান বা গোরস্থানে কবর দেয়া হয়, যে স্থানটি শুধুমাত্র মুসলমান মৃত ব্যক্তিদের জন্য নির্ধারিত। একটি আন্তর্জাতিক ফতোয়ার উত্তরে বলা হয়েছে যে, যদি সে এলাকায় কোন কবরস্থান না থাকে, তাহলেই কেবল তাকে মরুভূমি বা জঙ্গলে দাফন করা যাবে। তবে বিশাল ব্যয়বহুলতার দিকে না যেয়ে যদি এতটুক সামর্থ্য থাকে যে, নিকটস্থ কোন মুসলিম কবরস্থানে নিয়ে কবর দেয়া সম্ভব হয়, তাহলে সেটিই সবথেকে উত্তম কাজ। যদিও উত্তম বিষয়টি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনই ভাল জানেন, তারপরও এ বিষয়ে আরও অধিক জানার জন্য ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন:

http://www.islam-qa.com/en/ref/21394/grave

http://www.islam-qa.com/en/ref/98408/graveyard 

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *