কুকুর পালন করা

যদিও হাদিসে আছে যে, “যে গৃহে কুকুর অথবা প্রাণীর ছবি থাকে, সে গৃহে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করে না”। তথাপিও বর্তমানে বাংলাদেশের বিত্তশালী পরিবারে কুকুর পালন একটা ঐতিহ্য হিসাবে দাঁড়িয়ে গিয়েছে। ইসলামে কুকুর পালনের বিধান আছে শুধুমাত্র তিন কারণে, যথা: (ক) পশু চারণের জন্য (খ) শিকারের জন্য এবং (গ) আবাদি জমি পাহারা দেয়ার জন্য। এই ছাড়া অন্য যে কোন উদ্দেশ্য নিয়ে কুকুর পালন করা সম্পূর্ণরূপে হারাম। বিত্তশালী পরিবারে কুকুরের জন্য একমাসে যা খরচ হয়, তার এক দশমাংশও মিসকিনদের জন্য খরচ করা হয়না। তারা নির্দিষ্ট সময়ে মানুষকে দেখানোর জন্য কিছু মিসকিন এক যায়গায় করে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে দানের আয়োজন করে থাকে। আল্লহ তাদের ঈমান রক্ষার্থে হেফাজত করা ছাড়া আর কোন উপায় নেই।

অপর পক্ষে কুকুর কোলে নিয়ে থাকা, কুকুরের মুখে চুমু দেয়া- এই বিষয়গুলো শুধুমাত্র হারামই নয়, বরং বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতে জটিল রোগ সমূহের জন্য সাহায্যকারীও বটে। হাদিসের দৃষ্টিতে কুকুর যদি কোন জিনিসে মুখ দেয়, তাহলে প্রথমে সে জিনিসকে ৭ বার স্বাভাবিকভাবে ধুলাই করতে হবে। অতঃপর ৮ম বার মাটি দিয়ে মেজে ধুলাই করতে হবে। তাহলে বুঝুন কুকুর কতটুকু অপবিত্র। যদিও ইসলাম তথা হাদিসের দৃষ্টিতে উপরোল্লিখিত তিন উদ্দেশ্যে কুকুর পালন বৈধ আছে, তার পরও সে কুকুরটি প্রকৃতপক্ষে শিকারি কি-না, তা যাচাই করার জন্য হাদিসে আবার সর্ত দেয়া আছে তিনটি যথা:- ১) যে কোন কিছু ধরতে বললে ধরে। ২) যে কোন মুহূর্তে থামতে বললে থামে। ৩) কোন অবস্থায়ই নাপাক পদার্থ খায় না। অতএব কুকুর পালনের পূর্বে চিন্তা করে নিন যে, উল্লিখিত বিভিন্ন সর্তের আলোকে আপনার জন্য কুকুর পালন বৈধ আছে কি-না। যদিও উত্তম বিষয়টি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনই ভাল জানেন, তারপরও এ বিষয়ে আরও অধিক জানার জন্য ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন:

http://www.islamqa.com/en/ref/69840 

http://www.islamqa.com/en/ref/41090

 

 

You may also like...