কুর’আন খতম বখশীয়ে দেওয়া

আমাদের সমাজে এখনও এই রেওয়াজ প্রচলিত আছে যে, নিজে কুর’আন পড়ে  সূরা ফাতিহা থেকে নাস পর্যন্ত সমাপনান্তে হুজুরকে দিয়ে কুর’আন বখশীয়ে নিতে হবে। হাদিসে কুর’আন তিলাওয়াত কারীদের জন্য সূ-সংবাদ বর্ণিত আছে যে, “কয়েকটি সময় মানুষের দোয়া আল্লহ রব্বুল আলামীনের দরবারে কবুল হয়ে থাকে, তার মধ্যে একটি হল কুর’আন তিলাওয়াত শেষে আল্লহ রব্বুল আলামীনের কাছে চাওয়া”। আর যখন পূর্ণ কুর’আন তিলাওয়াত সমাপ্ত হয়, তখন তার নিজের ভাষায় আল্লহ রব্বুল আলামীনের কাছে যা যা চাওয়া দরকার, তা চাওয়া উচিৎ। কারণ: এই সময় মহান আল্লহ রব্বুল আলামীন খুশি হয়ে তিলাওয়াত কারীর সকল প্রয়োজনীয় দোয়া কবুল করে থাকেন।

কথা হল, ভাত-তরকারী খেল একজনে, আর তরকারীর গুনাগুণ বর্ণনা করবে আরেকজন; এটাও কি সম্ভব?  যে ব্যক্তি তরকারী-ই খায়নি, তরকারী না খাওয়া ব্যক্তি তরকারীর উন্নয়ন কল্পে পরবর্তী সময়ে কিরূপ পরিবর্তন পরিবর্ধন করা দরকার, সে বিষয় কিভাবে পরামর্শ দিবে?  তরকারীর লবণ, হলুদ, ঝাল, মসলা ইত্যাদি সম্বন্ধে সে-ই কেবল বর্ণনা দিতে পারবে, যে কি-না তরকারী খেয়েছে। অতএব কুর’আন তিলাওয়াত-কারীর কি কি জিনিসের প্রয়োজন, হুজুর তা কিভাবে বর্ণনা করবেন অথবা চাবেন?  যেহেতু আপনি কুর’আন তিলাওয়াত করেছেন, তাই এই অতি প্রয়োজনীয় দোয়াটা হুজুরকে দিয়ে না করিয়ে বরং আপনি আপনার নিজের ভাষায় যা যা প্রয়োজন, তা আল্লহ রব্বুল আলামীনের কাছে চান। তিনি অত্যন্ত দয়াশীল এবং ক্ষমাশীল। এই সকল অবস্থায় আপনার দোয়ায় হুজুরকে জড়াবেন না। আপনার প্রয়োজনীয় বিষয় গুলো হুজুরের মাধ্যমে আরবি ভাষায়ই চাইতে হবে, তার কোন প্রয়োজন নেই। প্রত্যেকটি ভাষা-ই আল্লহ রব্বুল আলামীনের সৃষ্টি। তাই তিনি সব ভাষায়ই তাঁর সকল বান্দার ডাকে সারা দিয়ে থাকেন। যদিও উত্তম বিষয়টি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনই ভাল জানেন, তারপরও এ বিষয়ে আরও অধিক জানার জন্য ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন:

http://www.islamqa.com/en/ref/37683/bidah 

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *