গায়ে হলুদ বা গীত অনুষ্ঠান পালন করা

বর্তমানে প্রচলিত গায়ে হলুদ প্রথা একটি হিন্দু সংস্কৃতি। যে পদ্ধতিতে গায়ে হলুদের প্রথা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে তা সম্পূর্ণরূপে হারাম। বর্তমানে বিবাহের কথা হলেই প্রথমে চিন্তা করা হয় গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানের কথা। যেখানে মুসলমান মহিলাদের জন্য মাহরাম পুরুষ ব্যতীত অন্য কারো সাথে দেখা দেওয়াই জায়েজ নেই, সেখানে অপর পুরুষ-গন হাতে হলুদ নিয়ে মহিলার মুখে মেখে দেয়। আবার মহিলারা হিন্দুদের মত কীর্তন তথা গান পরিবেশন করা শুরু করে। প্রায় মহিলাই সেদিন হলুদ শাড়ী পরার চেষ্টা করে। অধিকন্তু প্রত্যেকের সৌন্দর্যকে জনসম্মুখে উপস্থাপন করার জন্য এমন সাজন সাঁজে যে, কোথাকার কাপড় কোথায় থাকে সেদিকেও লক্ষ্য রাখার মত সময় থাকেনা। হিন্দুদের রীতিতে কুলায় বিভিন্ন প্রকার সরঞ্জামাদি সহ হিন্দুদের যে কোন কার্যক্রম করতেও দ্বিধা করে না, এমন কি পানের পাতা দিয়ে বর ও কনের চোখ ঢেকে গায়ে হলুদের আসনে নিয়ে যাওয়া হয়, এবং হিন্দুদের “সাত পাঁকে বাধার” মত পাঁক দিতে মোটেও দ্বিধা করে না। মোট কথা বর্তমানে ডিশ লাইন সহজলভ্য এবং আধুনিক মনা সবার কাছেই অধিক অনুকরণীয় মনে করার কারণে মুসলমান-গন স্টার প্লাস, স্টার জলসা, জি-বাংলা ইত্যাদি চ্যানেলে যেভাবে হিন্দুদের বিয়ে অনুষ্ঠান দেখতে পাচ্ছে, ঠিক সেভাবেই যদি তাদের বিয়ে অনুষ্ঠান পালন করতে না পারে, তাহলে তারা নিজেদের বিয়ের অনুষ্ঠানকে অসম্পূর্ণ বলে মনে করে।

হিন্দু ধর্মে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান আছে, যার নাম হল দোল পূর্ণিমা। বর্তমান সময়ের প্রায় সকলেই কিছু-না-কিছু হলেও দোল পূর্ণিমার সম্বন্ধে পরিচিত আছে। এই দোল পূর্ণিমায়  হিন্দুদের প্রায় সকলেই রঙের মাখানোর সম্মুখীন হতে বাধ্য হয়, কারণ এটা তাদের ধর্মীয় রেওয়াজ। একটা বিষয় সেখানে লক্ষ করে দেখতে পারেন, তাহলো সেখানে কার মাকে, বোনকে, স্ত্রীকে এবং কন্যাকে কে রঙ লাগাচ্ছে, তা মোটেও দেখার বিষয় নয়। মোট কথা পরিচিত থাকলেই হল। আর এটা তাদের ধর্মীয় বিধান। যেহেতু রজ-গোপী হোলি খেলেছিল, রাধা কৃষ্ণ হোলি খেলেছিল অর্থাৎ তাদের দেবতারাই হোলি খেলেছিল, কাজেই সেই তথ্যের আলোকে একজনের স্ত্রী-কন্যাকে নিয়ে আরেকজনের রঙ মাখানো এই দিনে তাদের জন্য পুণ্যের কাজ। অপরপক্ষে ইসলাম ধর্মে তা হারাম। কাজেই যারা বেহায়ার মত অপরের ধর্মের রীতিকে নিজের সামাজিক রীতি হিসাবে চালানোর চেষ্টা করে, আর যাই হোক তাদের নাম ধর্মের তালিকায় থাকবে কিনা, তা একমাত্র আল্লাহই ভাল জানেন। কিন্তু যারা মুশরিকদেরকে অনুসরণ করে, তাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক সংবাদ মহান আল্লহ রব্বুল আলামীন তাঁর কিতাবের বিভিন্ন যায়গায় বর্ণনা করেছেন। কাজেই কঠিন শাস্তি থাকে বাঁচার জন্য মহান আল্লহ রব্বুল আলামীন আমাদের সকল মু’মিনদেরকে হিন্দু পদ্ধতির পরিবর্তে মুসলমান পদ্ধতিতে পবিত্র তম বিবাহ সম্পন্ন করার মত তৌফিক দান করুন। যদিও উত্তম বিষয়টি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনই ভাল জানেন, তারপরও এ বিষয়ে আরও অধিক জানার জন্য ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন:

http://www.islam-qa.com/en/ref/165548/ceremony

http://www.islamicity.org/dialogue/Q342.HTM

http://www.islamqa.com/en/ref/10225/bid’ah

 

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *