জুমুয়া এবং জামায়াতে ফরজ নামাজ শেষে বের হয়ে যাওয়াকে অন্যায় মনে করা

122

আমরা খেয়াল করি যে, যখন জামায়াতে নামাজ শেষ হয়, তখন কিছু লোক বের হয়ে যাওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে থাকে, আবার কিছু লোক নফল নামাজের জন্য নিয়ত করে দাঁড়িয়ে যায়। সহিহ হাদিসে আছে, “রসুল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদে জুমুয়ার নামাজ আদায় করে কখনও অবস্থান করেননি। বরং তিনি বাড়িতে যাওয়ার পর দূর রাকায়াত নামাজ আদায় করতেন”। আর এটাই ছিল তাঁর নিয়মিত অভ্যাস। আমরা জানি সুন্নতে মুয়াক্কাদা বলে সেই সকল সুন্নত কার্যক্রমকে, যে বিষয়গুলো রসুল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিয়মিত আদায় করতেন। অপর হাদিসে দেখা যায়, রসুল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নির্দেশ দিতেন যে, “তোমরা মসজিদে এই সে দুই রাকায়াত নামাজ পড়বে”। সেই অনুসারে সকল সাহাবী (রা:) গন মসজিদে প্রবেশ করে দুই রাকায়াত নামাজ পড়ে খুতবা শুনার জন্য বসে থাকতেন। রসুল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাসায় দুই রাকায়াত নামাজ আদায় করত: মসজিদে প্রবেশ করলে মুয়াজ্জিন আজান দিতেন এবং রসুল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুতবা শুরু করতেন। তারপর সকল সাহাবী (রা:) গন খুতবা শ্রবণ করতেন।

সহিহ হাদিস থেকে প্রমাণিত যে, গুরুত্বপূর্ণ সাহাবীগণের কেউ কেউ  ২, ৪, ৬, ৮ এবং ১২ রাকায়াত নফল নামাজ জুমুয়ার নামাজের পূর্বে আদায় করেছেন। তবে এই সকল নামাজই ছিল তাদের জন্য ব্যক্তিগত বা ইচ্ছাকৃত নফল নামাজ। যার কারণে জুমুয়ার নামাজের আগে –পরে সুন্নত নামাজ আছে সংক্রান্ত কোন হাদিসই লিপিবদ্ধ নেই। যেমনঃ আলী (রাঃ) জুমুয়ার নামাজের পরে প্রথমে ২ রাকায়াত এবং পড় চার রাকায়াত পড়ার জন্য পরামর্শ দিতেন। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) জুমুয়ার নামাজের পূর্বে এবং পড়ে চার রাকায়াত নামাজ পড়তে অভ্যস্ত ছিলেন। সেই দলিলের বলে বর্তমানে ক্কাবলাল জুমুয়া এবং বাদাল জুমুয়ার মোট আট রাকায়াত নামাজকে আমরা সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ নামাজ বলে থাকি; যা কি-না রসুল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোন দিনই পড়েননি। এখানে একটা বিষয় উল্লেখ্য যে, আহলে হাদিসের সমর্থক ভাইয়েরা কিন্তু এই ক্কাবলাল জুমুয়া  বা বাদাল জুমুয়াকে সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ বলে সমর্থন করে, কিন্তু আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) কর্তৃক প্রচলিত বা অভ্যস্ত ২০ রাকায়াত তারাবী নামাজকে যখন হানাফি মাজহাবের সমর্থক-গন সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ বলে, তখন কিন্তু তারা সমর্থন করে না। একই দলিলের ভিত্তিতে মক্কা-মদিনাতেও ২০ রাকায়াত তারাবীর নামাজ আজ পর্যন্তও পড়া হচ্ছে; যদিও সর্বপ্রথম তারাবীর নামাজ এবং জামাতে ২০ রাকায়াত পড়ার  বিধান শুরু করেছিলেন হযরত ওমর (রাঃ)।

আমরা সুন্নতে মুয়াক্কাদা বলে যে ক্কবলাল জুমুয়া এবং বাদাল জুমুয়ার চার+চার রাকায়াত নামাজ আদায় করি, রসুল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে নিয়মিত এই নামাজ আদায় করেছেন, এই ধরনের কোন প্রমাণ হাদিসে নেই। তবে যারা জুমুয়ার দিনের সুন্নত নামাজ বাসায় না পড়ে মসজিদে পড়ে, তাদের জন্য চার রাকায়াত পড়ার দলিল আছে। যাহোক কোন ব্যক্তি যদি জামায়াতে ফরজ নামাজ আদায় করে মসজিদে সুন্নত নামাজ আদায় না করে বের হয়ে যায়, তাহলে তা কোন অন্যায় হবে না; যদিও অনেকে এই বিষয়টাকে অন্যায় হিসাবেই মনে করে। নিয়মানুসারে যদি কোন ওজর না থাকে, তাহলে মুসলমানদের জন্য জামাতে নামাজ আদায় করা জরুরী। সেই ক্ষেত্রে সুন্নত বা নফল নামাজ মসজিদে আদায় করা জরুরী নয়।

বর্তমানে মানুষের কর্ম ব্যস্ততা এবং সময়ের মূল্য আগের দিনের মানুষের তুলনায় অনেক বেশী। বিশেষ করে জনসংখ্যাধিক্কের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারও অনেক বেশী। সেই ক্ষেত্রে একজন মানুষ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রেখে অথবা অন্য কারো উপর স্বল্প সময়ের জন্য ছেড়ে মসজিদে আসলে সেই সময় যদি পিছনে পড়া একজন মুসুল্লি আবার নতুন করে নফল নামাজের নিয়ত করে, তাহলে এটা নিঃসন্দেহে অন্যায়। আবার তাকে অতিক্রম করলেও বলা হবে যে, চল্লিশ বছর দাঁড়িয়ে থাকলেও নামাজির সামনে দিয়ে যাওয়া উচিৎ না। এই সকল ক্ষেত্রে যদি কোন ব্যক্তি দ্বারা অপর ব্যক্তির সামনে দিয়ে যেতেই হয়, তাহলে সে ক্ষেত্রে নামাজ আদায় করনে-ওয়ালা ব্যক্তি কিন্তু মোটেও কোন অংশে কম দায়ী হবে না। হাদিসেই প্রমাণিত যে, “নফল নামাজ মসজিদে আদায়র চেয়ে বাড়িতে আদায়ই উত্তম”। কাজেই কেউ ফরজ নামাজ জামায়াতে সাথে আদায় করে চলে গেলে তাকে খারাপ বলার কোন অধিকার কারো নেই। অতএব সবকিছুর পূর্বে আমাদেরকে ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নত, নফল, মোস্তাহাব, মোবাহ ইত্যাদি এবং তার আলাদা আলাদা গুরুত্ব সম্পর্কে শিক্ষা গ্রহণ করা দরকার, তাহলে আর এই ধরনের কোন সমস্যার সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না। যদিও উত্তম বিষয়টি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনই ভাল জানেন, তারপরও এ বিষয়ে আরও অধিক জানার জন্য ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন:

http://www.islam-qa.com/en/ref/6653/Jumu’ah%20in

http://www.islam-qa.com/en/ref/14075/Jumu’ah%20in

http://www.islam-qa.com/en/ref/181043/ruling%20of%20asr%20prayer

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *