জৌলুসপূর্ণ ইফতার পার্টি বাড়িতে বা প্রতিষ্ঠানে করা

জৌলুসপূর্ণ ইফতার পার্টি করা

জৌলুসপূর্ণ ইফতার পার্টিতে কল্যান কতটুকু?

বর্তমানে আমরা দেখতে পাই যে, রোজার মাস আসার পূর্বেই দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্ব গতি হতে থাকে; যদিও রোজাদারের সংখ্যা সে অনুপাতে মোটেও বৃদ্ধি পায় না। ২০১০ সনের এক বেসরকারি জরিপে দেখা গেছে যে, যাদের উপর রোজা রাখা ফরজ, তেমন ব্যক্তিদের মধ্যে শতকরা ৭০ জন মানুষ রোজা রাখে না অর্থাৎ ৩০ জন রোজা রাখে। তারপরও দেখা যায় যে, রমজান মাসে ইফতার পার্টির কোন অভাব নেই। ব্যক্তিগত পর্যায় থকে শুরু করে রাজনৈতিক পর্যায় পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়েই ইফতার পার্টির ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে। অথচ কোন গৃহ বা প্রতিষ্ঠানে জাঁক-জমক পূর্ণ পার্টি ইসলাম কখনোই সমর্থন করে না। হাদিসের দৃষ্টিতে দেখা যায় যে, তদানীন্তন সময়ে যতগুলো বৃহত্তম ইফতারি পার্টি হয়েছে বা বৃহত্তম ইফতারির আয়োজন হয়েছে, তার প্রত্যেকটি হয়েছে মসজিদে।

অবশ্য এর মধ্যে অনেক হেকমতও জড়িত থাকত। কারণ বাড়িতে বা প্রতিষ্ঠানে কিছু নির্দিষ্ট লোককে দাওয়াত করা হয়, যখন সে রোজা আছে কি-না, তা কোন বিবেচনায় রাখা সম্ভব হয় না। কারণ সম্ভ্রান্ত বা গন-মান্য ব্যক্তিকে দাওয়াত দিয়ে নাম কামানোই থাকে এই সকল ইফতারি পার্টির মূল উদ্দেশ্য। অথচ মসজিদে যদি ইফতারির ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে সেখানে ধনী-গরীব নির্বিশেষে সবাই অংশগ্রহণ করতে পারে। মসজিদ আল্লহর ঘর হওয়ার কারণে সেখানে কাউকে যেতেও নিষেধ করা যায় না এবং কেউ ইফতারিতে বসলেও তাকে নিষেধ করার বিধান নেই। যার ফলে অনাহারী-অর্ধাহারী দরিদ্র ব্যক্তি-গন সেই ইফতারিতে অংশগ্রহণ করতে পারে এবং তুলনামূলক ধনী ব্যক্তিদের থেকে বেশি আল্লহর শুকরিয়া আদায় করতে পারে। বাড়িতেই যদি ইফতারি পার্টির ব্যবস্থা বৈধ থাকত, তাহলে তদানীন্তন মিলিয়নিয়ার আবু বক্কর (রা:) ওসমান (রা:) কষ্ট করে মসজিদে ইফতারির ব্যবস্থা না করে বরং তাঁদের বাড়িতেই ইফতারির আয়োজন করতেন।

ইফতার পার্টির অপচয় সীমাহীন।

আমি কিছু উচ্চস্তরের জৌলুসপূর্ণ ইফতারি পার্টি দেখেছি, যেখানে প্রতিজন ঊর্ধ্বতন ব্যক্তির জন্য চারটি গ্লাস (বরফের পানি, স্বাভাবিক পানি, দুই প্রকারের সরবত) প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। সব শেষে সেখানে কত সরবত যে অপচয় হতে দেখেছি, তা আর লিখে প্রকাশ করা যাবে না। যেখানে দরিদ্র মুসলমান এক গ্লাস সরবত ইফতারির জন্য খেতে পায় না, সেক্ষেত্রে এই ধরনের অপচয় ইসলাম কিভাবে বৈধ ঘোষণা করবে?  তাই এই ধরণের অপচয় ইসলাম তো অনুমতি দেয়-ই না বরং মহান আল্লহ রব্বুল আলামীন-ও সহ্য করবেন না।

বর্তমানে যে সকল উচ্চ স্তরে রাজনৈতিক ইফতার পার্টি হয়, সেখানে যারা হাজির থাকেন, তারা নিশ্চয়ই আমার কথাকে এক বাক্যে স্বীকার করে নিবেন; যদিও সেখানে দরিদ্র রোজাদারের প্রবেশ-তো দূরের কথা, তাদের আশে-পাশেও যেতে পারে না। তাছাড়া এক দলের ইফতার পার্টিতে অন্য দলের কোন মানুষকেই দাওয়াত করা হয় না। অর্থাৎ মুসলমান সম্প্রদায়কে তারা ইফতারের নামে আলাদা করে ফেলে। যে ইফতার পার্টি মানুষকে আলাদা মর্যাদার সৃষ্টি করে এবং মুসলমানদের পবিত্র বন্ধনকে আলাদা করে ফেলে, সেটা আর যাই হোক ইসলামের কোন অনুষ্ঠান হতে পারে না। নিশ্চয়ই তা অমুসলিমদের অনুকরণে পার্টি নামক একটি বিষয়, যা ইসলামে একেবারেই জায়েজ নেই। যদিও উত্তম বিষয়টি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনই ভাল জানেন, তারপরও এ বিষয়ে আরও অধিক জানার জন্য ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন:

http://www.islamicity.com/articles/Articles.asp? ref=MV1108-4802

http://islamqa.com/en/ref/38264/iftar

 

You may also like...

4 Responses

  1. It is in reality a great and useful piece of info. Thanks for sharing. 🙂

  2. Like says:

    Like!! I blog frequently and I really thank you for your content. The article has truly peaked my interest.

  1. 19/07/2018

    […] মাত্রই নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সাতটি বিশ্বাস ফরজ করা হয়েছে। তার মধ্যে একটি […]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *