টুথ ব্রাশ ও মিসওয়াককে বিপরীতধর্মী মনে করা

78হাদিসে আছে, “মিসওয়াক মুখের জন্য পবিত্রতা এবং আল্লহর সন্তুষ্টির মাধ্যম”। সাধারণত মিসওয়াকে তৈরি করা হয় গাছের কাচা ডাল, বাঁশের কাঁচা কঞ্চি বা শিকড় দিয়ে, যার এক মাথা চিবিয়ে দাঁত মাজার জন্য ব্যবহার করা হয়। মিসওয়াক ব্যবহারের মূল কারণ হল মুখের দুর্গন্ধ মুক্ত করা। তদানীন্তন সাহাবী (রা:) দের যুগের সাধারণ মানের খাদ্যাভ্যাসের সাথে আমাদের খাদ্যাভ্যাসের প্রচুর পার্থক্য বিদ্যমান। সে সময়ের খাদ্যে তালিকায় চর্বির পরিমাণ ছিল খুবই কম। কিন্তু বর্তমানের খাদ্য তালিকায় চর্বি জাতীর খাদ্যের পরিমাণই বেশি। তাই অনেক ক্ষেত্রে সাধারণভাবে শুধু মাত্র মিসওয়াক করলেই মুখের দুর্গন্ধ দূর করা সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে যদি কেউ মিসওয়াকের যায়গায় টুথ ব্রাশ ব্যবহার করে, তাহলে দোষের কিছু নেই; যদিও অনেকের ধারনা আছে যে, টুথ ব্রাশ ব্যবহার করা বৈধ নয়। তবে আধুনিক দন্ত চিকিৎসক-গনও শুধু মাত্র টুথ ব্রাশ ব্যবহার না করে মাঝে মাঝে মিসওয়াক ব্যবহার করার পক্ষে মত দিয়ে থাকেন। কারণ শুধুমাত্র টুথ ব্রাশ ব্যবহার করলে দাঁতের উপরে কোন শক্তিশালী চাপ পড়েনা, এতে অনেক সময় দাঁতের ঝিল্লির ক্ষতি হয় এবং দাঁত শির-শির করে। অনেক ক্ষেত্রে দাঁতে পানি পর্যন্ত ধরে। অতএব বর্তমান খাদ্য তালিকা অনুসারে প্রতিজন ব্যক্তির জন্যই মিসওয়াক এবং টুথ ব্রাশ উভয়ই ব্যবহার করার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি।

প্রমাণ করে দেখতে পারেন যে, তৈলাক্ত জাতীয় খাদ্য খেয়ে শুধুমাত্র মিসওয়াক করে তার মুখের দুর্গন্ধ পূর্ণরূপে দূর করা সম্ভব নয়। দাঁতের সুস্থতার জন্য হলেও প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর পূর্বে দাঁত ব্রাশ করা উচিৎ। টুথ ব্রাশের সকল সামগ্রী যদি হালাল থাকে তাহলে টুথ ব্রাশ ব্যবহার করা নাজায়েজ হবার কোন কারণই নেই বা সুন্নতের খেলাপ নয়। হাদিসের বরাত অনুসারে “যে (মু’মিন) ব্যক্তি নিয়মিত মিসওয়াক করবে, মৃত্যুর সুময় সে ব্যক্তির সহজে কালেমা নসীব হবে”। সুতরাং এটা একজন মুসলমানের জন্য একটা বিশাল প্রাপ্য প্রতিশ্রুতির ব্যাপার। তাছাড়া নামাজের পূর্বে মিসওয়াক করাও গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। তবে যারা নিয়মিত মিসওয়াক এবং ব্রাশ করে অভ্যস্ত, তারা যথা সময়ে মিসওয়াক/ব্রাশ না করলে মোটেও শান্তি পায় না। যদিও উত্তম বিষয়টি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনই ভাল জানেন, তারপরও এ বিষয়ে আরও অধিক জানার জন্য ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন:

http://www.islam-qa.com/en/ref/1312/tooth brush

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *