ডাইনিং টেবিলে খানা খেতে অভ্যস্ত হওয়া

113

মানুষ সাধারণত বসে খানা খেতে অভ্যস্ত। তবে সম্প্রতি ইসলামি সভ্যতা খৃষ্টান সংস্কৃতির সংস্পর্শে এই সে অনেক কিছুই নিজেদের আচার আচরণের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে নিয়েছে। তেমনই একটি বিষয় হল ডাইনিং টেবিলে খানা খাওয়া। আমরা যদি একটু লক্ষ্য করি তাহলে দেখতে পাব যে, ইহুদি-খৃষ্টান-গন কিন্তু আমাদের মত ভাত-মাছ ইত্যাদি ডাইনিং টেবিলে সাজিয়ে নিয়ে খেতে বসে না। তারা ডাইনিং টেবিলে মদ, জুস, ফল, অথবা স্বাভাবিক কোন নাস্তা ইত্যাদি জাতীয় খাদ্য সাজিয়ে নিয়ে বসে, যেগুলো খেতে হলে সরাসরি পান পাত্র অথবা কাটা চামচ ছাড়া খাওয়া যায় না। আবার চিনা সম্প্রদায়ের মানুষ খায় দুই+দুই বা চারটা কাঠির মাধ্যমে। এই সকল অবস্থায় ডাইনিং টেবিলে না বসে বা সরাসরি মুখ বরাবর নীচে প্লেট না রাখলে প্রায় খাদ্য খাওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। কারণ: কাটা চামচ আর কাঠি দিয়ে খাদ্য সামগ্রী যত মজবুত ভাবেই ধরুক না কেন, মহান আল্লহ রব্বুল আলামীন প্রদত্ত হাতের মত সুবিধা কখনও পাওয়া সম্ভব না। তবে কোন দাওয়াতের মজলিশ বা প্রতিষ্ঠানে যদি কেউ অংশ গ্রহণ করে, এবং সেখানে ডাইনিং টেবিলের ব্যবস্থা থাকে, তাহলে অবশ্য সেখানে নীচে বসে খেতে চাওয়া আবার নিঃসন্দেহে আদবের খেলাপ বা অসামাজিকতা। সেই ক্ষেত্র সামাজিক অবস্থা বা পরিবেশের সাথেই তাল মিলেয়ে চলাটাই উত্তম।

যাহোক আমরা খাদ্য ভক্ষণের ব্যাপারে সুন্নতের অনুসরণ না করলেও তারা কিন্তু ঠিকই পেট খালি রেখে খুব পরিমিত ভাবে খানা খায়। যার ফলে তাদের মধ্যে খুব বেশি মানুষই স্লিম দেহের অধিকারী হয়ে থাকে। খাদ্যের প্রতি তাদের লোভটা আমাদের চেয়ে অনেক কম। আর তাদের দেখা-দেখি আমরা ভাত তরকারির ডাল ইত্যাদি ডাইনিং টেবিলে সাজিয়ে নিয়ে পেটকে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত অবস্থায় পেটে যা ধরে, এমনকি ভক্ষণ-কৃত খাদ্য গলার কাছা-কাছি এই সে ঢেকুর না উঠা পর্যন্ত খেতেই থাকি। কারণ: খাওয়ার প্রতি লোভটা তুলনা মূলক ভাবে আমাদের অনেক বেশি। যার কারণে আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষের শরীরের আগে পেট চলে। দেখা যায় যে, যারা ডাইনিং টেবিলে খানা ক্ষেতে পছন্দ করে না, আমাদের সমাজের খৃষ্টান অনুকরণ প্রিয় মানুষগুলো তাদেরকে অসামাজিক বলতেও দ্বিধা করে না।

মোট কথা হল, কে কি করল- তা মুসলমানদের দেখার বিষয় নয়। আমাদের বিষয় হওয়া উচিৎ তাই, যা ইসলাম আমাদেরকে শিখিয়েছে। যে বিষয় সুন্নতের মধ্যে প্রকাশ্য ভাবে নির্দেশিকা বিদ্যমান আছে, সে বিষয়ে অবশ্যই অন্য কারো ধর্ম, সমাজ বা জাতীর কোন কিছু অনুকরণ বা অনুসরণ করা বৈধ নয়। সুন্নতের পদ্ধতিতে খানা খাওয়ার বিধান হল দুই হাঁটু খাড়া করে বসে অথবা এক হাঁটু বিছিয়ে এক হাঁটু খাড়া করে বসে দস্তরখানা বিছিয়ে খানা খাওয়া; যার কোন বিকল্প নেই। ডাইনিং টেবিলে বসে খানা খাওয়া হারাম নয় বটে, তবে কেউ যদি সুন্নতের পদ্ধতিতে খানা খাওয়ার উপরে ডাইনিং টেবিলে খানা খাওয়াকে অধিক গুরুত্ব দেয়, তাহলে অবশ্যই যে গুনার কাজ হবে, তাতে কোন সন্দেহ থাকা উচিৎ না।

বিজ্ঞানের প্রমাণ মতে প্রশ্বাসের সময় মানুষ কার্বন-ডাই অক্সাইড ত্যাগ করে। ডাইনিং টেবিলে খানা খেলে মানুষের নিঃশ্বাস সরাসরি খাদ্যের পাত্রের উপরে পরে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হওয়া মোটেও অসম্ভব নয়। একটা বিষয় লক্ষ্য করে দেখবেন যে, যে সকল বিদেশী-গন সব সময়ই ডাইনিং টেবিলে খানা খেতে অভ্যস্ত, তারা কখনও গরম চা অথবা কফির কাপে ফুঁক দিয়ে পান করে না। কারণ: তারা জানে যে, গরম পদার্থের মধ্যে নিঃশ্বাসের কার্বন-ডাই অক্সাইড মিলিত হলে নিঃসন্দেহে ক্ষতি হতে বাধ্য। অথচ আমাদের দেশের চা পান কারি ব্যক্তি-গন চায়ের কাপে ফুঁক দেয়া ছাড়া চা-ই পান করতে পারে না। কারণ: আমরা অন্যদেরকে দেখে শিখেছি, কিন্তু তার মধ্যস্থ ভাল-মন্দের যে বিষয়গুলো আছে, সে ব্যাপারে সবকিছুই শিখতে পারিনি, ফলে এটাই এখন আমাদের কাছে ফ্যাশন। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে, কাক ময়ূরের নাচ নাচতে গেলে যা হয়, আমাদের দেশের মানুষের হয়েছে তাই। হাড়িতে চাল না থাকলে কি হবে, খাওয়ার জন্য একটা ডাইনিং টেবিল চাই-ই চাই। যদিও উত্তম বিষয়টি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনই ভাল জানেন, তারপরও এ বিষয়ে আরও অধিক জানার জন্য ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন:

http://www.islam-qa.com/en/ref/21917/dining

 

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *