‘তসবি’র মাধ্যমে তাসবীহ পড়া

108

আমাদের সমাজে ‘তসবির ছড়া’ বর্তমানে একটি ধর্মের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। সচরাচর দেখা যায় মানুষ যখন হজ্জ করে আসে অথবা বার্ধক্যে পৌঁছে তুলনামূলক মসজিদ-মুখী হয়ে পরে, তখন তাদের হাতে একটি তসবির ছড়া শোভা পায়। তাছাড়া হজ্জ করতে যেয়ে বা মিডিল ইষ্টে চাকুরী করতে যেয়ে যখন কেউ বাড়ী ফেরে, তখন তার নিকটস্থ আত্মীয়স্বজন বা পরিবারের বৃদ্ধ বয়সের ধর্ম পালনকারী ব্যক্তিদের জন্য সাধারণ  উপহার হিসাবেও একটি তসবির ছড়া নিয়ে আসে। মূলত তসবি গণনার জন্য এরূপ তসবির ছড়ার ব্যবহার রসুল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যুগে কখনোই ছিল না। এটি বর্তমান সময়ে ধর্মের বা ইবাদতের নামে লোক দেখানো একটি সামগ্রী মাত্র।

সবচেয়ে দুঃখের ব্যাপার হল, শুধুমাত্র সাধারণ মু’মিনই নয়, বরং আলেম সমাজের একটা অংশও এভাবে তসবির ছড়া ব্যবহার করে থাকে। অনেক সময় দেখা যায় মানুষ রাস্তায় হাঁটছে, আর তার হাতে ঝুলছে একটি তসবির ছড়া। যাতে তাকে দেখেই অন্যেরা বড় ধরনের ইবাদত-কারী একজন মুসলমান হিসাবে মনে করে থাকে। এটি পরিপূর্ণ একটি রিয়া এবং বিদ্‌য়াত। আর নিজেকে ধার্মিক প্রমাণ করার জন্য তসবির ছড়া গলায় পরিধান করা হারাম। হাদিসে উল্লেখ আছে,  ইবনে মাস’উদ (রাঃ) এক মহিলাকে তসবির দানা দারা তাসবীহ পাঠ করতে দেখে তা কেটে ও ছুড়ে ফেলেছিলেন। অতঃপর আরেক ব্যক্তিকে পাথর দ্বারা তাসবীহ পাঠ করতে দেখে তিনি তাকে তাঁর পা দ্বারে প্রহার করেন। অতঃপর বলেন, “তোমরা আমাদের চেয়ে অগ্রণী হয়ে গেছ? অত্যাচার করে বিদ্‌য়াতের উপর আরোহণ করেছ এবং জ্ঞানের দিক দিয়ে রসুল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথিগণকেও ছাড়িয়ে গেছ”?

কাজেই আপনি যদি কোন বিষয়কে পাত্তা দেন, তাহলে সেই হিসাবেই সেটির ফলাফল পাওয়া যাবে। আর যদি তার গুরুত্ব না দেন, তাহলে সেই হিসাবেই তার প্রতিদান গৃহীত হবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হল, যে ইবাদতগুলো মহান আল্লহ রব্বুল আলামীন আমাদেরকে করতে বলেছেন, সেগুলোই আমাদের দ্বারা করা সম্ভব হচ্ছে না, আর যেগুলো করতে বলেননি-সেগুলো কিভাবে আমরা ধর্মীয় আমল হিসাবে মেনে নিতে পারি? উদাহরণস্বরূপ কোন কর্মকর্তা তার অধীনস্থকে আদেশ দিল একটি কাজ করার জন্য। কিন্তু সেই অধঃতন ব্যক্তি সে কাজটি যথানিয়মে করতে পারল না, এক্ষেত্রে কর্মকর্তা হয়তো তাকে না-লায়েক বা অকর্মা বলতে পারেন। আর তা হল সেই ব্যক্তির জন্য একটি দোষ। আর যে অধঃতন ব্যক্তি সে কাজটি না করে বরং আদেশ বিরুদ্ধ মনগড়া একটি কাজ করল, নিশ্চয়ই সেক্ষেত্রে কর্মকর্তা তাকে শুধুমাত্র দোষী বলেই ক্ষান্ত হবেন না বরং তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। কাজেই আমদের প্রতিজ্ঞা করা উচিত যে, ধর্মের বিরুদ্ধে কোন কাজই নিজের মন থেকে বা দেখা-দেখি করা উচিৎ নয়; বরং যে বিষয়টি ইসলামে কোন বিতর্ক নেই, সেটির আমল করা-ই একজন মু’মিনের জন্য উৎকৃষ্ট পন্থা। যদিও উত্তম বিষয়টি মহান আল্লহ-ই ভাল জানেন, তারপরও এ বিষয়ে আরও অধিক জানার জন্য ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন:

http://islamqa.info/en/ref/3009/Tasbeeh%20count%20with%20stone

http://islamqa.info/en/ref/36243/masbahah 

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *