তিন তালাক এবং তিনবার তালাকের মধ্যে পার্থক্য না বুঝা

89

আমরা সব সময়ই বলতে অভ্যস্ত যে, “Qruaran is a complete code of life”. অর্থ: কুর’আন হল সম্পূর্ণ জীবন বিধান। আমি বলতে চাই যে, আমরা যা বলি, আসলে তা কি আমরা করি?  অনেক ক্ষেত্রে কুর’আনের অর্থকে নিয়ে অপব্যবহার করি। অর্থাৎ না বুঝে ভুল অর্থ বর্ণনা করি। এই মুহূর্তে চলুন আমরা একটু পাক কালামকে কিছু প্রশ্ন করি। দেখি কুর’আন আমাদেরকে কি উত্তর দেয়। (ভাবার্থ ভাবে প্রশ্ন-উত্তরগুলো নিম্নরূপ)

কুর’আনের কাছে প্রশ্ন: কেউ যদি স্ত্রীর কাছে গমন না করার শপথ করে আবার যেতে চায়, তাহলে সে ব্যক্তির দ্বারা কি তা সম্ভব হবে?

কুর’আনের উত্তর: অবশ্যই সম্ভব, যদি তা চার মাসের মধ্যেই হয় (২/২২৬)

কুর’আনের কাছে প্রশ্ন: আর যদি সে স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার সংকল্প করে, তাহলে কি হবে?

কুর’আনের উত্তর: সে বিষয় আল্লহ তায়ালা জানেন, (তাই চার মাস পরে এমনিতেই তালাক হয়ে যাবে)। (২/২২৭)

কুর’আনের কাছে প্রশ্ন: যদি তালাক হয়েই যায়, তাহলে তারা কি করবে?

কুর’আনের উত্তর: তালাক প্রাপ্ত স্ত্রী তিন রজঃস্রাব প্রতীক্ষায় থাকবে। ইতিমধ্যে তার গর্ভে যদি কোন সন্তান থাকে, তাহলে সে তা প্রকাশ করে দেবে। এই সময়ের মধ্যেই তারা যদি তালাকের বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে চায়, তাহলে স্বামীই অধিক হকদার। তবে সে সিদ্ধান্তে তাদের প্রত্যেকেরই ব্যক্তিগত অধিকার আছে, যদিও সেখানে নারীদের উপর পুরুষদের মর্যাদাই বেশি। (২/২২৮)

কুর’আনের কাছে প্রশ্ন: এই রূপ নিষ্পত্তি সুবিধার মত তালাক মোট কতবার দেয়া যাবে?

কুর’আনের উত্তর: সর্বোচ্চ দুইবার। এই সীমার মধ্যে হয়তো স্ত্রীকে পূর্ণরূপে মুক্ত করে দিতে হবে, নয়তো বিধিমত রেখে দিতে হবে। তবে ইতিপূর্বে স্ত্রীকে যা কিছু দেয়া হয়েছে, তার কিছুই স্বামী কর্তৃক ফেরত নেয়া বৈধ নয়। সেক্ষেত্রে স্ত্রী যদি নিজে থেকেই যে কোন কিছুর বিনিময়ে স্বামীর নিকট থেকে বিচ্ছেদ কামনা করে, তাহলে স্বামী কর্তৃক সে জিনিস গ্রহণে দোষের কিছু নেই। তবে আল্লহর নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করলে অবশ্যই সে জালিম হবে। (২/২২৯)

কুর’আনের কাছে প্রশ্ন:  তারপরও যদি সে স্ত্রীকে তৃতীয়বার তালাক দেয়, তাহলে কি হবে?

কুর’আনের উত্তর: তালাক দাতা স্বামী আর তাকে ফেরত নিতে পারবে না। তবে বিধান-মত সে মহিলার যদি অন্য যায়গায় বিবাহ হয় এবং পরবর্তী স্বামী কর্তৃক সহবাসের পরে (সহবাসই প্রধান সর্ত) সে স্বামীও যদি তালাক দেয়, সেক্ষেত্রে স্ত্রী যদি পূর্ব স্বামীর সাথে আলোচনা সাপেক্ষে বুঝতে পারে যে, তারা আল্লহর সীমারেখা রক্ষা করে চলতে পারবে, তাহলে সেমতাবস্থায় পূর্ব স্বামীর সাথে পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে আর কোন অপরাধ নেই(২/২৩০)

কুর’আনের কাছে প্রশ্ন:  তাহলে তালাকের সহজ বা সাধারণ নিয়মটা কি?

কুর’আনের উত্তর: তোমরা যখন স্ত্রীকে তালাক দাও এবং তারা ইদ্দত পূর্তির শেষের দিকে পৌঁছে, এর মধ্যে হয়তো তাদেরকে পুনরায় গ্রহণ কর, নয়তো যথানিয়মে বিচ্ছেদ করে দাও। স্ত্রীদেরকে কষ্ট দেয়ার উদ্দেশ্যে আটকিয়ে রেখে দিও না। আর যে স্বামী এমতাবস্থায় বিভিন্ন কৌশলের আশ্রয় নেয়, সে নিজের উপরই জুলুম করে। আর তোমরা আল্লহর বিধানকে নিয়ে ঠাট্টা তামাশা করিও না। তোমাদের উপর যে কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে, তা থেকেই ইচ্ছে করলে তোমরা সব কিছুর বিষয়ে জানতে পার। তোমরা আল্লহকে ভয় কর, কারণ: তোমরা যে বিষয়েই চিন্তা কর, আল্লহ সে সকল বিষয়েই জ্ঞানময়। (২/২৩১)

কুর’আনের কাছে প্রশ্ন: আল্লহর দেয় সুবিধা মোতাবেক প্রথমবার বা দ্বিতীয়বার তালাক দেয়ার পর পূর্ণ ইদ্দত শেষে যদি তারা পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে চায়, তাহলে তার জন্য বিধান কি হবে?

কুর’আনের উত্তর: (দুইবার পর্যন্ত) তালাক দেয়ার পর যখন স্ত্রী-গন তাদের ইদ্দত পূর্ণ করে, অতঃপর (পূর্ব স্বামীর সাথে আলোচনা সাপেক্ষে) তারা যদি পরস্পরে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে চায়, তাহলে তোমরা তাদেরকে বাধা দিও না। যারা আল্লহ এবং আখিরাতের প্রতি ইমান রাখে, এই শুদ্ধতা ও পবিত্রতম উপদেশ কেবল তাদেরই জন্য। মূলত: আল্লহ যা জানেন, তোমরা তা জান না। (২/২৩২)

আমি আশা করি উপরের কথার অর্থ বুঝতে কারো কোন অসুবিধা হয়নি। তাই আমি এখন দুই এবং দুইবার শব্দটি নিয়ে আলোচনা করব ইনশা আল্লহ। মনে করি কোন দুইজন লোক সকালে কোথাও নাস্তা কিনতে গেল। দুই ব্যক্তিই তিনটি করে কলা কিনল। প্রথম ব্যক্তি সেখানে বসে একই সময়ে তিনটি কলা খেয়ে ফেলল। দ্বিতীয় ব্যক্তি সকালে একটি, দুপুরে একটি এবং রাত্রে একটি কলা খেল। আমার প্রশ্ন হল: প্রথম ও দ্বিতীয় ব্যক্তিকে যদি প্রশ্ন করা হয় যে, কতটি কলা খেয়েছেন?  তারা উভয়েই উত্তর দিবে যে, “তিনটি”। আবার যদি প্রথম ব্যক্তিকে প্রশ্ন করা হয় যে, কতবার কলা খেয়েছেন?  সে উত্তর দিবে “একবার”। দ্বিতীয় ব্যক্তিকে যদি প্রশ্ন করা হয় যে, কতবার কলা খেয়েছেন?  সে উত্তর দিবে “তিনবার”। এই উত্তর দ্বিমুখী হওয়ার পিছনে কারণ হল, প্রথম ব্যক্তি তিনটি কলা একবারেই খেয়ে ফেলেছে, আর দ্বিতীয় ব্যক্তি তিনটি কলা তিনবারে খেয়েছে। যার ফলে উত্তর হয়েছে দুই প্রকারের।

তাহলে মহান আল্লহ রব্বুল আলামীন যেখানে বলেছেন “তিনবার” সেখানে আমরা কেন “তিন” ব্যবহার করি। তিন আর তিনবার কি এক বিষয়?  বাংলা ভাষায় তিন হল অঙ্কের সংখ্যা, আর তিনবার হল সময়ের কোন ধাপ বা নির্দিষ্ট পর্যায়কে বুঝায়। অতএব এক-যায়গায় দাঁড়িয়ে একই সময়ে কেউ যদি একশত তালাকও দেয়, তাহলে অংকের সংখ্যায় সেটি একশত তালাক হলেও ব্যাকরণের ভাষায় একবার তালাক হিসাবেই বুঝাবে। যেমন কেউ যদি ২০টি কলা একই সময়ে খায়, তাহলে তাকে একবার খাওয়াই বুঝায়। অপর পক্ষে মাত্র দুইটি কালাও যদি পৃথক দুই সময়ে খায়, তাহলে তাকে দুইবার খাওয়াই বুঝায়। একই সাথে যেমন কোন খাদ্যই অধিক পরিমাণে খাওয়ার জন্য কোন চিকিৎসক অনুমতি দেয় না, তেমনি একই সাথে একাধিক তালাক দেওয়াও রসুল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অত্যন্ত জঘন্য হিসাবে সাব্যস্ত করেছেন। বরং যদি সংসার কারো দ্বারা সম্ভব নাই হয়, তাহলে তিন তোহরে তিন তালাক দেয়ার কথাই তিনি উত্তম তালাক হিসাবে বর্ণনা করেছেন। এখানে উল্লেখ্য যে, তিনটি তোহরে তিনটি তালাক দিলে সব মিলিয়ে তিনবার তালাক দেয়া হয়। এখানেও কিন্তু সংখ্যার দিকে না তাকিয়ে বরং তালাকের ধাপের দিকে তাকানো হয়েছে। অতএব তালাক প্রদানকারী তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেয়ার ক্ষমতা রহিত হওয়ার জন্য অবশ্যই তিনটি ধাপ হল মূল সর্ত। কাজেই কেউ একসাথে যদি তিন তালাক দেয়, তাহলে তা হবে একবার তালাক, তিনবার তালাক নয়। এই ব্যাপারে ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইটটিতে ব্লাউজ করে আরও বিস্তারীতভাবে জানতে পারবেন।

তালাকের ব্যাপারে আমাদের দেশে বেশ বড় ধরনের সমস্যাই মাঝে মাঝে দেখা যায়। তখন আরও দেখা যায় নতুন নতুন স্বার্থপর ফতোয়াবাজদের অর্থ-বিহীন ফতোয়ার ধাক্কা। আসলে কুর’আন-হাদিস যতদিন থাকবে, ফতোয়াও ততদিন থাকবে। বর্তমান অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে একমাত্র ফতোয়ার মাধ্যমেই কেবল যে কোন একটি বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া সম্ভব। ফতোয়া না থাকলে ঢাকার মানুষ মরার পরে কবর দেয়ার মতন যায়গা খুঁজে পেত না। তালাকের বিষয়টি নিয়ে আমি একসময় মিশরের একজন আলেমের সাথে সরাসরি কথা বলে জানতে পারলাম যে, তাঁদের দেশে তিন তোহর হিসাবে চার মাসকেই বেশি গুরুত্ব দেয়। তবে আমাদের দেশের মত সবাই ফতোয়া দেয়ার ক্ষমতা রাখে না। আর তাদের দেশে একবার তালাক দিলেই কন্ট্রাক্ট করে হিল্লা নামক ভণ্ডামি ব্যবস্থার কোন লেশ মাত্র নেই। প্রশ্ন থাকতে পারে যে, মুসলিম দেশ হওয়া সত্ত্বেও হিল্লার ব্যবস্থা নেই কেন?  উত্তর হল- তারা সবাই আরবি ভাষার মানুষ হওয়া কারণে আমাদের মতন এত বেশি বুঝে না বা বুঝতে চেষ্টাও করে না। তাছাড়া তারা প্রাথমিক যুগের মুসলমানের দেশের অধিবাসী।

সূরা বাক্কারার ২৩০ নং আয়াতের সমর্থনে যারা হিল্লার ফতোয়া প্রদান করেন, তারা তিন আর তিনবারের পার্থক্য সম্বন্ধে ব্যাকরণিক ধারনা রাখেন না এবং ২৩০ নং আয়াতের পরে ২৩২ নং আয়াত কেন নাজিল হয়েছে, তাও জানেননা। কাজেই এই ব্যাপারে অবশ্যই কিছু লেখা দরকার বলে মনে করি। তাই প্রকৃতপক্ষে সূরা বাক্কারার ২৩২ নং আয়াত নাজিলের ব্যাপারে হাদিসের বক্তব্য জানা এবং সে অনুসারে আমল করাই হল প্রথম এবং মূল কাজ।

Bukhari Volumn 007, Book 063, Hadith Number 248.

—————————————–

Narated By Al-Hasan : The sister of Ma’qil bin Yasar was married to a man and then that man divorced her and remained away from her till her period of the ‘Iddah expired. Then he demanded for her hand in marriage, but Ma’qil got angry out of pride and haughtiness and said, “He kept away from her when he could still retain her, and now he demands her hand again? ” So Ma’qil disagreed to remarry her to him. Then Allah revealed: ‘When you have divorced women and they have fulfilled the term of their prescribed period, do not prevent them from marrying their (former) husbands.’ (2.232) So the Prophet sent for Ma’qil and recited to him (Allah’s order) and consequently Ma’qil gave up his pride and haughtiness and yielded to Allah’s order.

উপরোক্ত হাদিসে দেখা যাচ্ছে যে, মাকিল ইবনে ইয়াসার (রা:)এর বোনকে তার স্বামী তালাক দিলে সে যথা নিয়মে ইদ্দত শেষ করে। তার পর সে স্বামী পুনরায় তাকে বিবাহের প্রস্তাব করলে মাকিল ইবনে ইয়াসার (রা:) তার উপরে ক্ষেপে যান এবং তার সাথে আর পুনরায় বিবাহ না দেয়ার জন্য শপথ করেন। তখন এই আয়াত (যদি তারা পরস্পরে সম্মতি হয়, তাহলে পূর্ব স্বামীর সাথে বিবাহে তোমরা বাধা দিও না) নাজিল হয় এবং রসুল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন মাকিল (রা:) কে ডেকে পাঠান এবং এই আয়াত তিলাওয়াত করে শুনান। অতঃপর মাকিল (রা:) তার শপথ ভঙ্গ করেন এবং তার বোনের পূর্ব স্বামীর সাথেই আবার তাকে বিবাহ দিয়ে দেন। এই ক্ষেত্রে কি মাকিল (রা:) বা রসুল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিল্লার ব্যাপারে কোন প্রশ্ন তুলেছিলেন?  হিল্লা কখন দিতে হবে, সে বিষয়ে কি তাঁদের চেয়ে আমাদের সময়ের মহা-বিজ্ঞ বা মহা-জান্তা মাওলানারা বেশি জানে?  (নাউজুবিল্লাহ)

উপরের তালাকে শুধুমাত্র একটাই ব্যাপার, তাহলো যদিও সেখানে স্ত্রী তিন তোহর বা ইদ্দত পূর্ণরূপে শেষ করেছিল; কিন্তু সে তালাক ছিল একবার। যার কারণে অন্য কোথাও বিবাহ বা হিল্লা ছাড়াই সে বিবাহ আবার স্ত্রীর জন্য তার পূর্বের স্বামীর সাথেই সম্পন্ন সম্ভব হয়েছিল। বর্তমানে আমাদের দেশে যদি কোনভাবে কোন পুরুষ তার স্ত্রীকে একবার তালাক দিয়ে ফেলে, আর এই কথা দুই-একজনে শুনতে পায়, তাহলে আর অশিক্ষিত মূর্খ আলেমদের নতুন নতুন বিধান প্রদান করতে কোন সমস্যা হয় না। অবশ্য বেশি টাকা-পয়সার মালিক হলে সে আলেমদের মাসয়ালা কিনতে তেমন একটা বেশি টাকার প্রয়োজন হয় না। যত সমস্যা হয় গরীব মানুষদের। অর্থাৎ হিল্লা কিভাবে এবং কোথায় দিবে অথবা দোররা কিভাবে মারবে ইত্যাদি ইত্যাদি পরিকল্পনা। তবে এখানে একটা বুঝার বিষয় আছে, তাহলো তালাক দাতা স্বামী যদি সে স্ত্রীকে তিন রজঃস্রাব ইদ্দত পালনের মধ্যেই গ্রহণ করে, তাহলে সূরা বাক্কারার ২২৮ নং আয়াত অনুসারে আর পুনর্বিবাহের দরকার নেই। অর্থাৎ শুধু মাত্র গ্রহণ করে নিলেই হবে। তবে যদি ইদ্দত শেষ হয়ে যায়, তাহলে ২৩২ নং আয়াত অনুসারে অবশ্যই একই স্বামীর সাথেই পুনরায় বিবাহ পড়াতে হবে। যেমন মাকিল (রা:), র বোনের বেলায় হয়েছিল।

অতএব আমি সে সকল আলেম এবং প্রধানদেরকে অনুরোধ করব যে, একটা সংসার অনেক দিন ধরে চলার পথে হয়ত পথিমধ্যে কোন দুর্ঘটনা স্বরূপ তালাকের মত ঘটনা সমাজে ঘটতেই পারে, তাই বলে মাসয়ালা না বুঝে বিধানকে অন্য পথে পরিচালিত করবেন না। দুর্ঘটনা স্বরূপ তালাক হতে পারে মর্মেই কমপক্ষে “মাররাতান” বা দুইবার কোন প্রকার সর্ত ছাড়াই সে স্ত্রীকে গ্রহণের সুযোগ আল্লহ তায়ালা মানুষকে দিয়েছেন। অথচ আমরা মানুষকে বিপদে ফেলার জন্য দুইবার –তো পরেই থাকুক, একবার তালাক দিলেই হিল্লার মত কঠিন এবং ঘৃণিত ব্যবস্থা করতেও দ্বিধা করি না। সূরা বাক্কারার বর্ণিত গরু যদি বনি ইসরাইল-গন প্রথমেই কুরবানি দিত, তাহলে কিন্তু আর এত সর্ত দেয়া হত না। কাজেই আল্লহ যে বিষয় মানুষের জন্য সহজ করেছেন, একজন মানুষ হয়ে সে বিষয়ে বেশি বারা-বারি করা মোটেও ঠিক না। বাংলাদেশের কোন মানুষ তার স্ত্রীকে তালাক দিয়েছে আবার গ্রহণ করেছে, এই ধরনের তিনবার তালাক দেয়া লোকের কোন গল্পও আমি শুনিনি। আর এই জন্যই মিডিল ইষ্টের দেশসমূহে হিল্লা নামক শব্দই শুধুমাত্র আছে, কিন্তু তিনবার কোন তালাক না হওয়াতে হিল্লার ব্যবহার মোটেও নেই। আগের মানুষ বিয়ে করত বেশি, তাই তালাক দিতেও সময় লাগত না, আবার গ্রহণের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতেও সময় লাগত না। তাই এই হিল্লা নামক অপমানকর বিষয়ের ব্যবস্থা কুর’আনে বিদ্যমান আছে। আর এই জন্যই চুক্তির মাধ্যমে যে হিল্লার বিবাহ করে, তাকে রসুল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম “ভাড়াটিয়া পাঠা” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বিবাহ করে আবার তাকে ছেড়ে দিবে বা তালাক দিবে প্রথম স্বামীর জন্য, এই চুক্তি সরাসরি হারাম; যদিও সহবাস করা হয়।

তালাক সংশ্লিষ্ট তিনটি মূল আয়াতের ইংরেজি অনুবাদ:

(229. The divorce is twice, after that either you retain her on reasonable terms or release her with kindness. And it is not lawful for you (men) to take back (from your wives) any of what you gave them (the Mahr, bridal-money given by the husband to his wife at the time of marriage), except when both parties fear that they would be unable to keep the limits ordained by Allah (e.g., to deal with each other on a fair basis). Then if you fear that they would not be able to keep the limits ordained by Allah, then there is no sin on either of them if she gives back (the Mahr or a part of it). These are the limits ordained by Allah, so do not transgress them. And whoever transgresses the limits ordained by Allah, and then such are the wrongdoers.)

(230. And if he has divorced her (the third time), then she is not lawful unto him thereafter until she has married another husband. Then, if the other husband divorces her, it is no sin on both of them that they reunite, provided they feel that they can keep the limits ordained by Allah. These are the limits of Allah, which He makes plain for the people who have knowledge.)

(232. And when you have divorced women and they have fulfilled the term of their prescribed period, do not prevent them from marrying their (former) husbands, if they mutually agree on reasonable basis. This (instruction) is an admonition for him among you who believe in Allah and the Last Day. That is more virtuous and purer for you. Allah knows and you know not.)

আমি আপনাদের অবগতির জন্য তাফসিরে ইবনে কাছির থেকে সূরা বাক্কারার ২৩২ নং আয়াত নাজিলের কারণ তুলে ধরলাম:

The Reason behind revealing the Ayah (2:232)

It was reported that this Ayah was revealed about Ma`qil bin Yasar Al-Muzani and his sister. Al-Bukhari reported in his Sahih, when he mentioned the Tafsir of this Ayah (2:232), that the husband of the sister of Ma`qil bin Yasar divorced her. He waited until her `Iddah finished and then asked to remarry her, but Ma`qil refused. Then, this Ayah was sent down:

(…do not prevent them from marrying their (former) husbands.)

Abu Dawud, At-Tirmidhi, Ibn Abu Hatim, Ibn Jarir and Ibn Marduwyah and Al-Bayhaqi reported this Hadith from Al-Hasan from Ma`qil bin Yasar. At-Tirmidhi rendered this Hadith authentic and in his narration, Ma`qil bin Yasar gave his sister in marriage for a Muslim man during the time of Allah’s Messenger. She remained with him for a while and he divorced her once and did not take her back until her `Iddah finished. They then wanted to get back with each other and he came to ask her for marriage. Ma`qil said to him, “O ungrateful one! I honored you and married her to you but you divorced her. By Allah! She will never be returned to you.” But Allah knew his need for his wife and her need for her husband and He revealed:

(And when you have divorced women and they have fulfilled the term of their prescribed period, ) until He said:

(…and you know not.)

When Ma`qil heard the Ayah, he said, “I hear and obey my Lord.” He then summoned the man and said, “I will honor you and let you remarry (my sister).” Ibn Marduwyah added (that Ma`qil said), “And will pay (the expiation) for breaking my vow.”

Allah said:

(This (instruction) is an admonition for him among you who believe in Allah and the Last Day.) meaning, prohibiting you from preventing the women from marrying their ex-husbands, if they both agree to it,

(among you) O people,

(Who believes in Allah and the Last Day?) Meaning believes in Allah’s commandments and fears His warnings and the torment in the Hereafter. Allah said:

(That is more virtuous and purer for you.) meaning, obeying Allah’s Law by returning the women to their ex-husbands, and abandoning your displeasure, is purer and cleaner for your hearts,

(Allah knows) the benefits you gain from what He commands and what He forbids.

(And you know not) the benefits in what you do or what you refrain from doing.

যদিও উত্তম বিষয়টি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনই ভাল জানেন, তারপরও এ বিষয়ে আরও অধিক জানার জন্য ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন:

http://www.islam-qa.com/en/ref/99970/divorce

http://www.islamicity.org/dialogue/Q366.HTM

http://www.islam-qa.com/en/ref/158115/three%20times%20talaq

http://www.islam-qa.com/en/ref/109245

 

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *