দাড়ি, গোঁফ, জুব্বা, এবং টুপির ধর্মীয় নীতিমালা না মানা

8

দাড়ি, জুব্বা অথবা টুপির মধ্যেই ইসলাম ধর্মের বহিঃপ্রকাশ নিহিত নয়। কারণ: এই সকল বিষয়গুলো বিধর্মীদের মধ্যেও প্রচলন আছে। তবে মুসলমান এবং  মুশরিকদের মধ্যে অবশ্যই প্রতিটি বিষয়ের পার্থক্য বিদ্যমান। গোঁফ ছাঁটা এবং  দাড়ি ছাড়া অর্থাৎ লম্বা করা সম্বন্ধে বেশ কয়েকটি সহিহ্ হাদিস আছে। দাড়ি এক মুষ্টির নীচে রাখার কোন প্রকার সুযোগ ইসলামে নেই; যদি না সে ব্যক্তি শারীরিক ভাবে অসুস্থ হয়। দাড়ি এক মুষ্টির নীচে রাখা যেমন বৈধ নয়, ঠিক তেমনি হিন্দু যোগী অথবা খৃষ্টান যাজকদের মত দাড়ি এই কেবারে বিশাল লম্ব করাও ইসলাম সমর্থন করে না। নবী সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিভিন্ন সময় অবস্থাভেদে বলেছেন যে, “তোমরা সবসময় মুশরিক এবং  কিতাবিদের থেকে বিপরীত করবে”। তাছাড়া সহিহ হাদিস কর্তৃক স্বীকৃত যে, “হযরত ইবনে ওমর (রা:) হজ্জ এবং  ওমরার পরে এক মুষ্টির উপরের দাড়ি কেটে ফেলতেন”। এইরকম অতি নির্ভরশীল বা প্রথম শ্রেণীর একজন সাহাবীর উদাহরণই আমাদের মুসলমানদের জন্য যথেষ্ট। সুতরাং এক মুষ্টির নীচে দাড়ি রাখাও যেমন মুশরিকদের অনুকরণ, ঠিক এক মুষ্টির চেয়ে বেশী বড় দাড়ি রেখে অগোছালো থাকাও মুশরিকদের অনুকরণেরই বহিঃপ্রকাশ।

এখানে আরও উল্লেখ থাকে যে, মোচ কোন অবস্থায়ই ব্লেড বা ক্ষুর দিয়ে চাঁছা যাবে না, বরং কেঁচি দিয়ে ছাটতে হবে। এটা সরাসরি হাদিসের নির্দেশ। কিছু কিছু মানুষ আবার খুব ছোট কেঁচি দিয়ে এমন করে মোচ ছোট করে ছাটে যে, সেগুলো চাঁছা না ছাটা তা বুঝার কোন উপায় থাকেনা। এই ধরনের মোচ ছাটা মোটেও ঠিক নয়। এই ধরনের ছাটা আর চাঁছার মধ্যে কোন পার্থক্যই নেই। এটা হল রসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের  বিধানের সাথে কৌশলগত মশকারা করা। কারণ: মোচ ছাটতে হবে ঠিকই, তবেয়ের মুখ্য উদ্দেশ্য হল যাতে মোচের ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের চামড়া দেখা গেলেও তার যে মোচ আছে অর্থাৎ সে যে মহিলা নয়, সে বিষয়টি যেন দাড়ি ছাড়াই শুধুমাত্র মোচ দেখেই বুঝা যায়। মোটকথা হল কিছুটা দূর থেকেও যেন তার মোচের রেখাটা স্পষ্ট দেখা যায়।

বর্তমানে কিছু মানুষ হজ্জ করে এই সে অথবা অনেকে আবার ফ্যাশন স্বরূপ এত বড় লম্ব জুব্বা পরে যে, মাটি ছেঁচছিয়ে যায়। হাদিসে আছে, “টাকনার নীচে যে অংশ কাপড় আবৃত থাকবে, সে অংশ জাহান্নামে যাবে” অতএব, যারা টাকনার নীচে প্যান্ট/পায়জামা পরিধান করেন, তারা হাদিস অমান্য করার প্রতিফলের জন্য প্রস্তুত থাকুন। রসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের  কোন কথাই কখনও মিথ্যা হতে পারেনা। জুব্বার ব্যাপারে সর্বোত্তম মাপ হল হাঁটু এবং  টাকনার মাঝা-মাঝি পরিমাণ লম্বা রাখা। তবে আরও একটু বেশী লম্বা করলেও ফকীহ্ গন দ্বিমত পোষণ করেননা, কিন্তু কোন অবস্থায়ই টাকনা ঢাকা যাবে না। এখানে আরও একটি বিষয় জানা দরকার যে মিডল ইস্টে তারা লম্ব জুব্বা পরিধান করে। সে সাথে তাদের নামাজের সারির দূরত্ব মসজিদের ভিতরেও অনেক বেশি। আমাদের মত আড়াই হাত বা পৌনে তিন হাত দূরত্বে তাদের মসজিদের সারি নির্ণয় করা হয় না। যার ফলে আমাদের দেশে অনেক সময়ই দেখা যায় যে, সেজদা থেকে উঠার সময় সামনের ব্যক্তির জুব্বার সাথে বেধে পিছনের ব্যক্তির টুপি পরে যায়।

পুরুষের জন্য দাড়ি-গোঁফ যথানিয়মে রাখা আল্লহর সমষ্টিগত পাকৃতিক ব্যাপার। আর যে পুরুষ দাড়ি- গোঁফ শেভ করে মহিলার মত হয়ে গেল, সে সূরা নিসার য়ের ১১৯ নং আয়াত অনুসারে আল্লহর সৃষ্টির রূপ পরিবর্তন করে শয়তানের আদেশকে মান্য করলো। মহান আল্লহ রব্বুল আলামীন শয়তানের কথাকে উল্লেখ করে বলেন, “আল্লহ তাকে লানত করেন এবং  সে বলে, আমি অবশ্যই তোমার বান্দাদের এক নির্দিষ্ট অংসকে আমার অনুসারী করে নিব। আমি তাদেরকে পথভ্রষ্ট করবই, তাদের হৃদয়ে মিথ্যা বাসনার সৃষ্টি করবই, আমি তাদেরকে নিশ্চয়ই নির্দেশ দিব, আর তারা পশুর কর্ণ ছিদ্র করবেই এবং  তাদেরকে নিশ্চয়ই নির্দেশ দিব, আর তারা আল্লহর সৃষ্টি বিকৃত করবেই”। তাই আল্লহর আদেশকে অমান্য করে যারা শয়তানের আদেশকে অনুসরণ করে, তাদের কি হতে পারে-এটা সবাই জানে।

আর টুপির ব্যাপারটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। কারণ: নবী সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কেমন টুপি পরেছেন, তার কোন সরাসরি হাদিস নেই। যার ফলে টুপি নিয়ে বেশী বাড়া-বাড়ি করা মোটেও ঠিক নয়। মুসলমান এবং  মুশরিকদের মধ্যে আলোচ্য বিষয়গুলোর যথেষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান যেমনঃ

  (১) মুসলমান-গন দাড়ি এক মুষ্টির নীচেও রাখবে না এবং  এক মুষ্টির চেয়ে খুব বড়ও করবেনা। অপর পক্ষে মুশরিকগন সাধারণত দাড়ি রাখে না যখন দাড়ি রাখে, তখন আর কাটে না/ছাঁটে না।

  (২) মুসলমান-গন গোঁফ সব সময় কেঁচি দিয়ে ছাঁটবে, আর মুশরিক গন ব্লেড বা ক্ষুর দিয়ে মসৃণ করে শেভ করবে।

  (৩) যে সকল মুশরিক দাড়ি রাখবে, সে আর কখনো গোঁফ কাটবে না।

  (৪) যে সকল মুশরিক টুপি মাথায় দিবে, সে আর কখনো দাড়ি-গোঁফ রাখবে না।

  (৫) যে সকল মুশরিক জুব্বা পরবে, সে কখনো দাড়ি-গোঁফ কাটবে না ও জুব্বা অনেক লম্বা থাকবে। সে সাথে তারা ক্রস চিহ্নও ব্যবহার করবে।

  (৬) যে সকল মুশরিক পাঞ্জাবী পরবে, তারা কখনোই টুপি মাথায় দিবে না।

মোট কথা হল মুসলমান-গন কখনই মুশরিকদের অনুকরণীয় কোন পোশাকই পরিধান করবেনা। আর আধুনিক নামধারী মুসলমান-গন মুসরিকদের অনুকরণ করাটাই যুগের জন্য সবচেয়ে বড় ফ্যাশন হিসাবে মনে করে। কাজেই দাড়ি, টুপি, জুব্বা ইত্যাদি থাকলেই একজন লোককে মুসলমান মনে করা যাবে না। বরং তার সকল পোশাক ও শরীরের শোভা সুন্নত তরিকার উপর আছে কি-না, সেটাই হল সর্ব প্রথমে দেখার বিষয়। তখন তাঁকে কিছু জিজ্ঞাসা করা ছাড়াই শুধুমাত্র দেখেই বলে দেয়া যাবে যে, লোকটি একজন সাচ্চা মুসলমান। যদিও উত্তম বিষয়টি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনই ভাল জানেন, তারপরও এ বিষয়ে আরও অধিক জানার জন্য ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন:

http://www.islam-qa.com/en/ref/1169/difference

http://en.allexperts.com/q/Islam-947/2008/7/length-beared.htm

http://www.islamqa.com/en/ref/9977

http://www.islamqa.com/en/ref/48960/beard%20for%20muslim

http://www.allexperts.com/user.cgi? m=6&catID=947&expID=69836&qID=4966567

http://www.islam-qa.com/en/ref/2436/covering%20head

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *