ধর্ম-বহির্ভূত নিয়মে বিধর্মীদের সাথে সালাম/শুভেচ্ছা বিনিময় করা

107

রসুল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিধর্মীদেরকে স্ব-ইচ্ছায় সালাম দেয়া সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে বিধর্মী-গন যখন বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারি দায়িত্বে থাকে, তখন বাধ্য হয়েই তাদেরকে অভিবাদন জানাতে হয়। সে সময় অবশ্যই কিছু নীতি মালা মানার দরকার আছে। যেমন:

১। কোন হিন্দুকে আসসালা-মুয়ালাইকুম অথবা নমস্কার বলে সম্বোধন করা যাবে না। সালাম না দেয়ার কারণ: মুসলমান ছাড়া কাউকে সালাম দেয়া যায় না। নমস্কার বলা যাবে না এই জন্য যে, নমস্কারের সংক্ষেপিত রূপ নম: শব্দটি হিন্দু-গন তাদের ধর্মীয় ক্ষেত্রে ব্যবহার করে থাকে। যেমনি ভাবে ‘জয়’ শব্দটি তাদের সকল ধর্মীয় কাজে ব্যবহার হয়, যেমন: জয় মা কালী, জয় রাধা, জয় গুরু, জয় হিন্দ (হিন্দুস্থান) ইত্যাদি। তাছাড়া হিন্দু-গন অপর হিন্দুদেরকে নমস্কার শব্দ দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়। তবে তাদেরকে শুভেচ্ছা স্বরূপ আদাব বলা যাবে। কারণ: হিন্দু-মুসলিম অধ্যুষিত ভারতীয় বাংলাভাষী এলাকায় উভয় ধর্মের একসাথে বসবাস করার কারণে তাদের মধ্যে শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যম হিসাবে উভয় ধর্মের ধর্মীয় নেতা-গন মিলে নিজস্ব ধর্মের শুভেচ্ছা বানী বাদ দিয়ে বাংলা ভাষার আদব শব্দের ‘দ’য়ের সাথে আকার যোগ করে আদাব শব্দের সৃষ্টি করেন। এতে কারো ধর্মের ধর্মীয় প্রাধান্য বা হেয় প্রতিপন্ন অথবা ধর্মীয় বিধান জনিত সমস্যা সৃষ্টি না হওয়ায় তখন থেকেই আদাব শব্দ প্রচলিত হয়ে আসছে। অতএব হিন্দুদেরকে আদাব বলাতে কোন সমস্যা নেই। বৌদ্ধদের জন্যও একই নিয়ম পালন করত হবে।

২। যদি সে ব্যক্তি খৃষ্টান হয়, তাহলে তাকে যে সময়ে শুভেচ্ছা জানানো হবে, স্থানীয় ভাবে সে সময়ের উপর ভিত্তি করে অর্থাৎ গুড মর্নিং, গুড নুন, গুড আফটারনুন, গুড ইভনিং অথবা গুড নাইট বলে সম্বোধন জানাতে হবে। অবশ্য সম্প্রতি বাংলা ভাষায় ‘গুড’য়ের যায়গায় ‘শুভ’এবং ইংরেজি সময়ের স্থানে বাংলাতে সময় ব্যবহার হয়ে আসছে, যেমন শুভ সকাল, শুভ সন্ধ্যা ইত্যাদি।

৩। যদি সেখানে বিধর্মীদের সাথে মুসলমানও হাজির থাকে, তাহলে বিধর্মীদের সম্ভাষণ বাদ দিয়ে বলতে হবে: “আসসালা-মুয়ালাইকুম মানিত্তাবায়াল হুদা”।

৪। কোন হিন্দু অথবা বিধর্মী যদি বলে আসসালামুয়ালাইকুম, তাহলে প্রত্যুত্তরে ওয়া আলাইকুমুসসালাম না বলে বলতে হবে ওয়ালাইকুম।

৫। কোন হিন্দু যদি বলে যে নমস্কার, প্রত্যুত্তরে বলতে হবে আদাব।

বর্তমানে যারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকুরী রত আছেন, তাঁরা তাঁদের মুশরিক বসকে সরাসরি আসসালামু-য়ালাইকুম বলে থাকেন। অতএব নিঃসন্দেহে তারা রসুল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিষেধের বিপরীতে বা ভুল পথে আছেন। এই ক্ষেত্রে অবশ্য তাদেরকে আদাব বলে সম্বোধন করা উচিৎ। আর যারা চামচামিতে লিপ্ত থাকবেন, তাদের জন্য কোন পরামর্শ নেই। যদিও উত্তম বিষয়টি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনই ভাল জানেন, তারপরও এ বিষয়ে আরও অধিক জানার জন্য ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন:

http://www.islamqa.com/en/ref/6583/fair%20bid’ah

 

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *