নামাজে শ্বাস গ্রহণের সময় দোয়া-কালাম পড়া

128

প্রতিটি প্রাণীর জীবন এবং যন্ত্রের কার্যকারিতার সময় পার হওয়ার জন্য একটা শক্তির প্রয়োজন পড়ে। তেমনি মানুষের দেহ পরিচালিত হওয়ার জন্য প্রয়োজন হয় পানি, খাদ্য, বাতাস এবং তাপের। মানুষের কণ্ঠ থেকে আওয়াজ বের হওয়ার জন্য সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বাতাস। অর্থাৎ মানুষ শ্বাস হিসাবে বাতাস গ্রহণ করে এবং পরে সেই বাতাস ভোকাল কর্ডের সাহায্যে কম্পনের সৃষ্টি করে শব্দের উৎপত্তি করে। অতএব মানুষ যখন বাহির থেকে উন্মুক্ত বাতাস শ্বাস হিসাবে নাক দিয়ে টেনে নেয়, সে সময় কারো দ্বারা কথা বলা সম্ভব হয় না। তাহলে সে পরিস্থিতিতে কিভাবে ধর্মীয় দোয়া পাঠ করা যায়। আমাদের দোয়াগুলো কি আল্লহর সাথে কথা বলা নয়?  আমাদের উচ্চারণগুলো কি তাহলে শব্দ নীতিমালা থেকে আলাদা বিষয়?  মোটেও না।

হাদিসে আছে, “মু’মিন-গন যখন মসজিদে ইবাদতে রত থাকে, তখন সেখানে মৌমাছির মত আওয়াজ হতে থাকে”। বর্তমানে সাধারণ মুসুল্লি-গন কর্তৃক মসজিদে থাকার সময় কখনো থাকে দুনিয়াবি আলোচনা, আর নফল নামাজের সময়ও জামায়াতে নামাজের মত একেবারেই নীরব। অন্যত্র সামুরা ইবনে জন্দুব (রা:)রসুল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দুইটি নীরবতা সম্বন্ধে বলেন, “যখন সালাতে প্রবেশ করতেন এবং যখন কিরায়াত শেষ করতেন”।  তখন তিনি আরও বলেন, “কিরায়াত শেষে শ্বাস ঠিক হয়ে না আসা পর্যন্ত নীরব থাকা তাঁর (রসুল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিকট পছন্দনীয় ছিল”। এই হাদিস থেকেও বুঝা যায় যে, তিলাওয়াতের সময় মুখ বন্ধ না করে রেখে বরং শ্বাস ব্যবহার করে সঠিক উচ্চারণের মাধ্যমেই কেবল তিলাওয়াত করা উচিৎ। কোন ব্যক্তি যদি নিজে শোনার মত শব্দ করে কোন উচ্চারণ করতে থাকে, তাহলে সেখানে অবশ্যই ফিস-ফিস করে হলেও একটা আওয়াজ হতে বাধ্য। মহান আল্লহ রব্বুল আলামীন বলেন, “নিশ্চয়ই রাত্রিকালে উঠা প্রবৃত্তি দলনে সহায়ক এবং স্পষ্ট উচ্চারণের অনুকূল”। এখানে রাত্রির নামাজে কোর’আন তিলাওয়াত উচ্চ স্বরে করার জন্য আল্লহ তায়ালা নির্দেশ দিচ্ছেন। কারণ: আওয়াজ না করলে উচ্চারণ স্পষ্ট হবে কিভাবে?  তাছাড়া আওয়াজের মাধ্যমেই-তো শয়তানকে বিতরণ করা হয়।

উপরোল্লিখিত সকল তথ্যেই একটা বিষয় খুব ভালভাবে প্রমাণিত হয়, তাহলো যখন নামাজ পড়া হয়, তখন কণ্ঠ দিয়ে নিজে শোনার মত আওয়াজ করতে হয়। সেক্ষেত্রে যদি কেউ শ্বাস গ্রহণ করতে থাকে, তাহলে তার দ্বারা কিভাবে সে সময় আওয়াজ করা সম্ভব; কারণ: শ্বাস গ্রহণের মাধ্যমেই-তো মানুষ কণ্ঠে আওয়াজ করার জন্য শক্তি সঞ্চার করে থাকে। সুতরাং আজও যদি মু’মিন-গন তখনকার দিনের অনুকরণে শ্বাসের উত্তম ব্যবহার করে সকল দোয়া নিজে শোনার মত করে সবাই মিলে একইভাবে মসজিদে তিলাওয়াত বা দোয়া সমূহে আওয়াজ করে, তাহলে মৌমাছির মত শব্দ হওয়া সম্ভব। আর রাত্রির নামাজ বা তাহাজ্জুদ নামাজেও কোর’আনের নির্দেশ অনুসারে মোটামুটি আওয়াজ করে তিলাওয়াত করা উচিৎ। তাছাড়া রসুল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক শ্রবণ করা আবুবকর (রাঃ) এবং ওমর (রাঃ)এর তিলাওয়াতের আওয়াজ সমন্বয়ে রাত্রিকালে বা তাহাজ্জুদ নামাজে মধ্যম উচ্চ স্বরে আওয়াজ করে তিলাওয়াত করার জন্য রসুল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে নির্দেশ রয়েছে।

অধুনা মুসুল্লি-তো আছেই, অনেক ইমামকে দেখি যে, তাঁরা নামাজে সুরা বা দোয়া পড়তে থাকেন, অথচ মুখ বন্ধ করে সামনের দিকে তাকিয়ে থাকেন। অবশ্য তারা রুকু-সিজদা ঠিকই আদায় করে যাচ্ছে, কিন্তু তাদের মুখ থাকে বন্ধ। আমার জানা নেই তারা কোন বিধানের বলে এই ধরনের নামাজের নিয়ম পালন করে থাকেন। সুতরাং আপনারা যারা নামাজ আদায় করেন, তারা অবশ্যই এই বিষয়টি খেয়াল রাখবেন যে, যখন শ্বাস টেনে নিবেন, তখন কোন প্রকার আওয়াজ করবেন না। শ্বাস নেয়া শেষ হয়ে গেলে সে শ্বাসের শক্তিতে যতটুকু সম্ভব ততটুকু তিলাওয়াত বা দোয়া করে আবার নতুন ভবে শ্বাস নিয়ে শুরু করবেন। কোন অবস্থায়ই শ্বাস টেনে নেয়ার সময় মনে মনে তিলাওয়াত বা দোয়া করবেন না; যা বর্তমানের প্রায় ৯৫% মুসুল্লি করে যাচ্ছে। আসল কথা কি, কোর’আন হাদিস শুধু পড়লেই চলবে না। সেগুলোকে নিয়ে সঠিক আমলের জন্য কিয়ামত পর্যন্ত কিছু গবেষণাও করতে হবে। কারণ: কোর’আন হাদিস-তো শুধুমাত্র সাহাবিদের যুগের জন্য না। কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু হবে, তা-তো কোর’আন-হাদিসেরই অন্তর্ভুক্ত আছে। কাজেই সময়ানুসারে সেগুলো গবেষণা করে বের করে নিতে হবে। আর এই জন্যই তো নায়েবে রসুলদের সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত  গ্রহণের জন্য অনুমতি আছে। মহান আল্লহ রব্বুল আলামীন পাক কালামের বহু যায়গায় চিন্তাশীল, গবেষক, জ্ঞানী, বুদ্ধিমান, বিবেচক ইত্যাদি শব্দের ব্যবহার করেছেন। আর এর ভিতরেও রয়ে গেছে বিশাল রহস্য, যা আমরা জানি না। যদিও উত্তম বিষয়টি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনই ভাল জানেন, তারপরও এ বিষয়ে আরও অধিক জানার জন্য ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন:

http://en.allexperts.com/q/Islam-947/child-praying-praying-aloud.htm

http://en.allexperts.com/q/Muslim-Teens-3671/2008/7/animals-Quran-recitations-festivals.htm

 

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *