নামাজ পড়া ছাড়াই রোজার ফজিলত কামনা করা

129

আল্লহর রসুল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “মুমিন এবং কাফেরের মধ্যে একমাত্র বাহ্যিক পার্থক্য হল নামাজ”। সে অনুসারে যারা নামাজ পড়ে না, তারা নিঃসন্দেহে কুফরিতে লিপ্ত আছে। আর কাফিরের রোজা, যাকাত, হজ্জ কিছুই আল্লহর দরবারে কবুল হবে না। আমরা একটা উদাহরণ আনতে পারি, তাহলো কোন ব্যক্তি যত বুদ্ধিমানই হোক না কেন, যদি সে স্কুলে ভর্তি না হয়, তাহলে তাকে কেউ ছাত্র বলবে না, আর তার কোন সার্টিফিকেটও হবে না। ফলে কোন প্রকার চাকুরীতে ইন্টার্ভিউ দেয়ার যোগ্যতাই হবে না, চাকুরী পাওয়া-তো অনেক পরের কথা। আর যদি ছাত্রের খাতায় নাম থাকে, তাহলে আশা করা যায় যে, হয়ত পড়া-লেখা করলে একসময় সার্টিফিকেট হতে পারে। স্কুলে ভর্তি না হয়ে কিভাবে আশা করা যায় যে, শুধু মাত্র জ্ঞান অর্জন করেই সার্টিফিকেট লাভ করা যাবে?  আল্লহর কাছে-তো ঘুসের কারবার বা জ্বাল সার্টিফিকেটের ব্যবস্থা নেই। অতএব স্কুলে ভর্তি হওয়া যেমন ছাত্রের জন্য প্রথম কাজ, তেমনিভাবে মুমিনের জন্য প্রথম কাজ হল মহান আল্লহ রব্বুল আলামীন এর জিকিরের উদ্দেশ্যে নামাজির খাতায় নাম লেখানো। কাজেই নামাজ ছাড়া সব আমল-ই যে বৃথা, এই ব্যাপারে কারো কোন সন্দেহ থাকা উচিৎ নয়।

হাদিসের তথ্যানুসারে “এক ওয়াক্ত নামাজ কাজা করার জন্য দুই কোটি আটাশি লক্ষ বৎসর দোযখে থাকতে হবে”। আর রোজার বেলায় যারা সেহেরি খেয়ে সময় হওয়ার পূর্বেই রোজা ভেঙ্গে ফেলে, তাদের উদ্দেশ্যে রসুল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “আমি একসময় ঘুমচ্ছিলাম, হটাত দুইজন আগন্তুক এই সে আমার হাত ধরে টেনে তুলে একটি উঁচু পর্বতের কাছে নিয়ে বলল, “উপরে উঠুন”। আমি বললাম, আমি উঠতে পারি না। তারা বলল, “আমরা আপনাকে সাহায্য করব”। অতঃপর আমি পর্বতের চুড়ায় উঠলাম। সেখানে আমি আর্ত-চিৎকার শুনতে পেলাম। আমি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলাম, এটা কিসের আওয়াজ?  তারা বলল, “এটা হল দোযখ-বাসিদের আর্তনাদ”। আমাকে সেখানে নিয়ে যাওয়া হল এবং আমি দেখলাম যে, কিছু মানুষকে পায়ে রশি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে, আর তাদের মুখের কিনারা দিয়ে রক্ত গড়িয়ে পরছে। আমি বললাম, ওরা কারা?  তারা বলল, “এই রা হল তারাই , যারা রোজা রেখে সময় হওয়ার পূর্বেই রোজা ভেঙ্গে ফেলত”। তাহলে একবার চিন্তা করেই দেখুন, মোটামুটি ভাবে সারাদিন রোজা রেখেও শুধু একটু গুরুত্ব না দেয়াতেই যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে যারা মোটেও রোজা রাখে না, তাদের অবস্থা কি হবে?  আর যারা নামাজ ছাড়া শুধুমাত্র রোজা রাখে, তাদের অবস্থাই বা কি হবে?  মোট কথা হল নামাজ ছাড়া কোন প্রকার ইবাদতেই কোন কাজ হবে না; যদিও সেটা যত ভাল ইবাদতই হোক না কেন। মানুষের মাথা না থাকলে দেহের যেমন কোন মূল্য নেই, তেমনিভাবে কারো জিম্মায় নামাজ না থাকলে অন্য ইবাদত মূল্যহীন। যদিও উত্তম বিষয়টি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনই ভাল জানেন, তারপরও এ বিষয়ে আরও অধিক জানার জন্য ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন:

http://www.islam-qa.com/en/ref/49698

http://www.islam-qa.com/en/ref/38282

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *