নামাজ-রোজার ছকবাধা নিয়ত করাকে বাধ্যতামূলক মনে করা

52
আমরা মনে করে থাকি যে নামাজের জন্য নিয়ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যার কারণে নিয়তের দোয়া করতে যেয়ে সুদীর্ঘ সময় চলে যাওয়ার ফলে অনেক সময় চলমান রাকাতের রুকু শেষ হয়ে যায়, তারপরও নিয়তের দোয়া শেষ হয় না। অথচ সেই ব্যক্তি শুধুমাত্র আল্লাহু আকবার বলে নামাজ শুরু করলে নিঃসন্দেহে সেই রাকায়াতটি পেয়ে যেত। কিন্তু নিয়ত বাধ্যতামূলক মনে করার কারণেই সে অনেক ক্ষেত্রে ইমামের পিছে এক রাকায়াত নামায পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়। হাদিসে আছে, “যে ব্যক্তি জামায়াতে নামায আদায়ের উদ্দেশ্যে বাহির হয়, তাকে সেই জামায়াতের মধ্যেই শামিল করা হয়”। কাজেই নামাজের জন্য যে প্রস্তুতিটা নেয়া হয়, মূলত: তা-ই নিয়ত। এখানে একটা বিষয় জানানো যায়, তাহলো অসংখ্য হাদিস থেকে যখন ৪০ হাদিস আলাদা করা হয়েছে, তার মধ্যেও যে হাদিসটি প্রথমেই রয়েছে, তাহলো
“কর্মফল নিয়তের উপরই নির্ভরশীল”। আমাদের সেই আলোকে চিন্তা করতে হবে যে, আসলে নিয়তটা কি! নিয়ত হল সেই বিষয় যা কোন ব্যক্তি সম্পন্ন করার জন্য মনে মনে একটা পরিকল্পনা করে। আর মুখে যখন তা বলা হয়, তখন তাকে বলে সিদ্ধান্তের বহিঃপ্রকাশ। মুখে প্রকাশ সেই বিষয়ের বা জিনিসের জন্যই কেবল প্রযোজ্য, যা বাহিরে থেকে দেখা যায়। আর সেই ক্ষেত্রে কখনোই তা প্রযোজ্য নয়, যা বাহিরে থেকে দেখা যায় না। কাজেই ইসলাম ধর্মের ইবাদতের মধ্যে যে সকল বিষয়গুলো দোয়া বা কালামের সহযোগিতায় করা হয়, তার সবই হয় একমাত্র অদৃশ্য স্রষ্টা মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনের সন্তুষ্টির জন্য। কাজেই এই ক্ষেত্রে ছক-বাধা নিয়তের কোন প্রশ্নই আসে না।

আমার বাপ-দাদা কি করে গেছেন, তা আমার জন্য কখনোই বাধ্যতামূলক কোন আমল হতে পারে না; যদি সেই বিষয়টি কুর’আন হাদিসে লিপিবদ্ধ না থাকে। কাজেই আমি সারা জীবন নাওয়াইতুয়ান……………মুশরিকিন ইত্যাদি বলে নামাজ শুরু করলাম আর মনে মনে ভাবলাম যে, আমি বিশাল ধর্মীয় কাজ করছি। কারণ আমার দেশের আলেম সমাজের সবাই-তো এভাবেই নিয়ত করে, সুতরাং আমাকেও একই নিয়ম পালন করতে হবে। এখানেই হল আমাদের সবথেকে বড় অহমিকা। মনে রাখতে হবে যে, আমি যখন কবরে যাব, তখন আমার সাথে কোন আলেম বা আমার বাপ-দাদাদের কেউই যাবে না। আমার কবরের আমাকেই যেতে হবে এবং আমার হিসাব আমাকেই দিতে হবে। সুতরাং কোন আলেম কি করল অথবা আমার কোন শিক্ষক কি করল, সেটা আমার জন্য মুখ্য হওয়া উচিত নয়। আমার জন্য তাই হওয়া উচিত, যা কুর’আন হাদিসে ধর্মীয় আমল হিসাবে লিপিবদ্ধ আছে।

সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল আমরা যে পদ্ধতিতে নামাজে এবং রোজার মধ্যে নিয়ত করে থাকি, আল্লাহর রসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাহাবী (রাঃ) তাবেয়ী, তাবে-তাবেয়ী বা পরবর্তী সময়ের ইমাম-গন এই ধরনের কোন ধরা-বাধা বা ছক করা নিয়ত করে গেছেন কি-না। যদি যেয়ে থাকে তাহলে সেগুলো কোথায় লিপিবদ্ধ আছে? ইত্যাদি প্রশ্নের কোন উত্তরই মিলবে না। কারণ এই ধরনের ছক বাধা নিয়তের বিধান কোন ফরজ, ওয়াজিব বা সুন্নত কোনটাই না। আসলে আমরা জন্মের পর থেকে যেকোনো পদ্ধতিতে ধর্মীয় আমলকে দেখে দেখে শিখে থাকি। অনেক ক্ষেত্রেই তা সঠিক কিনা তা যাচাই করার মত সময়ই আমাদের থাকে না। দুনিয়াবি কাজের জন্য আমাদের সময় বের করা খুব সহজ হয়ে দাঁড়ায়, কারণ দুনিয়ার সবকিছুর চাক্ষুষ, অপর পক্ষে যে আশায় আমরা ধর্মীয় আমল করে থাকি, তার সবকিছুই কাল্পনিক বিশ্বাস বহন করে। হিন্দুদের ধর্মে বেশ কিছু মন্ত্র আছে, যা নিজস্ব ভাষায় করতে হয়। মুসলমানদের ধর্মীয় কার্যক্রমে যাকিছু করা হয়, তার প্রত্যেকটি বিষয়ই হাদিসে লিপিবদ্ধ আছে। আর যেগুলো নেই, সেই বিষয়ে নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, এগুলো আমাদের ধর্মীয় নেতৃত্ব দানকারী আলেম সমাজের সৃষ্টি। এই নিয়ত সংক্রান্ত দোয়াগুলোর অর্থ ভাল, তাইবলে এগুলোকে ধর্মীয় বিষয় বা অংশ মনে করা নিঃসন্দেহে গুনাহের কাজ। যে বিষয়গুলো আমাদের আমল করার কথা সেগুলোই করতে পারি না, তাহলে যে আমলের কোন ডকুমেন্ট নেই, সেই আমল করা কি আমাদের জন্য উচিত? মোটেও না। যদিও উত্তম বিষয়টি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনই ভাল জানেন, তারপরও এ বিষয়ে আরও অধিক জানার জন্য ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন:

http://www.islam-qa.com/en/13340 

http://www.islam-qa.com/en/13337 

 

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *