নিষিদ্ধ পদ্ধতিতে কবর বা মাজার যিয়ারত করা

93

কবর যিয়ারত করা ইসলামের একটি নির্দেশিত বিষয় হওয়া সত্ত্বেও বর্তমানে যে ধরনের যিয়ারত শুরু হয়ে গেছে, সেগুলো পরিপূর্ণ হারাম। যারা কিছুটা ধর্ম ভীতি নিয়ে থাকে, তথা অনিয়মিত হলেও সব সময় কিছুটা ধর্মীয় কাজ করে থাকে, তারা বিশেষ রাত্রি বা পবিত্র দিন সমূহে মসজিদের ইমাম বা মাদ্রাসা থেকে কিছু ছাত্র নিয়ে মৃত ব্যক্তির কবরের সামনে দাঁড়িয়ে মৃত ব্যক্তির জন্য কিছু দোয়া- দরুদ করে অবশেষে তাদেরকে কিছু তোবারক অথবা খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা করে। আর যারা অজ্ঞ, তারা নির্দিষ্ট দিন সমূহে ফুল দিয়ে মৃতের কবর কে সাজিয়ে আবার একজন হুজুর কে নিয়ে এই সে দোয়ার ব্যবস্থা করে। এই সকল পদ্ধতিতে কবর যিয়ারত করা সম্পূর্ণরূপে হারাম। ইসলাম আমাদেরকে কবর যিয়ারত করতে শিখিয়েছে; ফুল দিয়ে পূজা করতে শেখাননি।

সব থেকে বড় কথা হল আমরা যদি কেউ আমাদের পিতা-মাতার জন্য নিজে দোয়া করি, তাহলে যতটুকু কাজে লাগবে, অপর পক্ষে তামাম জাহানের সকল মুসলমান নারী-পুরুষ যদি এক সাথে আমাদের পিতা-মাতার জন্য দোয়া করে, তাহলেও ততটুকু কাজে লাগবে না। কারণ: কোন ব্যক্তি মৃত্যু বরন করার সাথে সাথেই তার সকল আমল নামা বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীর জন্য শুধুমাত্র তিনটি আমলের চলমান দরজা খোলা হয়ে থাকে, তার মধ্যে একটি হল মৃত ব্যক্তির সন্তান সমূহ। কবর যিয়ারত করার জন্য কোন বাধ্যতামূলক দোয়া বা সূরা নেই। আপনি কবর যিয়ারত করতে যেয়ে দাফন করা ব্যক্তির পাশে যেয়ে তাঁকে ছালাম দিবেন। অতঃপর আখিরাতের কথা স্মরণ করে ক্কিবলার দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করবেন সেই সাথে নিজের মৃত্যুর কথাও স্মরণ করবেন। কবরের পাশে দাঁড়িয়ে কোর’আনের কোন সুরা বা আয়াত পড়ার বিধান ফরজ সুন্নত-তো নয়ই, বরং মোস্তাহাব হিসাবেও কোন সহীহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত নেই। এখানে কোন হুজুরের দরকার নেই, বরং আপনি নিজের ভাষায় আপনার (মৃত) মা-বাবা সহ গুরুত্বপূর্ণ আত্মীয়, যাদের হক আপনার প্রতি আছে বা আপনি যাদের ওয়ারিশ, তাদের জন্যও দোয়া করবেন। মনে রাখবেন প্রচলিত পদ্ধতিতে ইমামকে দিয়ে বর্তমানে যে সকল কাজ করিয়ে নেয়া হয়, তার মধ্যে একমাত্র নামাজ আদায় ছাড়া কোন যায়গায়ই ইমামকে ব্যবহার করার বিধান ইসলামে নেই।

কবর যিয়ারতের নামে কিছু লোক কোন মাজারে যেয়ে সে পীর বা আউলিয়ার কাছে অনেক কিছু চেয়ে থাকে এবং তাদের সন্তুষ্টির জন্য বিভিন্ন প্রকার সাদকা বা মান্‌সিক করে থাকে। তারা সকলেই মনে করে যে, তাদের চাওয়া অনুসারে পীর-আউলিয়াদের দেয়ার মত সকল ক্ষমতাই আছে। আর তাদের এরূপ কল্পিত আকিদা সম্পূর্ণরূপে হারাম এবং শিরকী গুনাহ। প্রত্যেকেরই মনে রাখা উচিৎ যে, মানুষ মরে গেলে তার সকল ক্ষমতাই শেষ হয়ে যায়। পীর-আউলিয়া-গনও এই থেকে ব্যতিক্রম নয়। আল্লহর সর্ব শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি নবী সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লামের -ই এই সকল বিষয়ে কোন ক্ষমতা নেই, আর অন্য আত্মার যে কি ক্ষমতা আছে, তা নিজেরা চিন্তা করে বের করে নিবেন এবং পূর্বের শিরকী গুনা সমূহের জন্য আল্লহর কাছে ক্ষমা চাবেন। আল্লহ সর্বাবস্থায় বান্দার পাপ ক্ষমা করার জন্য অপেক্ষমাণ। যদিও উত্তম বিষয়টি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনই ভাল জানেন, তারপরও এ বিষয়ে আরও অধিক জানার জন্য ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন:

http://www.islam-qa.com/en/ref/93858/grave

http://www.islam-qa.com/en/ref/8198/grave

http://www.islam-qa.com/en/ref/6744/grave

 

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *