পহেলা বৈশাখ এবং এপ্রিল ফুল পালন করা

79

পহেলা বৈশাখ হয়ে গেছে বর্তমানে বাংলাদেশের জানের মেলা, প্রাণের মেলা। প্রায় সকলেই জানে যে, ফেনসিডিল কাঁসির জন্য একটা উচ্চ মানের ক্ষমতা সম্পন্ন ঔষধ। অথচ এই ক্ষমতা সম্পন্ন ঔষধটি বাংলাদেশে নিষিদ্ধ। তার জন্য একটাই কারণ, তাহলো আগে চিকিৎসক-গন ফেনসিডিলকে ঔষধ হিসাবে প্রেসক্রিপশন দিত, আর এখন নেশাখোর-গন ফেনসিডিলকে নেশার সামগ্রী হিসাবে সংগ্রহ করে। আর নেশা করা বা মাতাল হওয়া ইসলামে হারাম। একই ভাবে যদি সকালে কেহ ক্ষুধার তাড়নায় বা ক্ষুধা নিবারণের জন্য পান্তাভাত খায়, তাহলে তার জন্য পুরোপুরি তা হালাল। অপর পক্ষে কেউ যদি কোন দেবতার সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে পান্তাভাত খায়, তাহলে তা হবে কোন মুসলমানের জন্য হারাম। বৈশাখ মাসের নামকরণ করা হয়েছে আকাশের তারকা বিশাখাএর নামকরণের সাথে মিল রেখে। আর বিশাখা তারকা মুশরিকদের পূজার দেবতা। বৈশাখ মাসের প্রথম দিন পৃথিবীর সকল হিন্দু ধর্মানুরাগী-গন বিশাখা দেবতার উদ্দেশ্য পূজা দিয়ে থাকে। সুতরাং এটা হিন্দুদের পূজার একটি দিন।

পূর্বে এই বাংলা সনের নাম ফসলী সন হিসাবে পরিচিত ছিল। সম্রাট আকবর দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করার পর ফসলী সনকে বাংলা সালে রূপান্তরিত করার জন্য তদানীন্তন বিখ্যাত হিন্দু পণ্ডিতকে এই দায়িত্ব দেন। তখন চলমান যে আরবি সন ছিল, সে সনকে ঠিক রেখে ফসলী সনকে বাংলা সন হিসাবে প্রচলন করেন। প্রশ্ন হল, যেই সম্রাট তার সিংহাসনে আরোহণের সময়কে কেন্দ্র করে বাংলা সন প্রচলন করেছেন, তিনি যে শেষ পর্যন্ত মুসলমান ছিলেন, এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত পৃথিবীর সকল ঐতিহাসিক-গন একমত হতে পারেননি। তাঁর এক স্ত্রীর ঘরে সারা জীবন পূজা হয়েছে, আর এক স্ত্রীর ঘরে নামাজ হয়েছে। তিনি রসুল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইসলাম ধর্ম বাদ দিয়ে নতুন ধর্ম ‘দ্বীন এ ইলাহি’ শুরু করেছিলেন, যা কিনা ১০০% কুফরি। কিছু বড় বড় মসজিদ-মাদ্রাসা করলেই কেউ মু’মিন হতে পারেনা। মু’মিন হওয়ার জন্য দরকার হয় আল্লহ ভীতি ও সঠিক এই লেমের মধ্যমে পূর্ণ বিশ্বাস সহ নির্ধারিত আমলের।

এই সনের ব্যবস্থা এমনই ভঙ্গুর যে, একবিংশ শতাব্দীতে এই সেও ডঃ মোহাম্মদ শহিদুল্লার পরামর্শ অনুসারে ধরন পরিবর্তন হয়েছে। ধর্ম নিরপেক্ষ বাদী-গন পহেলা বৈশাখ পালন করে আগের দিন, আরা হিন্দু ধর্মের ধার্মিক ব্যক্তি-গন পালন করে তার পরের দিন। অর্থাৎ এই দিনে বাংলাদেশ ও ভারতের সকল হিন্দু তাদের বিশাখা দেবতাকে পূজা করে নব বর্ষকে স্বাগতম জানায়। দুর্ভাগ্য আমাদের জন্য যে, আমরা মুসলমান হওয়া সত্ত্বেও হিন্দুদের সাথে একই রূপে পূজা করে থাকি। এর পিছনে একটাই কারণ, তাহলো কোন ছাত্র যখন স্কুলে ভর্তি হয়, তখন হয়ত সে পাস করে নয়ত ফেল করে। কাজেই যারা আমরা মহান আল্লহ রব্বুল আলামীন এর দুনিয়ায় মানুষ হিসাবে অবস্থান করছি, হয়ত তারা মু’মিন হব, নয়ত মুশরিক বা কাফির হব। এর থেকে আর বিকল্প কোন পথ নেই। আল্লহর বানী অনুসারে চন্দ্র মাসকে আমাদের জন্য দিন গণনার ঘোষণা দেয়া সত্ত্বেও যারা চন্দ্র মাসের খবরই জানি না, অথচ পহেলা বৈশাখের জন্য কাঁচা মরিচ, পিয়াজ, পান্তাভাত আর ইলিশ মাছের খবর করি, তাদের খবর হবে কবর থেকেই। পিয়াজ জাতীয় দুর্গন্ধ সামগ্রী খেয়ে মসজিদে প্রবেশের জন্য নবী সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিষেধ করেছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত দুর্গন্ধ মুক্ত না হয়। আর কাচা পিয়াজ হল পহেলা বৈশাখের একটা আবশ্যকীয় আইটেম।

মুসলমানদের যেখানে সকল ধরনের মূর্তি অংকন করা হারাম তথা শিরকী গুনাহ, সেখানে পহেলা বৈশাখের দিন পালনকারী-গন এমন ভাবে মূর্তির মুখোশ ব্যবহার করে যে, মনে হয় ঐ সকল লোকগুলো আর মানুষ নেই, ওরা পশু হয়ে গেছে। আমলের কারণেই কোন কোন ব্যক্তিকে পশুর আকৃতি ধারণ করে হাশরের ময়দানে উঠানো হবে, এটা হাদিসের কথা; কিন্তু এই সকল পহেলা বৈশাখ পালনকারী নামধারী মুসলমান-গন দুনিয়াতে থাকতেই বিভিন্ন পশুর মুখোশ ব্যবহার করে পশু বনতে চায়। সেক্ষেত্রে মহান আল্লহ রব্বুল আলামীন এর দোষ দিয়ে কোন লাভ নেই। উদাহরণ-স্বরূপ একই সাথে যেমন কেউ পুরুষ-মহিলা হতে পারেনা, তেমনি কোন ব্যক্তিই সম্রাট আকবরের (দ্বীন এই ইলাহির) মত একই সাথে হিন্দু-মুসলমানের উভয় ধর্ম পালন করতে পারেনা। যদি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীন এর আক্রোশ থেকে বাচতে চান, তাহলে জরুরী ভিত্তিতে তওবা করুন এবং ইসলাম ধর্মের আমলগুলো সঠিক নিয়মানুসারে পালন করতে থাকুন।

এপ্রিল ফুল মুসলমানদের জন্য খৃষ্টানদের পক্ষ থেকে একটি বিশ্বাসঘাতকতার চিহ্ন বহন করে। অথচ সে বিশ্বাস ঘাতকতার কথা ভুলে গিয়ে মুসলমান-গন ১লা এপ্রিলে অন্যদেরকে ফাকি দেয়া একটা যুগের ফ্যাশন হিসাবে মনে করে। তারা জানে না যে, এই দিনে অনেক মুসলমানকে সকল ধরনের নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়ে একটি মসজিদে হাজিরা হতে বলা হয়েছিল। আর সে অনুসারে যখন মুসলমান-গন সে মসজিদে সমবেত হয়, তখন খৃষ্টান সম্প্রদায় সে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে বিশ্বাসঘাতকতা স্বরূপ নির্বিচারে সকল মুসলমানকে হত্যা করে। তারা যে ফাকি মুসলমানকে দিয়েছিল, আমরা যদি মুসলমান হয়ে সে রকম ফাকির বিষয়কে অনুশীলন করি, তাহলে আমরা কি মুসলমানের অনুসারী হব না খৃষ্টানের অনুসারী হব, তা আপনার নিজে থেকে নিজের বুদ্ধি-বিবেচনার মাধ্যমে চিন্তা করে দেখুন। যদিও উত্তম বিষয়টি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনই ভাল জানেন, তারপরও এ বিষয়ে আরও অধিক জানার জন্য ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন:

http://www.islamhouse.com/p/199791 

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *