পিতার পরিবর্তে স্বামীর উপাধি ব্যবহার করা

4

চলমান প্রবাদ আছে, আমরা জীবনকে আধুনিক পথে নিয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট উন্নতি সাধন করেছি। দেখা উচিৎ আমরা ধর্মের অগ্রসরতার জন্য কতটুকু উন্নতি সাধন করেছি। ইসলামের নিয়মানুসারে মুসলমানদের সন্তানের পরিচয় হয় তার পিতাকে দিয়ে, অপর পক্ষে খৃষ্টানদের পরিচয় হয় তার মাতার নামে। কারণ: মুসলমানদের জন্ম হয় তার পিতার আশ্রয়ে, আর ইহুদী-খৃষ্টানদের জন্ম হয় তাদের মাতার আশ্রয়ে। খৃষ্টানদের মধ্যে আছে অবৈধ যৌনাচার, মুক্ত যৌনাচার, গার্ল ফ্রেন্ড পদ্ধতি ইত্যাদি। তাই তাদের বাবা কে, অনেক সময় তার মাই তা জানে না; সেমতাবস্থায় সে সন্তান তার পিতার পরিচয় ১০০% নিশ্চিত হিসাবে জানবে কিভাবে?  কাজেই তাদের পিতার পরিবর্তে মাতার পরিচয়টাই আসল। বাংলাদেশের মুক্ত কুকুরের জন্ম দেখলেই তাদের জন্ম সম্বন্ধে মোটামুটি একটা ধারনা নেয়া যায়। আপনি কবুতর আর মুরগীর বাচ্চার কথা চিন্তা করলেই বুঝতে পারবেন; যদিও তাদের উভয় জাতই মুক্ত ভাবে বা ছেড়ে দেয়া থাকে। কবুতরের বেলায় দেখবেন, অন্য পুরুষ কবুতর শত চেষ্টা করা সত্ত্বেও মহিলা কবুতর শুধুমাত্র নিজের সাথি ছাড়া কখনোই অন্যের কাছে নিজেকে বিকিয়ে দেয় না, অপর পক্ষে মুরগীর বেলায় দেখবেন, যে মোরগ আসে, তার কাছেই নিজেকে বিকিয়ে দেয়। উল্লেখিত উদাহরণে মুসলমান হল কবুতরের যায়গায়, আর ইহুদি-খৃষ্টান হল মুরগীর যায়গায়। অথচ তাদের সে সংস্কৃতি আজ আমরা ধারনা করে ফেলেছি। আমরা জন্মগত ভাবে স্থায়ী সম্পর্ক পিতার পরিচয় বাদ দিয়ে, বৈবাহিক ভাবে অস্থায়ী সম্পর্ক স্বামীর পদবীকে ব্যবহার করছি, যা সম্পূর্ণরূপে হারাম।

নবী সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন কারো পরিচয় জানতে যেয়ে জিজ্ঞাসা করতেন, “কে”?  প্রত্যুত্তরে তাঁরা আমি আবুবকর, ওমর, ওসমান, আলী এই ভাবে জবাব না দিয়ে বরং বলতেন, ”ইবনে কুহাফা, ইবনে খাত্তাব, ইবনে আফফান, ইবনে আবু তালিব ইত্যাদি। একটা উদাহরণ এখানে না আনলেই নয়। রসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের  পালক পুত্র জায়েদ (রাঃ) কে ইবনে মোহাম্মদ বলে ডাকাতে আল্লহর পক্ষ থেকে আয়াত নাজিল হয়েছিল যে, “হে মুমিন-গন তোমরা প্রত্যেককে তাদের পিতার নামানুসারে ডাক”। হাদিস কর্তৃক সীকৃত যে, হাসরের ময়দানে প্রত্যেককে তাদের পিতার নামানুসারেই ডাকা হবে। সুতরাং পিতার নামের সাথে পরিচিত থাকাই মুসলমানদের জন্য ফরজ। আজ থেকে ৩০-৩৫ বৎসর পূর্বেও মানুষ তাদের মায়ের নামই নিতে চাইত না। তারা মনে করত যে, মায়ের নাম নিলে পাপ হবে; যদিও সেটা কু-সংস্কার ছিল। তা সত্ত্বেও জন্ম নেওয়ার পর আল্লহর নামের পাশা-পাশী তাদের বাবার নাম শেখানোটাই ছিল মায়েদের জন্য একটা গর্বের বিষয়। রাষ্ট্রীয় ভাবে কি সংস্কারই যে শুরু হল, এখন মায়ের নাম ছাড়া এক কদমও দেয়ার উপায় নেই। না হয়েই বা উপায় কি! সম অধিকার বা প্রাপ্য অধিকারের নামে আমরা কি ফ্রি সেক্স বা অবাধ যৌনাচার থেকে খুব দূরে আছি? 

লক্ষ্য করে দেখেছেন কি যে, হিন্দু মহিলাদের বিবাহ হলে তাদের কপালের উপরে বিবাহের চিহ্ন অর্থাৎ সিঁদুরয়ের দাগ পরে ও হাতে শাখার বন্ধন পরে যায়?  খৃষ্টান মহিলাদের বিবাহ হলে মিস থেকে মিসেস হয়ে যায়?  এর অর্থ হল মিস থাকা অবস্থায় গার্ল ফ্রেন্ড হিসাবে সবাই মিলে মিশে তাকে ভোগ করার অধিকার তথা নিয়ম ছিল। কিন্তু যখনই সে মিসেস হয়ে গেল, তখন সে নষ্ট অবস্থায় একজনের জিম্মায় চলে গেল; যদিও রাষ্ট্রীয়ভাবে ফ্রি সেক্স অনুমোদন থকায় সে মহিলা যে কোন সময় অন্য পুরুষের সাথে যৌন মিলনে লিপ্ত হতে পারবে। এতে তার স্বামী তার নামে আদালতে কোন অভিযোগ করতে পারবে না। আর আমাদের ধর্মীয় বিধানের দিকে একবার তাকিয়ে দেখুন, তার পরই চিন্তা করতে পারবেন যে, ইসলামি বিধানের জন্য মহান আল্লহ রব্বুল আলামীন এর কাছে কতবার শুকরিয়া আদায়ের জন্য কতবার সুবহান আল্লহ বলা উচিৎ।

একবার লক্ষ করে দেখবেন কি যে, আয়েশা (রা:) তাঁর জীবনে একদিনের জন্যও ‘আয়েশা মুহাম্মদ’ হিসাবে নিজেকে পরিচয় দিয়েছেন কি-না?  ফাতেমা (রা:) নিজেকে ‘ফাতেমা আলী’ বলেছেন কি-না?  কখনোই না। কারণ হল বৈবাহিক সম্পর্ক জীবনের সব থেকে নিকটতম সম্পর্ক হওয়া সত্ত্বেও তা হল অস্থায়ী, আর পিতার সম্পর্ক হল চিরস্থায়ী। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, কারো নিজের নাম হল ফাতেমা, তার পিতার নাম সিরাজ খান এবং  স্বামীর নাম বাছেদ চৌধুরী। এমতাবস্থায় ফাতেমা কিয়ামত পর্যন্ত ফাতেমা খানই থাকবে। সে কখনোই ফাতেমা বাছেদ বা ফাতেমা চৌধুরী হতে পারবে না। যদি কেউ করে, তাহলে এই ভাবে বাবার উপাধি ত্যাগ করা হারাম। তবে অন্য কোন লোক যদি তাকে বলে যে, ইনি বা উনি মিসেস বাছেদ বা মিসেস চৌধুরী, তাহলে সমস্যা নেই, কারণ: পরিচয়টা সে নিজে থেকে দিচ্ছে না, বরং অন্যেরা ঐ সম্পর্কে তাকে চিনে। তাছাড়া তার স্বামীর বাড়ির এলাকায় পরিচিতি প্রদানের জন্য যদি সে বলে যে, আমি বাসেদের স্ত্রী বা মিসেস বাসেদ, তাহলেও দোষের কিছু নেই। তবে সেটি নামের সাথে কোন অবস্থায়ই ব্যবহার করা যাবে না। অতএব সকল মুসলিম মহিলাদেরকে পারামর্শ দিচ্ছি, হিলারী তার নামের সাথে ক্লিনটন ব্যবহার করল, অথবা বারবারা তার নামের সাথে বুশ ব্যবহার করলো বলে সে দেখা-দেখি আপনিও স্বামীর উপাধি অথবা নাম আপনার নামের সাথে ব্যবহার করে বেশি মডার্ন হয়ে যাবেন না। তাহলে হাদিসের তথ্যানুসারে সে মুশরিকদের সাথেই আপনি হাশরের ময়দানে উঠবেন। কোন স্বামীই যেন তার নিজের নামকে স্ত্রীর নামের সাথে যুক্ত না করায়, সেদিকে কঠোর ভাবে দৃষ্টি রাখার জন্য পরামর্শ দেয়া হল।

সবাই জানে যে, দাসী-ও টাকা দিয়ে কিনতে হয়, আবার বেশ্যালয়ের মহিলাদের-ও টাকার বিনিময়ে ভোগ করতে হয়। তাহলে দুই জনের মধ্যে পার্থক্য কোথায়?  অথচ ইসলামে দাসীর সাথে সঙ্গম কুর’আন- হাদিস কর্তৃক সমর্থন থাকলেও বেশ্যা-ভোগ সম্পূর্ণরূপে হারাম কেন?  এর সব থেকে বড় কারণ হল কুল বা বংশের মিশ্রণ যাতে না হয়। যদি কোন ব্যক্তির বংশের বিস্তার লাভ করে, তাহলে যাতে কোন একটি নির্দিষ্ট পিতার মাধ্যমেই করে। কারণ দাসী মুনিবের বাড়িতেই থাকে, তাই মুনিব ছাড়া কেউই তার সাথে বৈধভাবে মিলনে লিপ্ত হতে পারেনা। ফলে সেই সন্তান জন্মগ্রহণ করে মনিবের বিছানায় এবং  সন্তানও হয় তারই। এই ব্যাপারে হাদিসও আছে, “সন্তানের পিতা হবে সে, যার বিছানায় সন্তান জন্ম গ্রহণ করবে”। তার ফলশ্রুতিতে সন্তান প্রসবের পরপরই সেই সন্তানের মা দাসী থেকে মুক্ত হয় বা স্বাধীন হয়ে যায় এবং  সন্তান তার পিতার পরিচয় পায়। কোন সন্তান জন্ম নেয়ার পর তার পিতার সাথেই পরিচিতি হওয়া ইসলামী বিধান সম্মত। আর যদি সেই সন্তানটি জারজ হয়, তাহলে অবশ্যই সে তার মায়ের নামের সাথেই পরিচেত হবে, কোন অবস্থায়ই ব্যভিচারীর নামের সাথে পরিচিত হবে না। অথচ মুশরিকদের দেখা-দেখি আমরা মায়ের নামকে আমাদের ডকুমেন্টের সাথে রাখাটা রাষ্ট্রিয়ভাবে ব্যবহার করাতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হিসাবে ধরে নিচ্ছি। তাই মানুষের জন্য জন্ম পরিচয়টা সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে ফ্রান্সের প্রসিডেন্ট কোন এক মহিলার সাথে প্রায় ছয় বৎসর যাবৎ স্বামী-স্ত্রীর মত বসবাস করে আসছে। প্রেসিডেন্ট ওবামার স্ত্রী তাকে ফার্স্ট লেডে হিসাবে বরন করে নিয়েছে। সেই মহিলার পূর্বেও দুইটি বিয়ে হয়েছিল। আপাতত তাদের মধ্যে বিবাহের কোন সম্ভাবনা নেই; অর্থাৎ এই ভাবেই চলতে থাকবে। তাহলে এই কুত্তা চরিত্রের মায়ের সন্তান-গন কি তাদের পিতার প্রকৃত আদৌ জানা সম্ভব?  এই ক্ষেত্রে কি তাদের মায়ের নাম ব্যবহার করা ছাড়া কোন উপায় আছে?  আর আমরা এখন সেই মায়ের নাম ব্যবহার নিয়ে এত বাড়াবাড়ি করছি। আমাদের মায়েরাও এতে খুবই গর্বিত। প্রকৃত ধার্মীক ও জ্ঞানী মহিলা-গন সন্তানের জন্ম পরিচয়ে কখনো সন্তানদেরকে নিজের নাম তথা তাদের মায়ের নামের ব্যবহার নিয়ে গর্ব বোধ করবে না। যদিও উত্তম বিষয়টি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনই ভাল জানেন, তারপরও এ বিষয়ে আরও অধিক জানার জন্য ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন:

http://www.islamqa.com/en/ref/2537

http://en.allexperts.com/q/Islam-947/jesus-pbuh-God-2.htm

http://www.islam-qa.com/en/ref/5707

http://www.islam-qa.com/en/ref/6195

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *