পুত্র-কন্যাকে ত্যাজ্য করা

আমরা একটা বিষয় সচরাচর দেখতে পাই যে, পিতা-পুত্রের মধ্যে কোন ধরনের ঝগড়া বিবাদ অথবা সন্তান কর্তৃক পিতার আদেশ অমান্য করা তথা যে কোন উপায়ে অবাধ্য হওয়ার পরে পিতা তার সন্তানকে ত্যাজ পুত্র বা ত্যাজ্য কন্যা ঘোষণা করে। অনেক সময় দেখা যায় যে, মৌখিক ভাবে ঘোষণা করেই ক্ষান্ত হয় না বরং স্ট্যাম্পে লিখে বা মজবুত পদ্ধতিতে ত্যাজ্য করে। সেই সাথে আরও সর্ত আরোপ করে যে, সেই ব্যক্তি মৃত্যু বরণ করার পর উল্লেখিত ত্যাজ্য সন্তান তার রেখে যাওয়া সম্পদের কোন অংশ পাবে না। সে পরিস্থিতি যখন কর্তা ব্যক্তি মৃত্যু বরন করে, তখন তার নিকটস্থ কিছু আত্মীয় ও এই লাকার স্বার্থান্বেষী মহল এমন-ই একটা পরিস্থিতির সৃষ্টি করে যে, যাতে করে সেই ত্যাজ্য সন্তান কোন প্রকার সম্পদ পেতে না পারে। অর্থাৎ মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি মূল মালিকের কাছে না পৌছিয়ে হরি-লুট করে খাওয়া যায়।

মূলত: এই ধরনে নীতিমালা না ইসলামে আছে, না রাষ্ট্রীয় কাঠামোর কোথাও লিপিবদ্ধ আছে। এই বিষয়টি বিবাহ, তলাক বা দাস মুক্তির মত নয় যে মুখ দিয়ে একটা কিছু বলল, আর সাথে সাথে সেই বিষয়-ই একটা রায় হয়ে দেখা দিল। রক্তের সম্পর্ক কখনও মুখের কথায় পরিবর্তন বা পরিবর্ধন হয় না। এটা নিতান্তই স্থায়ী বিষয়। তবে একটা বিষয় সর্বদাই গ্রহণযোগ্য, তাহলো কেউ যদি ইচ্ছা করে, তাহলে তার মোট সম্পদ থেকে এক তৃতীয়াংশ যে কোন সময় যে কোন ব্যক্তিকে দান করতে পারবে। এই ব্যাপারে তাকে কেউ বাধা দিতে পারবে না; কিন্তু সেটি নিজের সন্তানদেরকে ত্যাজ্য করে নয়। তাই এই ধরনের ত্যাজ্য যদি কেউ করে, তাহলে সেই ত্যাজ্যের বিষয় ধর্মীয় বা রাষ্ট্রীয় কোন নিয়মেই গ্রহণযোগ্য নয়। অতএব এই ধরনের কথা বলা বা মান্য করা নিঃসন্দেহে অত্যন্ত জঘন্যতম কাজ। তবে কোন উকিল যদি এই ধরনের কিছু উইলে লিখে তার সম্বন্ধে কোন দলিল দেখায়, তাহলে বুঝতে হবে যে, সেই উকিলও নিশ্চয়ই পরিবার চক্রান্ত দলের সাথে জড়িত। সেমতাবস্থায় অবশ্যই আইনের আশ্রয় নিলেই বুজা যাবে যে কত ধানে কত চাল। কাজেই ত্যাজ্য পুত্র/কন্যা বিষয় থেকে নিজে বেচে থাকি এবং অন্যকেও এই পথ পরিহার করতে বলে। যদিও উত্তম বিষয়টি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনই ভাল জানেন, তারপরও এ বিষয়ে আরও অধিক জানার জন্য ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন:

http://www.islam-qa.com/en/ref/2086/disinherit

http://www.prothom-alo.com/detail/news/253799

 

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *