ফজরের আজান শোনা মাত্রই সেহেরী খাওয় নিষিদ্ধ মনে করা

90

সেহেরী কখন খেতে হবে প্রশ্নের উত্তরে সকলেই একমত যে, সুবহে সাদিকের পূর্বে তথা সুবহে কাজিবের সময় খেতে হবে; কিন্তু কখন খাওয়া শেষ করতে হবে প্রশ্নের উত্তরে রয়েছে বিভিন্ন মতামত। আসলে এই বিষয়টি নিয়ে অনেকেই না বুঝে তর্ক করে। রোজা শুধুমাত্র মুসলমান ধর্মের মানুষই রাখে না বরং মুশরিকরাও রোজার মতন উপবাস করে। তারাও সূর্য অস্ত না যাওয়া পর্যন্ত আমাদের মতন সকল ভোগ্য সামগ্রী খাওয়া থেকে দূরে থাকে। তবে তাদের রোজা আর আমাদের রোজার মধ্যে পার্থক্য হল, তারা রোজা রাখার জন্য কোন সেহেরী খায় না, আর আমরা সেহেরী খাই। সেহেরী খাওয়া আমাদের জন্য সুন্নত। সবথেকে বড় কারণ হল সেহেরি খাওয়া মানেই হল মুশরিকদের থেকে বিপরীত করা।

এক হাদিসে দেখা যায় যে, বিল্লাল (রা:) কর্তৃক আজান দেওয়ার পরও সেহেরী খাওয়া যেত, বরং আব্দুল্লাহ ইবনে মাক্কতুম (রা:) কর্তৃক আজান দেওয়ার পর সেহেরী খাওয়া নিষিদ্ধ ছিল। কারণ বিল্লাল (রা:) একটু অন্ধকার থাকতেই আজান দিতেন, কিন্তু ইবনে মাকতুম (রাঃ) পূর্বাকাশ ফরসা হওয়ার পর আজান দিতেন। কাজেই তাঁর আজান প্রথম আজান থেকে বেশ পরেই হত বলে প্রমাণিত হয়। একটু চিন্তা করলেই আমরা বুঝতে পারি যে, একজন অন্ধ মানুষ কতটুকু আলো হলে তার চোখে ফরসা-ভাব দেখা যায়। ছোট বেলায় দেখেছি যে, বৃদ্ধ মানুষজন ঘুম থেকে একটু দেরীতে উঠলেই হাত দূরে নিয়ে যদি হাতের পশম না দেখা যেত, তাহলে কিছুটা খেয়েই রোজা রাখত। তদ্রূপ মুরগী ঘরে যাওয়া দেখেই ইফতার করত। তবে এই ব্যাপার কারো সন্দেহ থাকা উচিৎ নয় যে, প্রত্যেকটি প্রাণী তাদের নিজস্ব ভাষায় মহান আল্লহ রব্বুল আলামীন এর জিকির করে থাকে। কাজেই তাদের উপর ইলহাম হওয়াটাই স্বাভাবিক। প্রমাণ স্বরূপ বৃষ্টি নামার পূর্বে ব্যাং ডাকতে থাকে, বর্ষা শুরু হওয়ার পূর্বেই সকল পিপড়া নিজেদের সম্বল নিয়ে উপরে উঠতে থাকে। কাজেই পাখির ডাক শুরু হওয়া দিনের কার্যক্রম আরম্ভ হওয়ার জন্য তেমনি একটা সিগন্যাল। কোন হাদিসে বলা হয়নি যে সুবহে কাজিব থেকে রোজা রাখতে হবে, বরং সকল ক্ষেত্রেই বলা হয়েছে যে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজা রাখতে হবে। আমরা জানি সুবহে সাদিক একটা নির্দিষ্ট সময়। তাহলো পূর্বাকাশে প্রথম আলোর রেখা দেখা যাওয়া থেকে শুরু করে আলো পূর্ণরূপে প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত সময়কে সুবহে সাদিক বলে। তাহলে আমাদের দেশের মুয়াজ্জিন-গন যে সময়ে আজান দেন, সে সময় কি আলো পূর্ণরূপে প্রকাশ পায় ?

আমাদের দেশের প্রায় সকল কিতাবেই লেখা আছে যে, আজান দেয়ার পর আর সেহেরী খাওয়া যাবে না, কিন্তু এই কথা লিখা নেই যে, কোন আজানের পর আর খাওয়া যাবে না; অথচ হাদিসে ইবনে মাক্কতুম (রা:)এর কথা উল্লেখ আছে। প্রকাশ থাকে যে, শুধুমাত্র এই মাসয়ালা সংক্রান্ত জটিলতার জন্য হয়তো দেখা যায় কোন একজন ব্যক্তি রাত্রে জাগতে পারল না, কিন্তু মুয়াজ্জিনের প্রথম আজান তার কানে যাওয়া মাত্রই তার ঘুম ভাঙল। তখন সে আর সময় নেই অজুহাতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রোজাই রাখে না। হানাফি মাজহাবের মুয়াজ্জিন-গন আবার একটু দেরীতে আজান দিলেও আহলে হাদিসের মুয়াজ্জিন-গন যথেষ্ট আগে আজান দেয়। তার পরও সাধারণত মানুষ খেতেই থাকে। তবে সেহেরীর জন্য আজান একটা বিষয়, তাই বলে একমাত্র বিষয় নয়। তখনকার আজান হল ফজরের নামাজের জন্য একমাত্র বিষয়। অতএব সেহেরী ফজরের আজানের পূর্বেই খাওয়াটাই উত্তম, কিন্তু কোন কারণ বশত: যদি সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে প্রথম আজানের শুরুর দিকে খানা খেতে দোষের কিছু মনে করা ঠিক নয় বা এই অজুহাতে রোজা ছাড়াও ঠিক নয়। যদিও উত্তম বিষয়টি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনই ভাল জানেন, তারপরও এ বিষয়ে আরও অধিক জানার জন্য ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন:

http://www.islam-qa.com/en/ref/66202/eating%20for%20fast

 

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *