বাংলাদেশ ইসলামী ব্যাংকের সকল কার্যক্রমকে বৈধ মনে করা

96

আমরা মুসলমান, কাজেই আমাদের সব কিছুই পরিচালিত হওয়া উচিৎ ইসলামী নিয়ম মুতাবেক তথা সুন্নাতি পদ্ধতিতে এবং এটাই স্বাভাবিক। এর মধ্যেই ইচ্ছায়- অনিচ্ছায় আমাদের কর্ম ও চেতনায় কিছু অনৈসলামিক বিধান বা সংস্কৃতি ঢুকে পরে এটাও নিয়মের ব্যতিক্রম নয়। কারণ যতদিন পৃথিবীতে শয়তান থাকবে, ততদিন মানুষের মধ্যে ফেতনা চলতেই থাকবে। আর সেইরূপ জটিল মুহূর্তে নিজেকে শয়তানের রাহু-গ্রাস থেকে মুক্ত করে প্রকৃত ইসলামের পথে ফিরে আসাই হল একজন প্রকৃত ইমানদারের মূল দায়িত্ব ও কর্তব্য।এমতাবস্থায় কেউ যদি মনে করে যে, আমার দ্বারা কোন ভুল হওয়া সম্ভব নয়, তাহলে সে হয়ত শয়তান নয়তো ফেরেশতা; মানুষ নয়। অপরপক্ষে কেউ যদি মনে করে যে, যেহেতু আমার ভুল হয়ে গেছে কাজেই এখানে থেকে আর ফিরে আসা সম্ভব নয়, তাহলে সে আল্লাহর একজন না শুকরিয়া বান্দা, কারণ সে বিশ্বাস করতেই ভুলে গেছে যে, ‘ মহান আল্লাহ সর্বাবস্থায় ক্ষমাশীল’।

প্রসঙ্গত এ কথা প্রায় সবারই জানা যে, সুদ হারাম এবং ব্যবসা হালাল। এখানে প্রশ্ন আসতেই পারে যে, সুদ কি এবং ব্যবসা কি। এখানে সুদ ও ব্যবসার মধ্য বৃহত্তম পার্থক্য দুইটি। ক) সুদে কোন ক্ষতির অংশ নেই শুধুমাত্র লাভ থাকে, আর ব্যবসায় লাভ- ক্ষতি দুটোই থাকে। খ) সুদে দাতা-গ্রহীতার মধ্যে কোন মাধ্যম থাকে না, কিন্তু ব্যবসায় দাতা-গ্রহীতার মধ্যে একাধিক মাধ্যম থাকে। এই দাতা ও গ্রহীতার বিষয়টিই ইসলামী ব্যাংকের জনক হিসাবে খ্যাত Dr Ahmad ei Naggar সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে Hand to hand পদ্ধতি হিসাবে বর্ণনা করেছিলেন। আজ বেশিরভাগ দেশের ইসলামী ব্যাংক অধিক মুনাফার আশায় সেই পদ্ধতি থেকে কৌশলে বেড়িয়ে এসেছে। আর এই কৌশল থেকে বাংলাদেশ ইসলামী ব্যাংকও বাদ পড়েনি। প্রায় দেশেরই ইসলামী ব্যাংকগুলো আরবির অনুবাদ করে তাদের নিজস্ব ভাষায় অথবা সরাসরি ইংরেজি ভাষায় হিসাব বা বিনিয়োগের নাম ব্যবহার না করে আরবি শব্দগুলো রোমান পদ্ধতিতে বানান করে ব্যবহার করে থাকে। ফলে দুর্বোধ্য এই শব্দের অর্থ প্রায় মানুষই বুজতে পারে না। যেমন: ‘বাই মুরাবাহা টি আর’ বা ‘Bi Morabaha TR’। যারা ইসলামী ব্যাংক থেকে বিনিয়োগ নিয়েছেন, তাদের কাছে আমার প্রশ্ন: আপনি কি জানেন যে এর অর্থ কি? আমার মনে হয় প্রায় ব্যক্তিই না বোধক উত্তর দিয়েছেন।

এই Hand to hand পদ্ধতিকে গুরুত্ব দেয়ার কারণ এখন জানা যাক। কারো হাতে টাকা বুঝিয়ে দিয়ে তার বিনিময়ে তার কাছে থেকে যে কোন পরিমাণের বস্তু গ্রহণ করা ইসলামে নিষেধ নেই। তবে একই ধরনের মূলধন কাউকে বুঝিয়ে দিয়ে তার কাছে থেকে ফেরত নেয়ার সময় যে অতিরিক্ত মূলধন বা সামগ্রী নেয়া হয়, তা-ই হল সুদ। তাহলে দেখা যাচ্ছে যে, ইসলামী ব্যাংক তাদের হাতে টাকা গ্রহণ করে, তাই তারা গ্রহীতার হাতে কোন টাকা না দিয়ে বরং তার বিনিময়ে সামগ্রী বুঝিয়ে দেয়। সুতরাং এই অর্থে ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম নির্দ্বিধায় গ্রহণযোগ্য এবং বৈধ। আর এখানেই সবথেকে যে বিষয়টির অনুপস্থিতি কাজ করে করে, তাহলো Hand to hand এর মধ্যে একটি মাধ্যম আছে, সেটি হল ‘স্টক স্টোর’ অর্থাৎ ব্যাংককে কোন সামগ্রী বিনিয়োগ গ্রহীতাকে প্রদান করার পূর্বে বিনিয়োগ গ্রহীতার পছন্দের স্থান থেকে ক্রয় করে তা স্টোরে সংগ্রহ করতে হবে অথবা ইসলামী ব্যাংকের কোন প্রতিনিধিকে সশরীরে হাজির থেকে সেই দ্রব্য-সামগ্রী কিনতে হবে এবং তার পর গ্রহীতার হাতে বুঝিয়ে দিতে হবে। পরবর্তীতে চুক্তি অনুসারে ব্যাংক তার কাছে থেকে টাকা গ্রহণ করতে পারবে। আর যদি ব্যাংক নিত্য ব্যবহারের মত কমন কোন সামগ্রী পূর্বেই কিনে মজুদ রাখে, তাহলে-তো এখানে আর কোন বাধাই নেই। আমার প্রশ্ন, ১৯৬৭ সনের ইসলামী ব্যাংকের প্রথম জেদ্দা কনফারেন্সে যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল, সেখানে কি স্টোর-মুক্ত ইসলামী ব্যাংক ব্যবস্থা প্রবর্তনের কোন সর্ত ছিল? আমাদের বাংলাদেশে কি বিনিয়োগ সামগ্রী মজুদের জন্য অথবা স্বল্পকালীন অবস্থানের জন্য কোন যায়গায় ইসলামী ব্যাংকের কোন স্টোর আছে? মোটেও নেই।

এই দুর্বলতার সুযোগ নিচ্ছে ইসলামী ব্যাংকের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী-গন। উদাহরণস্বরূপ কোন একজন যখন তাদের কাছে লোন নিতে চায়, তখন তারা বলেন যে, আমাদের ব্যাংক লোন দেয় না, ( লোন হারাম) তাই বরং বিনিয়োগ নেয়ার কথা বলেন। উদাহরণস্বরূপ এই সুযোগে সেই বিনিয়োগ গ্রহণকারী কোন একটি মটর সাইকেলের দোকানের সাথে চুক্তি করে ফেলে সেখানে থেকে একটি ভাউচার ক্রয়ের। আর এইপ্রকারে ভাউচার বিক্রয়ের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন অনেক বিক্রেতাই এখন বাজারে আছে। কাজেই তারাও চুক্তি অনুসারে বিনিয়োগ গ্রহীতাকে ভাউচার দিয়ে দেয়।  যাহোক বিক্রেতা থেকে একটি ভাউচার নিয়ে ব্যাংকে জমা হলেই সেই বিক্রেতার ফান্ডে টাকা চলে যায়। আর বিনিয়োগকারী এরপর মটর সাইকেল বিক্রেতার নিকট থেকে বাহন না নিয়ে সেই ব্যক্তি টাকাই নিয়ে নেই। উদাহরণস্বরূপ এখানে ভাউচার প্রদানকারীর লাভ হল, মটর সাইকেলের দাম যদিও ১,২৫,০০০/ কিন্তু ব্যাংক থেকে যখন সেই ভাউচার  প্রদানকারীর একাউন্টে টাকা আসবে, তখন ভাউচার প্রদানকারী ব্যক্তি বিনিয়োগ গ্রহণকারীকে পূর্বের গোপন চুক্তি মোতাবেক ১,২০,০০০/ প্রদান করবে। অর্থাৎ বসে থেকেই ৫,০০০/ লাভ। আর এখানে ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী-গণ সকল তথ্য জেনেই কৌশলে না-জানা বা না-দেখার ভান করেন। কারণ এত ভালভাবে দেখতে গেলে তাদের ব্যাংকিং ব্যবসা শূন্যে উঠবে। কাজেই এখানে ধর্মীয় বিধান বড় নয়, বরং ব্যাংকিং আয়-ই মুখ্য বিষয়।

উপরের ঘটনাটি গেল অনিয়মিত সদস্যদের বেলায়। কিন্তু নিয়মিত সদস্যদের বেলায় কি হয়, মনোযোগ সহকারে তা একবার দেখুন। মনে করুন কোন একজন ব্যবসায়ী তার ব্যবসা সহযোগিতা ব্যাংক থেকে পাওয়ার জন্য যতটুক মূলধনের প্রয়োজন, তার থেকে দ্বিগুণ মূল্যের সম্পদ ব্যাংকের নামে দলিল করে দিয়েছে। এর বিনিময়ে প্রাপ্ত অর্থ ব্যাংক থেকে নিয়ে ব্যবসা করে যাচ্ছে। যেহেতু ইসলামী ব্যাংক কাউকে নগদ টাকা দেয় না, কাজেই এইক্ষেত্রে-তো সেই ব্যবসায়ীকে টাকা দেয়া সম্ভব নয়, তাহলে কি করা যাবে? উত্তর খুবই পরিষ্কার। সেই বিনিয়োগ গ্রহণকারীকেই ‘ক্রয় প্রতিনিধি’ নিয়োগ করে তার একাউন্টেই টাকা দিয়ে কৌশলে একটা বাইপাস পদ্ধতি আবিষ্কার করা হয়েছে। কোন ব্যক্তি যখন বিনিয়োগ পাওয়ার জন্য আবেদন করেন এবং তা অনুমোদন হয় (যত টাকাই হোক না কেন) সেই সম্পূর্ণ টাকার (লিমিট) জন্য তার ব্যাংকিং এ্যাকাউন্টের একটি ব্ল্যাংক চেক বিনিয়োগ গ্রহীতাকে দিয়ে স্বাক্ষর করিয়ে জমা নেয়া হয়। লিমিটের মধ্যেই কোন ব্যক্তি একসাথে সবগুলো টাকা নেয় না বা পায় না। তখন কয়েকটি খণ্ড করে বিনিয়োগ দেয়া হয়। এবারও প্রতিটি খণ্ডের জন্য আবার একটি ব্ল্যাংক ব্যাংক চেক স্বাক্ষর করিয়ে জমা নেয়া হয়। তাহলে কি নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে একই পশু দুইবার জবেহ করার মত হল না? আবার খণ্ডিত বিনিয়োগ নেয়ার জন্য যখন ব্যবসায়ী ব্যাংকে আসে, তখন তার কাছে ভাউচার চাওয়া হয়। মজার ব্যাপার হল প্রায় সবাই ভাউচার নিয়েই টাকা নেয়ার জন্য আসে। আমার প্রশ্ন হল, কোন কন্যাকে বিবাহ করার আগেই যদি তাকে সন্তান প্রসব করে নিয়ে আসতে বলা হয় এবং সেই সাথে সর্ত দেয়া হয় যে, “অবশ্যই তুমি কিন্তু সতী থাকবে, তাছাড়া কিন্তু আমি তোমাকে বিবাহ করব না”। তাহলে তার দ্বারা কিরূপ সতী বিবাহ করা সম্ভব? এখানে দেখা যাচ্ছে একদিকে তাকে সতী থাকতে বলা হচ্ছে, আবার তার কাছে থেকে অবৈধ সন্তান বৈধ-রূপে গ্রহণ করছে। ব্যাপারটি কি একেবারেই হাস্যকর না? একটা ব্যবসায়ীকে আমি এইমাত্র টাকা দিলাম, তাহলে সে এখনি আবার তার ভাউচার দিবে কিভাবে। এটা কি ইলেকট্রিক অটো মেশিন যে সুইচ চাপলেই কাজ হয়ে হয়ে গেল? আসলে এটা একটা ছলনা বা কৌশল ছাড়া আর কিছুই নয়।

একটা বিনিয়োগ নেয়ার জন্য একজন ক্রয় প্রতিনিধি হিসাবে অনুমোদিত  ব্যবসায়ীকে ২১ টা পর্যন্ত স্বাক্ষর করার পর তার পর তাকে সেই বিনিময়ের অর্থ তার একাউন্টে দেয়া হয়। এই যে ফর্মগুলোতে সেই বিনিয়োগ গ্রহণকারী স্বাক্ষর করল, আসলে কি সে জানে যে, কি কি কাগজের উপর সে স্বাক্ষর করেছে? মোটেও না। কারণ সেই ফর্মগুলো সবই ইংরেজি ভাষায় লিখা। যারা ব্যাংকের সাথে ব্যবসা করেন, তাদের কতজন লোক ইংরেজি পড়ে বুঝতে পারেন? তাহলে কি ব্যাংক থেকে এই ফর্মগুলো বাংলায় অনুবাদ করতে পারে না? কিন্তু করে না। হয়তো যদি এই তথ্যগুলো সাধারণ ব্যবসায়ীরা বুঝত, তাহলে দেখত যে স্বাক্ষর করার পরে তার পূর্ণ বডি জেলের মধ্যে আছে, শুধুমাত্র বাহিরে আছে তার মাথাটি। কারণ সেই নথিপত্রের ফর্ম যদি কোন লোক পড়ে, তাহলে ব্যাংকের একটা কাজকেও অবৈধ বলার মত শক্তি কারো নেই। আর এই কাজগুলো সরেজমিনে না হলেও হালাল হওয়ার জন্য যে সকল কাগজ দরকার, তা ব্যাংক ঠিকই করিয়ে রেখেছে এবং সেগুলো ব্ল্যাংক ডেটে একবারে স্বাক্ষর করিয়ে পরবর্তীতে যথা নিয়মে সেখানে তারিখ দিয়ে সকল কাগজ আপডেট করে রাখে। আর এই ডকুমেন্টারি কাগজগুলো দেখলে পৃথিবীর কোন ব্যক্তির দ্বারাই এই ব্যবস্থাকে অবৈধ বলার কোন সুযোগ পাবে না। কাগজ-পত্র অত্যন্ত নিখুঁত।

ধরে নেই ব্যাংক আমাদেরকে ১৭% লাভে দ্রব্য- সামগ্রীর বিনিয়োগ দিচ্ছে। এখন কথা হল কোন ব্যক্তিকেই কি এই লাভের হার ১০% করা হয়েছে? হ্যাঁ করা হয়েছে, যিনি একজন মহিলা। কারণ সরকার বলে দিয়েছেন যে, (মহিলারা দেশের সব সন্তানে মা। সেই হিসাবে) সকল কারবারেই তাদের কাছে থেকে ১০% হিসাবে লাভ নিতে হবে। সরকার সাধারণত ব্যবসায়ীদের থেকে-তো আর বেশী চালাক না। যার ফলে ব্যবসায়ীরা এখন নিজের নামে অল্প কিছু টাকা নিয়ে স্ত্রীর নামে প্রায় অধিকাংশ টাকা ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে থাকেন। কারণ এক লক্ষ টাকা ব্যাংক থেকে কোন ব্যক্তি লোন নিয়ে ২৫,০০০/ টাকা লাভ করলে ব্যাংকের পাওনা ১৭,০০০/ পরিশোধ করলে তার মোট লাভ থাকে (২৫,০০০-১৭,০০০)=৮,০০০/টাকা। অপর পক্ষে যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর নামে একাউন্ট এবং বিনিয়োগের টাকা নিয়ে সমপরিমাণ টাকায় সমপরিমাণ ব্যবসা করে, তাকে ব্যাংকে পরিশোধ করতে হয় ১০,০০০/ টাকা। এতে তার মোট লাভ থাকে(২৫,০০০-১০,০০০)= ১৫,০০০/টাকা। কারণ বাজার মূল্য-তো আর মহিলা- পুরুষের জন্য আলাদা না বা এটা যে শুধু মহিলারাই কিনবে, এভাবে আলাদা করেও কিছু লিখা থাকে না। কাজেই দেখা যাচ্ছে যে, দিনে দিনে মহিলাদেরকে বিভিন্ন প্রকার সুযোগ দিয়ে সরকার বিমাতা সুলভ আচরণই শুধু করছে না বরং পুরুষদেরকে একদিকে ছলনার আশ্রয় নিতে বাধ্য করছে, অপর দিকে বেকারের হার বৃদ্ধি করছে। আর তাতে মহিলাদের বেপরোয়া-ভাব যে কিভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তা পাঠক মাত্রই ভাল করেই বুঝতে পারছেন। যদি এমন হত যে, নারীদের জন্য একটি আলাদা বাজার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যেখানে তাদের জন্য দ্রব্য-সামগ্রী বিশেষ ছাড় বা ভর্তুকি মূল্যে দেয়া হয়, তাহলে কোন আপত্তিই ছিল না। অথচ একই বাজারের মধ্যে থেকে একজন মহিলাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে আর্থিক সুবিধা প্রদান করে পুরুষটিকে কাপুরুষ তৈরি করছে। ফলে ব্যাংকিং সহযোগিতায় সমপরিমাণ মূলধন নিয়ে কোন একজন পুরুষ বিনিয়োগকারী কোন অবস্থায়ই একজন মহিলা বিনিয়োগকারীর সাথে পাল্লা দিয়ে বাজারে টিকে থাকতে পারবে না। এতে সেই সেক্টর থেকে পুরুষ বিনিয়োগকারী ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায় সরে  যেতে বাধ্য হবে। এটা জাতির জন কতটুকু কল্যাণকর, তা বোদ্ধা ব্যক্তি-গণই ভাল জানেন।

যাহোক ব্যাংকিং শাখায় যে এরূপ জালিয়াতি পদ্ধতি রাষ্টীয়ভাবে অনুমোদন আছে, এই কথা ব্যাংকের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীগণই জানেন। কাজেই এই সুযোগে ইসলামী ব্যাকের কর্মচারী-কর্মকর্তাগণ ৫-৬ % লাভে নিজস্ব বেতন অনুসারে সুবিধা মোতাবেক যতটুকু পাওয়া যায়, সেই টাকা নিয়ে যথা নিয়মে বিভিন্ন যায়গায় জমি ক্রয় বা বাড়ী নির্মাণ করতে ব্যস্ত। এখানে একটি লক্ষণীয় বিষয় হল, যে ব্যক্তি পরিশ্রম করে ব্যবসা করল, তার কোন সাশ্রয়ী ব্যবস্থা না থাকলেও ব্যাংকের কর্মী-গন ঠিকই সকল সুবিধা ভোগ করে যাচ্ছেন। সাধারণ ব্যাংকের থেকে বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকের কার্যাবলীতে কোন পার্থক্যই নেই। সাধারণ ব্যাংক সুদ বলে সরাসরি খায়, আর ইসলামী ব্যাংক লাভ বলে একটু ঘুরিয়ে খায়- এতটুকুই পার্থক্য। সুধু তাই নয়, কোন ব্যক্তি যদি যথা সময়ে তার টাকা পরিশোধ না করতে পারে, তাহলে চক্রবৃদ্ধির মত অতিরিক্ত সময়ের লাভের টাকাও তাদেরকে পরিশোধ করতে হয়; যদিও শুনেছি সেই অতিরিক্ত টাকা নাকি কোন বিশেষ ফান্ডে যায়। লাভ- লোকসানের ভিত্তিতে ব্যবসা হালাল, এটা আপাতত ইসলামী ব্যাংকের বুলি। ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় কি কোন ক্ষতি আছে? তাহলে এই সূত্রে দেখা যায় যে, ইসলামী ব্যাংকের আয়ত্তাধীন সকল ব্যবসায়ীই শুধু মাত্র লাভই করে যাচ্ছে। কারণ ব্যাংক কি কখনো কোন বিনিয়োগকারীর থেকে লাভের পরিমাণ কম নিয়েছে? টাকা দেয়ার সময় যে ১৭% লিখে দিয়েছিল, সেখানে কি কোন পরিবর্তন হয়? মোটেও না।  তবে কখনও হয়ত বা দেখা যায় যে, কোন ব্যক্তির আলু পচে গেছে বা কোন সামগ্রীতে আগুন লেগে পুড়ে গেছে; যা দুর্ঘটনা, সেই ক্ষেত্রে ব্যাংক একটি তদন্ত করে তার সাথে একটা কন্ডিশনে চলে আসে। এর এই ব্যবস্থা সব ব্যাংকেই প্রচলিত আছে। তাহলে অন্যান্য ব্যাংকের সাথে নীতিগত দিক থেকে ইসলামী ব্যাংকের পার্থক্য থাকল কোথায়?

এই সবকিছুর সঠিকত্বর লাইসেন্স প্রদানের  মুলে রয়েছে দেশের কিছু  বিশাল মুফতি, যাদের অনেকে জেনারেল লাইনে শিক্ষিত লোকদেরকে মোটেও পছন্দ করেন না। কারণ জেনারেল লাইনের লোকগণ স্কুল কলেজে পড়া মানেই হল বিধর্মীদের পছন্দনীয় পদ্ধতিতে পড়া-লেখা করে তাদের মতবাদ বা চিন্তাও একেবারেই পচে গেছে। আমার কথা হল দেশের সেই সকল শ্রেষ্ঠ বিত্তশালী মুফতিদের কিন্তু ইংরেজি পড়ে তার সঠিক অর্থ বুঝার মতন ক্ষমতা একেবারেই নেই বললেই চলে। তাদের হয়ত এটাও জানা নেই যে, ইসলামী ব্যাংকের চিন্তা কোন মুফতি, মুহাদ্দিস বা মুফাসসিরের মাথা থেকে বের হয়নি। এটা বের হয়েছে একজন জেনারেল শিক্ষিত লোকের মাথা থেকে। আর তিনি এই সকল পদ্ধতি উপস্থাপন করেছেন ইংরেজি ভাষার মাধ্যমে। কাজেই ব্যাংকিং ব্যাপারে ফতোয়া দিবেন, অথচ ইংরেজি ভাষায় জ্ঞান থাকবে না, সেই ক্ষেত্রে বিষয়টি এমন হবে যে, “অল্প বয়স্ক শিক্ষিত ছাত্র বয়স্ক অশিক্ষিত ব্যক্তিকে শেখাচ্ছেঃ This is a cat =  এটি একটি কুকুর। বয়স্ক ব্যক্তি এই ভুল তথ্যটিই প্রথমে শিখে পরে তার পরিবারের সবাইকে শিখতে বাধ্য করছে যে, This is a cat মানে হল এটি একটি কুকুর”। এর মূল কারণ হল সে বাংলা ভাষায় কুকুর বিড়াল চিনলেও তার ইংরেজি ভাষার জ্ঞান একেবারেই না থাকা।

আমার জানামতে আমাদের দেশের মানুষ ইসলাম বা ইসলামী নাম শুনলেই আর নিজেকে ঠিক রাখতে পারে না, কারণ আমরা অত্যন্ত আবেগপ্রবণ জাতী। তাই এক্ষেত্র কম জ্ঞানী লোকেরা ধরেই নেয় যে, ইসলামীর আবরণে যা হচ্ছে তার সবই নির্ভুল। এই বোধ থেকেই কোন একটি প্রতিষ্ঠানের নামের আগে বা পরে ইসলাম বা ইসলামী লাগিয়ে যদি সেই প্রতিষ্ঠানটি লাভের মুখ দেখে, তাহলে তাদের দেখাদেখি অনেকেই তখন ইসলাম বা ইসলামী শব্দ ব্যবহার করতে থাকে। ইসলামী ব্যাংক যখন ব্যাংকিং ব্যবস্থায় সফল হল, তখন অনেকগুলো ব্যাংক তাদের নামের পরে ইসলামী লাগিয়ে দিল। ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানি যখন ব্যবসায় সফল হল, দেখাদেখি অনেকগুলো ইনস্যুরেন্স কোম্পানি তাদের নামের পরে ইসলামী লাগিয়ে দিল। ব্যাপারটি এমন যে, কোন কুকুরের গলায়ও যদি ইসলামী লাগিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়, তাহলেও আমাদের দেশের অনেক অজ্ঞ মানুষ কোন প্রকার বিবেচনা করার পূর্বেই সেই কুকুরটির পিছনে দৌড়াবে। আর এটাই আমাদের জন্য সবথেকে বড় দুর্ভাগ্যের কারণ। যে সকল মুফতি সাহেবরা বৈধতা লাইসেন্স প্রদান করার বিনিমেয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন পেয়ে থাকেন, তাঁরা যদি তাদের উপার্জিত টাকাগুলোকে হালাল করে খাওয়ার জন্য হটাত করেই সেই প্রতিষ্ঠানে গমন করে প্রকৃত অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতেন, তাহলে আমার মনে হয় তাঁরা মৃত্যু বা আল্লাহর ভয়ে হলেও না দেখে এধরনের ফতোয়াতে স্বাক্ষর করতেন না কিমবা এদিকে মতও প্রকাশ করতেন না। উনারা এই বিষয়টা বুঝেন না যে, যে সকল ডকুমেন্টারি কাগজ দেখে উনারা ফতোয়া দিচ্ছেন, আসলে কি সেই বিষয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো প্রত্যক্ষভাবেই তা মেনে চলছে কি-না। উনাদের তখনই ভিজিটে নিয়ে যাওয়া হয়, যখন সকল কার্যক্রম চলতে থাকে একেবারে শরিয়তের গণ্ডির মধ্যে থেকে। আর যদি উনাদের পরিশ্রম করে এসি রুম থেকে বের হয়ে সরেজমিনে দেখতে কষ্ট হয়, অথচ তার বিনিময়ে তাঁরা টাকা গ্রহণ করেন, আর এতে ভুল পথের চক্করে পড়ে যায় সাধারণ জনগণ, তাহলে এই ব্যাপারে পূর্ণ ব্যবস্থাপনার মালিক একমাত্র আল্লাহ রব্বুল আলামীন।

সর্বদিক দিয়ে দেশের অন্যান্য বেসরকারি ব্যাংকের সাথে ইসলামী ব্যাংকের প্রায় সকল বিষয়ই এক। অন্যান্য ব্যাংক সরাসরি টাকা দেয়, আর ইসলামী ব্যাংক একটু ঘুড়িয়ে বিভিন্ন কৌশল প্রয়োগ করে কৌশল করে টাকা দেয়। তাঁরা বাংলাদেশ ব্যাংকের একই ছাতার তলে থাকার ফলে কোন কিছুই তাদের নিজেদের থেকে করতে পারে না। অন্যান্য ব্যাংক যে অতিরিক্ত অর্থকে বলছে interest (সুদ/মুনাফা),  ইসলামী ব্যাক তাকে বলছে profit (লাভ/ মুনাফা)। অন্যান্য ব্যাংক যাকে বলে ‘ঋণ’ ইসলামী ব্যাংক তাকেই বলে‘বিনিয়োগ’। বিষয়টি এমন যে, “ঘারের নামই গর্দান, আর লাউয়ের নামই কদু”।ইসলামী ব্যাংকের পরিচালিত পদ্ধতিতে অন্যান্য ব্যাংকের সাথে পার্থক্য তেমন কিছুই নেই বললেই চলে। অথচ তারা কিন্তু বলে থাকেন যে, “আমদের ব্যাংকে কোন সুদ নেই, অন্যান্য ব্যাংকের সকল হিসাবই সুদের”।  ব্যাংকিং এই ব্যাপারটাতে পৃথিবীর সকল ইসলামী স্কলার একমত হতে পারেননি। কারণ হল, সুদে যেমন টাকার মালিক গ্রহীতাকে সরাসরি টাকা দেয়, ব্যাংকের কোন মালিকই সরাসরি কাউকে টাকা দিতে পারে না। এক্ষেত্রে তাদের টাকার একাংশ দিয়ে রাখা হয় ব্যাংকের কর্মকর্তা বা কর্মচারী। আর তারাই পূর্ণ বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করেন। এক্ষেত্রে মালিক নিজে কিছুই করতে পারেন না। কাজেই বর্তমানের ব্যাংকিং ব্যবস্থা সুদের ১০০% সংজ্ঞায় পরিপূর্ণ নয়। আমি মনে করি যে, যদি ব্যাংকিং সহযোগিতা না থাকত, তাহলে হয়তো, বর্গাদার আর মহাজনদের দাপটে যেভাবে আমাদের পূর্ব-পুরুষ-গণ বাড়ি-ভিটে বিক্রি করে দেশ থেকে দেশান্তরে পারি জমিয়েছেন, সেই পদ্ধতি আজও বলবত থাকত। কাজেই একবার দেশের সকল সাধারণ ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে বাদ দিয়ে দেশের মানুষের কথা চিন্তা করে দেখুনতো। দেখবেন যারা হারাম হারাম বলে চিল্লায়, তাদের পরনে কোন কাপড়ই নেই। হারাম খেয়ে জান বেচে থাকলে হয়ত আল্লাহর কাছে তওবা করে ঈমান আনা যাবে; কিন্তু জানই যদি না থাকে, তাহলে তওবা করার সময় কোথায়? একটা কথা প্রত্যেকটা মানুষকে চিন্তা করা দরকার। তাহলো অভাব মানুষকে শিরকী ও কুফরির দিকে সবচেয়ে বেশি ঠেলে দেয়। সে দিক থেকে ব্যাংক বা এন জি ও গুলো নিতান্ত সাধারণ মানুষকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করে সুদখোর, মহাজন, বর্গী ও দাদন ব্যবসায়ীদের কাল থাবা থেকে বিশাল-ভাবে উদ্ধার করেছ বৈ কি। অতএব আমাদের প্রত্যেককেই অর্ধেক গ্লাস পানির পরিমাণকে উল্লেখ করার সময় অর্ধেক গ্লাস পানি আছে বলে উল্লেখ করা উচিৎ, অর্ধেক গ্লাস খালি বলে উল্লেখ করা উচিৎ নয়; যদিও উভয়টির অর্থ একই। শুধুমাত্র পার্থক্য হল একটি পজিটিভ সেন্স আর অপরটি নেগেটিভ সেন্স।

মনে করুন আমার বাড়ীর পাশে একজন অনেক বড় মুফতি আছেন, যিনি অনেক টাকার মালিক এবং সিজনাল ওয়াজ করেও প্রচুর টাকা উপার্জন করেন। প্রায় প্রতি বৎসরই হজ্জ করেন। আমার তিনটি কন্যা সন্তান রয়েছে, যার প্রথমটি এখন বিবাহ দেয়া দরকার। আমার সংসারে এতই অভাব যে কন্যার বিবাহ দোয়া-তো দুরেই থাকুক, সময়মত খানাও মিলানো দুষ্কর। উল্লেখ্য এমতাবস্থায় আমার এতই অভাব দেখা দিল যে, কিছু টাকা না হলে আমার পরিবারের সদস্যগণ প্রায় না খেয়েই থাকতে হবে। কাজেরও কোন ব্যবস্থাপনা নেই। এমতাবস্থায় প্রতিবেশী মুফতি সাহেবের কাছে কিছু টাকা ধার চাইলেও তিনি দিলেন না। এর মুখ্য কারণ হল আমার টাকা পরিশোধের ক্ষমতা খুব কম মনে করেই তিনি বিভিন্ন অজুহাতে আমাকে এড়িয়ে গেলেন। সেই মুহূর্তে একজন এন জি ও প্রতিনিধির সাথে আমার দেখা হয়ে গেল। তিনি আমার অভাবের কথা শুনে সেই এন জি ও’দের নির্ধারিত নিয়ম মোতাবেক আমাকে কিছু টাকা কিস্তির ওপর লোন দিতে রাজি হল। এক্ষেত্রে সেই টাকা কি আমার নেয়া জায়েজ? প্রায় সকল মুফতি সাহেবই এক কথায় উত্তর দিবেন যে, সুদের টাকা সর্বাবস্থায়ই হারাম। কাজেই এই টাকা হারাম। আমার প্রশ্ন হল যিনি আমার লোন নেয়াকে হারাম বললেন, তিনি কি আমাকে ৫,০০০/ কর্জে হাসানা হিসাবে দিবেন? তা-নাহলে আমি সেই অভাব দূর করব কিভাবে? অভাবের চাপে কি আমার ঈমান থাকবে? গল্প অনেকেই করতে পারে, কিন্তু সেই সকল হুজুররাও কি এমন মহুর্তে ইমানকে পূর্বের মতন মজবুত রাখতে পারেন? শতকরা কতজন পারেন? সুদ হোক আর যাই হোক আমি যদি বাঁচি, তাহলেই-তো আবার তওবা করার সুযোগ পাব, আর যদি বেঁচেই না থাকি তাহলে ঈমান আবার থাকবে কিভাবে? চোর কোন অবস্থার কারণে চুরি করছে তা না জেনে যেমন চোরের হাত কাটা যায় না, তেমনি একজন মানুষ কেন সুদের সম্মুখীন হয়েছে, তাকে সহযোগিতা করার মত কোন লোক ছিল কি-না অথবা সে নিরুপায় ছিল কি-না, তা না যেনে ঢালাওভাবে হারাম হারাম বুলি আওরানো ঠিক না। কারণ এটা ইসলামী রাষ্ট্র না, যে এখানে বায়তুল মাল থেকে কাউকে সাহায্য করা হয়। সুতরাং শীতকালের ব্যবস্থাপনা গরমের দিনে বেমানান।

আমরা দেখতে পাই যে, বর্তমানে বেসরকারি ব্যাংকের মধ্যে বাংলাদেশ ইসলামী ব্যাংকই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ অর্থ লগ্নি-কারী ব্যাংক। এখানে মানুষ অর্থের আদান –প্রদান করেন একমাত্র ধর্মীয় ভীতির দিকে লক্ষ্য রেখে। কাজেই আমরা চাই এই ব্যাংকটি তাদের লাভের দিকে বেশি করে না তাকিয়ে বরং ধর্মীয় বিধানের দিকেই দিকে বেশি করে খেয়াল দিক। তারা অবশ্যই ব্যাংকিং কার্যক্রম আরও সহজ ও বোধগম্য করার ব্যবস্থা করুক। তাদের দেয় আর্থিক সহযোগিতার শুধুমাত্র মুনাফার দিকে না তাকিয়ে বরং যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাদের দিকেও দৃষ্টি দিক। প্রতিটি ব্যাংকের সাথেই স্টোরের ব্যবস্থা করুক। মুফতি সাহেবদের নাম, যশ বা খ্যাতির দিকে না তাকিয়ে যারা ব্যাংকিংয়ের মূল ভাষা ইংরেজি বুঝেন, তাদেরকে শরিয়া বোর্ডে নিয়জিত করুক। সাধারণ জনসাধারণকে যে সকল দলিল- দস্তাবেজে স্বাক্ষর করতে হয়, সেগুলো অনুবাদ করে বাংলাতে করে ফেলু্ক। নিচে আমি একটি ছক প্রদান করছি, আশা করি চিন্তাশীল ব্যক্তিগণ এই ছকটি থেকে প্রকৃত তথ্যের তুলনা সহজেই বের করতে পারবেন:

প্রকৃত ব্যবসায় ইসলামী বিধানের ছক

মূলধনের মালিক বা মূলধন সরবরাহকারী।
মূলধন ব্যবহারকারী এবং তার নেতৃত্বে  উৎপাদনকারীর নিকট থেকে ক্রয়।
মূলধন ব্যবহারকারী এবং তার নেতৃত্বে ভোক্তার কাছে বিক্রয় ।
সকল কর্মচারীর মজুরী ও ব্যবসা পরিচালনার খরচ।
ব্যবসাকালীন সকল প্রকার খাজনা ও কর
পরিচালনাধীন   ব্যবসায় লাভ / ক্ষতি।

 সর্ত মোতাবেক নিজের লাভ কর্তন।
সর্ত মোতাবেক লাভ ক্ষতির অংশ সহ মূলধনের মালিককে মূলধন ফেরত।

উপরেরটি হালাল ব্যবসার ছক

নীচেরটি একটি উদাহরণমূলক ছক

হযরত খাদিজা (রাঃ)।
আল্লাহর রসুল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক সিরিয়া থেকে ক্রয়।
আল্লাহর রসুল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক মদিনাতে বিক্রয়।

সহযোগিতা ও বাহনের খরচ।
ব্যবসাকালীন সকল প্রকার খাজনা ও কর।
পরিচালনাধীন   ব্যবসায় লাভ / ক্ষতি।

সর্ত মোতাবেক নিজের লাভ কর্তন।
হযরত খাদিজা (রাঃ) কে লাভ/  ক্ষতি সহ মূলধন ফেরত প্রদান।

সরাসরি নির্ধারিত সুদ ব্যবস্থা

মূলধনের মালিক বা মূলধন সরবরাহকারী
সাধারণ ভোক্তা
মূলধনের মালিক বা  লাভসহ মূলধন গ্রহণকারী।

লাভ নির্ধারিত। কোন প্রকার ক্ষতি নেই।

উপরেরটি হারাম ব্যবসার ছক

 

কাজেই উপরোক্ত ছক অনুসারে একটা বিষয় ভালভাবেই বুঝা যায় যে, কোন ব্যাংকের কর্মচারীই তাদের নিজস্ব অর্থ অন্য কাউকে দিয়ে তার কাছে থেকে অর্থ গ্রহণ করে না বা করতে পারে না; কারণ তারা মূল টাকার মালিক না। বরং এমন কিছু মানুষ আছে, যাদের কাছে অর্থ আছে কিন্তু অর্থকে পরিচালনা করা বা ব্যবসা করার মত জ্ঞান,

ব্যবসা হালাল-হারামের প্রকৃত সর্ত

১। প্রদানকারী > গ্রহণকারী > প্রদানকারীকে গ্রহণকারী কর্তৃক সমপরিমাণ সম্পদ ফেরত = হালাল।

২। প্রদানকারী > গ্রহণকারী > প্রদানকারীকে গ্রহণকারী কর্তৃক সর্ত মোতাবেক অতিরিক্ত অন্যমাণের সম্পদ ফেরত = হালাল।

৩। প্রদানকারী > গ্রহণকারী > প্রদানকারীকে গ্রহণকারী কর্তৃক অতিরিক্ত সমমানের অর্থ বা মূলধন ফেরত = হারাম।

বি: দ্রঃ উপরোক্ত সর্তসমূহ কেবল দাতা-গ্রহীতা বা Hand to hand ব্যবস্থার জন্য প্রযোজ্য। কয়েকটি হাত বদলের বেলায় বিষয়টি নিয়ে সমগ্র পৃথিবীতেই ইসলামী স্কলারদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। যার ফলে ব্যাংকিং ফায়সালার বেলায় এত মতের সম্মুখীন হতে হয়। ফলস্বরূপ আমরা কখনো চাই না যে, আমাদের কষ্টার্জিত হালাল অর্থ কোনভাবে হারাম হয়ে যাক। তবে যদি কোন ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠান তাদের শক্তিশালী অর্থের বিনিময়ে ইসলাম ধর্মের সিদ্ধান্ত প্রদানকারী মুফতি সম্প্রদায়দেরকে ক্রয় করে তাদের দিয়ে কৌশলে জায়েজ বা বৈধ ঘোষণা করিয়ে নিতে পারে বা এতে যদি মুফতি সাহেবরা বিক্রি হয়ে যায়, তাতে আমার মনে হয় আমাদের মত সাধারণ মুমিন ব্যক্তিরা খুব একটা ধরা পড়বে বলে মনে হয় না। কারণ এই সকল বিষয়গুলোর জন্য প্রথমেই মুফতি সাহেবরাই আল্লাহর কাছে হিসাবের সম্মুখীন হবেন; যেহেতু মহান আল্লাহ তাঁদেরকে এই ব্যাপারে জ্ঞানী করেছেন। তথাপি আমি একজন মুসলমান হিসাবে আমাকে বিশ্বাস করতে হবে যে, আমার কবরে আমিই যাব, সাথে কোন মুফতিই থাকবে না। যদিও উত্তম বিষয়টি মহান আল্লাহ রব্বুল আলামীনই ভাল জানেন, তারপরও এ বিষয়ে আরও অধিক তথ্য জানার জন্য ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন:

http://www.islam-qa.com/en/ref/36408

http://www.bukisa.com/articles/453630_murabahah-transaction-is-explained

http://www.islam-qa.com/en/ref/120659/islamic%20banking

http://www.islam-qa.com/en/ref/47651

http://www.islam-qa.com/en/ref/20720/islamic%20banking

http://www.islam-qa.com/en/ref/98124/ruling%20of%20Islamic%20banking

http://en.wikipedia.org/wiki/Islamic_banking

 

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *