বিদ্‌য়াতের সংজ্ঞার ভুল ব্যখ্যা প্রদান করা

1

প্রকৃত অর্থে বিদ্‌য়াত মানে ধর্মীয় আমলে নতুন উদ্ভাবনকই বুঝায়। আধুনিক রাষ্ট্রের শিক্ষিত ব্যক্তি-গন পাঠ্য বই পুস্তকে প্রকাশ করেছেন যে, বিদ্‌য়াত হল দুই প্রকার: (১) বিদ্‌য়াতে হাসানাহ এবং  (২) বিদ্‌য়াতে সাইয়া; যদিও তারা এই শ্রেণীবিন্যাস করণকেও একটা বিদ্‌য়াত হিসাবে স্বীকার করে নিয়েছেন। তাঁরা মূল বিষয়টি একেবারেই ভুলে গিয়েছেন যে, ধর্মীয় কার্যক্রম পালন পদ্ধতির সম্প্রসারণ শুরু হয়েছিল হযরত আদম (আঃ) কে দিয়ে, আর তা শেষ হয়েছে মহানবী সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাধ্যমে। মুসলিম সমাজের কাছে আমার প্রশ্ন, য়ের পরেও আবার ধর্মে নতুন আমল কিভাবে উদ্ভাবন হতে পারে?  যদি তা না হয়, তাহলে ধর্মীয় সমাজকে পরিচালনাকারী মূর্খ ব্যক্তি-গন কিভাবে এই নতুন উদ্ভাবনয়ের উপর আমল বা সমর্থন দিতে পারে?  তাহলে কি তারা বলতে চান যে, এমন কিছু আমল বা ধর্মীয় কার্যক্রমের বর্ণনা এখনো বাকি আছে, যা মহানবী সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাহাবী (রা:) দেরকে বলে যাননি?  (নাউজুবিল্লাহ)

মহানবী সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিদ্‌য়াত সম্পর্কে হুশিয়ার করে ঘোষণা করেছেন যে, “তোমারা নিজেদেরকে ধর্মের মধ্যে নব উদ্ভাবিত বিষয় থেকে দূরে সরিয়ে রাখবে। কেননা, ধর্মের মধ্যে প্রত্যেক নব উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদ্‌য়াত এবং  সকল বিদ্‌য়াতই গোমরাহি বা পথভ্রষ্টতার মূল”। বিদ্‌য়াতের সংজ্ঞা প্রদান করতে গিয়ে ফতোয়াতে বলা হয়েছে যে, “আল্লহ শব্দের জিকির করার বেলায় মূল শব্দ আল্লহয়ের পরিবর্তে সেখানে কেউ সর্বনাম যুক্ত করলো ‘হু’ (তিনি) অর্থাৎ আল্লাহু (বাংলা উচ্চারণে), আবার কেউ যুক্ত করলো ‘হি’ অর্থাৎ আল্লাহি (হিন্দি উচ্চারণে) যদিও সে তা আল্লহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যই করলো, তারপরও এরূপ অতিরিক্ত বৃদ্ধিই হল বিদ্‌য়াত”। এই ছাড়া ‘আস্তাগফিরুল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, সুবহান আল্লহ’ ইত্যাদি জিকির করাও বিদ্‌য়াত। তবে সর্বাবস্থায় মনে মনে এস্তেগফার জিকির করা অত্যন্ত ফজিলতের কাজ। তাহলে চিন্তা করে দেখুন যে, আমরা কোন অবস্থায় আছি। নিয়মানুসারে যে কোন আমল করার সময় সে আমলটি সম্পর্কে আগে জানতে হবে যে, বিষয়টি আদৌ ইসলাম সমর্থিত কি-না। এই জন্যই মহানবী সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুতবা প্রদানের সময় বার-বার বলতে অভ্যস্ত ছিলেন যে, ”ধর্মের মধ্যে সকল নতুন উদ্ভাবনই হল বিদ্‌য়াত, বিদ্‌য়াতি-গনই বিপথগামী, আর বিপথগামী-গন দোযখের আগুনে নিক্ষিপ্ত হবে”। বর্ণনানুসারে প্রত্যেক বিদ্‌য়াতই যদি বিপথগামী হয়, তাহলে কিছু মানুষ কিভাবে বলতে পারে যে, ইসলামে বিদ্‌য়াতে হাসানাহ বলে কিছু আছে?  তিনি সামাজিক অনুষ্ঠানসমূহে বলতেন, ”কোন লোক যখন কোন ভাল কাজ করবে এবং  তার দেখা-দেখি যত লোক সে ভাল কাজটি করবে, সে সকল লোকদের সমপরিমাণ ছওয়াব প্রথম ব্যক্তি পাবে। একই ভাবে কোন লোক যখন কোন মন্দ কাজ করবে এবং  তার দেখা-দেখি যত লোক সে মন্দ কাজটি করবে, সে সকল লোকদের সম পরিমাণ গুনাহ প্রথম ব্যক্তির হবে”। অতএব শার্টের বুতাম, লাঙ্গল, সাইকেল, ট্রেন, কম্পিউটার ইত্যাদি কখনো ধর্মীয় বিদ্‌য়াত নয়; বরং এই গুলো সামাজিক প্রয়োজনে ভাল উদ্ভাবন। তবে তাঁরা বলতে পারেন যে, সামাজিক বিদ্‌য়াত দুই প্রকারের যথা: বিদ্‌য়াতে হাসানাহ ও বিদ্‌য়াতে সাইয়া। যেমনঃ সাইকেল তৈরি করা বিদ্‌য়াতে হাসানাহ, অপর পক্ষে মদ তৈরি করা বিদ্‌য়াতে সাইয়া। পক্ষান্তরে ধর্মীয় বিদ্‌য়াত সম্পূর্ণরূপে হারাম বা পরিত্যাজ্য।

২০১১ এর ফেব্রুয়ারি মাসে একজন ফিলিপাইনের মুসলমানের সাথে আমার কথা হল। তিনি আমাকে বললেন, “তোমাদের দেশে মসজিদের কোন অভাব নেই, নামাজীর সংখ্যাও দেখা যায় বেশ ভাল; তবে বেশীর ভাগ মানুষ শিরক ও কুফর জাতীয় বিদ্‌য়াতে লিপ্ত আছে”। তখন আমার কাছে মন্তব্যটি শুনে খারাপ লাগলেও তাঁর মন্তব্যের সত্যতা স্বীকার করে আমি বলেছিলাম, “আমাদের জন্য আল্লহর কাছে দোয়া কর”। আমার এই লেখাগুলোর মুখ্য বিষয় যেহেতু বিদ্‌য়াত বিষয়ে মানুষকে অবহিত করানো ও ইমান রক্ষার জন্য সে বিদ্‌য়াতি পথ থেকে ফেরানো, তাই আমি বিদ্‌য়াত এবং  বিদ্‌য়াতে হাসানাহ সম্বন্ধে ওয়েব সাইট থেকে আন্তর্জাতিক প্রশ্নের উত্তরের সামান্য অংশ মূল ইংরেজি এবং  অনুবাদের আরবি ও উর্দু অংশ আপনাদের জন্য তুলে ধরলাম:

1- أنّ النبي صلى الله عليه وسلم كان يكرر مرارا وتكرارا أنّ : ” كلّ محدثة بدعة وكلّ بدعة ضلالة وكل ضلالة في النار ” . رواه النسائي في سننه : صلاة العيدين : باب كيف الخطبة والشاهد من هذا الحديث مروي من طريق جابر رضي الله عنه عند أحمد ومن طريق العرباض بن سارية عند أبي داود ومن طريق ابن مسعود رضي الله عنه عند ابن ماجة .
وكان صلى الله عليه وسلم يقول إِذَا خَطَبَ : أَمَّا بَعْدُ فَإِنَّ خَيْرَ الْحَدِيثِ كِتَابُ اللَّهِ وَخَيْرُ الْهُدَى هُدَى مُحَمَّدٍ وَشَرُّ الأُمُورِ مُحْدَثَاتُهَا وَكُلُّ بِدْعَةٍ ضَلالَةٌ .. ”  رواه مسلم رقم 867
فإذا كانت كلّ بدعة ضلالة فكيف بقال بعد ذلك أنّ هناك في الإسلام بدعة حسنة . هذا لعمر الله صريح المناقضة لما قرّره النبي صلى الله عليه وسلم وحذّر منه .
2- أن النبي صلى الله عليه وسلم قد أخبر أنّ من ابتدع في الدّين بدعة محدثة فإنّ عمله حابط مردود عليه لا يقبله الله كما جاء ذلك في حديث عائشة رضي الله عنها قالت : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ فِيهِ فَهُوَ رَدٌّ . ”  رواه البخاري فتح رقم 2697 فكيف يجوز بعد ذلك أن يقول شخص بجواز البدعة والعمل با .

For example, the innovated adhkaar (dhikr) such as saying the name of Allaah on its own (“Allaah…Allaah… Allaah”) or the pronoun (“Hu… Hu… Hu…” is meaning “He… He… He…”). This is a new thing that has been innovated in the religion, intended as worship of Allaah, but there is no evidence for this, either specific or general… so it is bid’ah.

The Prophet (peace and blessings of Allaah be upon him) stated repeatedly that: “Every newly-invented thing is a bid’ah (innovation), every bid’ah is a going astray, and every going astray will be in the Fire.” (Reported by al-Nisaa’i in al-Sunan, Salaat al-‘Eedayn, Baab kayfa al-Khutbah). Reports with the same meaning were narrated via Jaabir (may Allaah be pleased with him) by Ahmad, via al-‘Irbaad ibn Saariyah by Abu Dawud and via Ibn Mas’ood (may Allaah be pleased with him) by Ibn Maajah.

The Prophet (peace and blessings of Allaah be upon him) used to say, when beginning a khutbah (sermon): “… The best of speech is the Book of Allaah and the best of guidance is the guidance of Muhammad. The worst of things are those which are newly-invented, and every innovation is a going astray…” (Reported by Muslim, no. 867)
If every bid’ah is a going astray, how can some people then say that there is such a thing in Islam as “bid’ah hasanah”?  By Allaah, this is an obvious contradiction of the statement and warning of the Prophet (peace and blessings of Allaah be upon him).
The Prophet (peace and blessings of Allaah be upon him) stated that whoever innovates something new in the deen (religion) will have his deed rejected, and Allaah will not accept it, as is stated in the hadeeth narrated by ‘Aa’ishah (may Allaah be pleased with her), who said: “The Messenger of Allaah (peace and blessings of Allaah be upon him) said: ‘Whoever innovates something in this matter of ours that is not a part of it will have it rejected.'” (Reported by al-Bukhaari, Fath al-Baari, no. 2697). How can anybody then say that bid’ah is acceptable and it is permitted to follow it?

 

1 – نبى كريم صلى اللہ عليہ وسلم بار بار تكرار كے ساتھ ہر خطبہ جمعہ اور عيد كے خطبہ ميں يہ بيان فرمايا كرتے تھے:

” ہر نيا كام بدعت ہے، اور ہر بدعت گمراہى ہے اور ہر گمراہى آگ ميں ہے “

اسے نسائى نے باب كيف الخطبۃ صلاۃ العيدين ميں روايت كيا ہے، اور مسند احمد ميں جابر رضى اللہ تعالى عنہ سے اور ابو داود ميں عرباض بن ساريہ اور ابن ماجہ ميں ابن مسعود رضى اللہ تعالى عنہم سے مروى ہے.

اس حديث ميں شاہد ” ہر گمراہى آگ ميں ” ہے.

جب رسول كريم صلى اللہ عليہ وسلم خطبہ ارشاد فرماتے تو آپ يہ كہتے:

” اما بعد: يقينا سب سے بہتر كلام اللہ كى كتاب اللہ ہے، اور سب سے بہتر طريقہ محمد صلى اللہ عليہ وسلم كا ہے، اور سب سے برے امور نئے ايجاد كردہ ہيں، اور ہر بدعت گمراہى ہے “

صحيح مسلم حديث نمبر ( 867 ).

تو كہ اسلام ميں كوئى بدعت حسنہ بھى ہے، اللہ كى قسم يہ تو صريحا جب ہر بدعت گمراہى ہے تو اس كے بعد يہ كيسے كہا جا سكتا ہے اللہ كے نبى صلى اللہ عليہ وسلم كےفرمان و فيصلہ كے مخالف ہے.

2 – اور پھر نبى كريم صلى اللہ عليہ وسلم نے تو يہ بتايا ہے كہ جس نے بھى دين ميں كوئى نيا كام اور بدعت ايجاد كى تو اس كا عمل تباہ اور مردود ہے، اسے اللہ تعالى قبول نہيں فرمائيگا، جيسا كہ درج ذيل حديث ميں وارد ہے:

عائشہ رضى اللہ تعالى عنہا بيان كرتى ہيں كہ رسول كريم صلى اللہ عليہ وسلم نے فرمايا:

” جس كسى نے بھى ہمارے اس دين ميں كوئى ايسا كام ايجاد كيا جو اس ميں سے نہيں تو وہ مردود ہے “

صحيح بخارى بمع فتح البارى حديث نمبر ( 2697 ).

تو پھر اس كے بعد كسى شخص كے ليے بدعت كو جائز كہنا اور اس پر عمل كرنا كس طرح جائز ہو سكتا ہے.

 

আমি হাদিসে কুদসীর একটি সূত্র থেকে উদাহরণ দিচ্ছি। রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, হে লোকগন! তোমাদিগকে আল্লহর সামনে সমবেত করা হইবে পাদুকাহীন, বস্ত্রহীন খাতনাহীন অবস্থায় আল্লহ তায়ালা বলিয়াছেন, যেরূপে আমি প্রথম সৃষ্টির সূচনা করিয়াছি, সেভাবেই প্রত্যাবর্তন করাইব অবহিত হও, কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম যে ব্যক্তিকে পোশাক পরান হইবে, তিনি হইবেন হযরত ইব্রাহীম (আঃ)। আরও অবহিত হও, আমার উম্মত হইতে কতক পুরুষকে আনা হইবে এবং তাহাদিগকে বামদিকে (দোযখের পানে) লইয়া যাওয়া হইবে। তখন আমি বলিব, হে আমার প্রভু! ইহারা আমার প্রিয় সঙ্গী! তখন বলা হইবে, তুমি জান না ইহারা তোমার অনুপস্থিতিতে দীনের মধ্যে কি কি বিদ্‌য়াতের প্রচলন করিয়াছে। আমি বলিব, যেরূপ সৎ বান্দা (হযরত ঈসা আঃ) বলিয়াছেন, আমি যতদিন জীবিত ছিলাম, ততদিন তাহাদের উপর (পরিদর্শক) ছিলামতখন বলা হইবে, তুমি তাহাদের হইতে বিচ্ছিন্ন হইবার পর থেকে তাহারা পশ্চাদপসরণ করিতে থাকিলউল্লিখিত হাদিস থেকে দেখা যাচ্ছে যে, স্বয়ং রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও বিদ্‌য়াতিদের কাছে থেকে ফাঁকিতে পরবেন, যা মহান আল্লহ রব্বুল আলামীন তাঁকে জানিয়ে দিবেন। আর সেখানে তাঁর সঙ্গী বা সাহাবীগণও দোযখের আযাব থেকে বাদ পরবে না। সেমুহুর্তে রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর তাঁকিয়ে দেখা ছাড়া তখন আপাতত করার মত কিছুই থাকবে না; যদিও কোন মু’মিন চিরকাল দোযখে থাকবে না। সেক্ষেত্রে আমাদের সময়ের বিদ্‌য়াতপন্থিদের অবস্থা কি হবে, তা নিজে থেকেই একবার চিন্তা করে দেখা উচিৎ।

জোঁক এবং মশা মানুষের রক্ত চোষে। সেই প্রাণী শরীরে লাগার সময় টের না পাওয়া গেলেও যখন রক্ত চোষার জন্য টান দেয়, তখন শরীরের সেই অংশের একটা চুলকানির সৃষ্টি হয়, যাতে রক্তচোষার উপস্থিতি টের পাওয়া যায়। যথাসম্ভব তখনই প্রতিরোধ করার মত একটা ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। অথচ রক্ত চোষা বাদুর যখন শরীরের রক্ত চোষে, তখন চোখ দিয়ে না দেখা পর্যন্ত সেই রক্তচোষার উপস্থিতি মোটেও টের পাওয়া যায় না। বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে যে, সেই বাদুর যখন মানুষের শরীরে বসে, তখনই তার মুখ থেকে একপ্রকার লালা বের হয়ে সেই স্থানটিকে অবশ করে ফেলে। ফলে সে যখন রক্ত চোষে, তখন আর মোটেও টের পাওয়া যায় না, যা হয় মানুষের জন্য অজানা-বশত ভয়ানক পরিস্থিতি। তাই আমাদের সমাজে সাধারণ লোকগুলোর বিদ্‌য়াত কমপক্ষে বুঝা যায় এবং সেক্ষেত্রে ব্যবস্থাও হয়ত নেয়া সম্ভব। কিন্তু যখন আলেম বা হুজুর উপাধিধারী ব্যক্তিগণ কোন বিদ্‌য়াত কার্য চালিয়ে যায়, তা হয় রক্তচোষা বাদুরের মত, যা আমাদের জন্য তথা সমগ্র পৃথিবীতে ইসলামের জন্য মহা বিপদজনক পরিস্থিতি ডেকে আনে। হয়তোবা সাহাবী (রা) দের একাডেমিক সার্টিফিকেট না থাকার কারণে বা বিশাল কোন প্রতিষ্ঠান থেকে সনদ না থাকার কারণে তাদের এত অহংকার ছিল না, কারণ তাঁরা রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর মূল শিক্ষাটিই গ্রহণ করেছিলেন। বর্তমান সময়ে সবথেকে বড় বিপদ হল, ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত ব্যক্তিদের এত সব সনদ বা উপাধি যে, তাদেরকে বিদ্‌য়াতের কথা বললে নিজের নামই আরও অমুসলিমের নামের সাথে তালিকাবদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা বিদ্যমান রয়েছে। কাজেই বর্তমান সময়ের মহা পণ্ডিতদের কি ভুল ধরা সম্ভব?

সব থেকে বড় একটি বিষয় প্রতিটি ব্যক্তিকে খেয়াল রাখতে হবে, তাহলো মানুষ যত বেশী শিখবে, তত বেশী পরিষ্কার হয়ে যাবে অর্থাৎ ধর্ম এবং  বিদ্‌য়াতকে আলাদা করে বুঝতে শিখবে। সেই ক্ষেত্রে অন্যের ধর্ম পালন ভুল ধরার চেয়ে নিজের ভুল ধরতে বেশী মনোযোগী হবে। এই জন্যই খনার বচনে বলে বলে “অল্প বিদ্যা ভয়ংকরী”। জ্ঞানী লোকেরা রাগ না করে বরং শিখতে চেষ্টা করে। একটু লক্ষ্য করুন:                                                                      

১।  ৪ যোগ ২ = ৬

২।  ৪ যোগ ৪ বিয়োগ ২ = ৬

৩।  ৪ যোগ ৯ বিয়োগ ১ ভাগ ২ = ৬

৪।  ৪ যোগ ৪ ভাগ ২ বিয়োগ ১ গুণন ২ = ৬

কাজেই ১ নাম্বারের সমমান জানা ব্যক্তির কাছে ২, ৩, ৪ নম্বরের সকল তথ্য ভুল মনে হবে, কিন্তু ৪ নাম্বারের সমমান জানা ব্যক্তিকে ১, ২, ৩, ৪ সবই ঠিক মনে হবে। তাই বলছি আগে নিজে বেশী করে জানুন, তার পরে অন্যের আমলকে বিচার করতে চেষ্টা করুন। তাই কেউ যদি মনে করে যে, আরবি জানলেই সব জানা যায়, তাছাড়া অন্য কেউ কিছুই জানে না; সেই ক্ষেত্রে কখনোই জ্ঞানার্জন করা সম্বব না। যদিও উত্তম বিষয়টি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনই ভাল জানেন, তারপরও এ বিষয়ে আরও অধিক জানার জন্য ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন:

http://www.islamqa.com/en/ref/864

http://www.islamqa.com/en/ref/10843

http://www.islamqa.com/en/ref/9389

http://www.islamqa.com/en/ref/7277 

You may also like...

1 Response

  1. Luckie says:

    Thank you for writing and sharing this informative article. You are apparently very knoeawdgelble in this area and I have found this to be interesting and intelligent reading. Good job.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *