বিলম্বে মসজিদে গেলে পরবর্তী রাকায়াতের জন্য দাঁড়িয়ে থাকা

বিলম্বে মসজিদে গেলে নামাজের পরবর্তি রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে থাকা

বিলম্বে মসজিদে গেল দাঁড়িয়ে থাকা উচিত নয়।

বিলম্বে জামাতে অংশগ্রহণকারীদের সম্বন্ধে রসুল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমরা নামাজ পড়তে এসে আমাদেরকে যে অবস্থায় পাবে, সে অবস্থায়ই ধরবে”। এই হাদিসের আলোকে দেখা যায় যে, আহলে হাদিসের ভাই-গন যে যুক্তিতে নিজে সূরা ফাতিহা না পড়া পর্যন্ত ইমামের সাথে রুকুতেও যায় না, তারা নিশ্চয়ই-ই গোঁড়ামি করে। সুরা ফাতিহা পড়াটা এই মুহূর্তে মোটেও জরুরী নয়। কারণ জামায়াতে অংশগ্রহণ করার জন্য শুধুমাত্র একটা বিষয় প্রাথমিকভাবে জরুরী, তাহলো তাকবীরে তাহ্‌রিমা বা আল্লহু আকবার বলে চলমান জামায়াতের মুক্তাদিদের সাথে মিলে যাওয়া।

অপর হাদিসে আছে, “যে ব্যক্তি নামাজের যতটুকু অংশ পেল, সে ততটুকুর জন্যই ফজিলত লাভ করল”। কাজেই কোন ব্যক্তি মসজিদে এসে দেখতে পেল যে, জামায়াত শুরু হয়ে গেছে অথবা ইমাম হয়তো রুকু থেকে দাঁড়িয়ে সেজদার দিকে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় সাধারণত প্রায় বেশীরভাগ মুসুল্লি-গনই ধর্মীয় বিধান না জানার কারণে পরবর্তী রাকায়াত তথা ইমাম পুনরায় দাঁড়ানোর জন্য অপেক্ষা করে থাকে। আসলে বিধান হল মসজিদে প্রবেশ করেই তাকবীর দিয়ে হাত বেধে ইমাম যে অবস্থায় আছে, সরা-সরি সে অবস্থায়ই চলে যাওয়া। এখানে শুধুমাত্র ফরজ তাকবীর ছাড়া আর কোন দোয়া-কালাম পড়ার দরকার নেই; তবে অবশ্যই তাকবীরে তাহ্‌রিমা দিতে হবে।

স্রোতাদেরর যোগ্যতা বুঝে বক্তৃতা দেয়া উচিত।

বিলম্বে মসজিদে যাবার পরে অনেক সময় দেখা যায় কিছু মুসুল্লি সরাসরি এই সে তাকবীর ছাড়াই ইমাম যে অবস্থায় আছে সে অবস্থায় চলে যায়। এই প্রকারের নামাজ কখনোই পরিপূর্ণ হতে পারে না, কারণ: তাকবীর বলে নামাজ শুরু করা ফরজ। আর ফরজ তরক করলে নামাজ মোটেও আদায় হবে না। মোট কথা হল বর্তমান সময়ের ইমাম সাহেব-গন মসজিদে খুৎবা বা জনসাধারণের উদ্দেশ্যে বক্তৃতা দেয়ার সময় এমন সব তথ্য শুনিয়ে থাকেন, যা কিনা সবাই অতি উচ্চ মানের বক্তৃতা মনে করে। অথচ তাঁর পিছনে যারা নামাজ আদায় করছে, তারা বিসমিল্লাহ সঠিক ভাবে বলতে পারে কি-না, সেদিকে কোন দৃষ্টি নেই। প্রতিজন মানুষ যদি তাদের মৌলিক ধর্মীয় শিক্ষা অর্জন করতে পারত, তাহলে এই ধরনের উচ্চ মানের বক্তৃতা তাদের জন্য প্রযোজ্য হত। অথচ যে ব্যক্তি তৃতীয় শ্রেণীর বই পড়তে পারে না, তাকে যদি বি এই ক্লাসের বই পড়তে দেয়া হয় তাহলে সে ব্যক্তির অবস্থা যা হবে, আমাদের মুসুল্লিদের অবস্থা বর্তমানে সে অবস্থায় আছে।

আমরা বদরের যুদ্ধের যুদ্ধ-বন্ধীদের সাথে পালনীয় নীতিমালা থেকে শিক্ষা নিতে পারি যে, রসুল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দশ জন ব্যক্তিদেরকে শিক্ষা দেয়ার বিনিময়ে যুদ্ধ-বন্ধীদেরকে মৃত্যু দণ্ডের পরিবর্তে মুক্তি দিয়েছিলেন। সে সকল সাহাবী (রা:) গন কিন্তু সবাই-ই প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ ছিলেন। শিক্ষার অতীব গুরুত্বের কারণে তাদের কিন্তু শিক্ষা গ্রহণ করতে শরম করেনি। অথচ আমাদের সমাজের ৯০% মুসলমানই শুদ্বরূপে মৌলিক ধর্মীয় শিক্ষা থেকে বাহিরে। অতএব মুসলমান হিসাবে সকল ধর্মীয় ভাইদের প্রতি দাওয়াত থাকল এই যে, আপনারা বয়সের দিকে না তাকিয়ে মৌলিক ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করুন, যা সকল মুসলমান নর-নারীর জন্য ফরজ। যদিও উত্তম বিষয়টি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনই ভাল জানেন, তারপরও এ বিষয়ে আরও অধিক জানার জন্য ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন:

http://www.islam-qa.com/en/ref/75156/stand%20up%20with%20hand

http://www.islamicity.com/qa/action.lasso.asp? -db=services&-lay=Ask&-op=eq&number=2631&-format=detailpop.shtml&-find

You may also like...

2 Responses

  1. It is in reality a great and useful piece of info. Thanks for sharing. 🙂

  2. Like says:

    Like!! I blog quite often and I genuinely thank you for your information. The article has truly peaked my interest.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *