বৃদ্ধ মানুষের স্ব-ইচ্ছায় বিবাহে বাধা দেয়া

আমাদের মধ্য একটা অত্যন্ত জঘন্য বিষয় সমাজে প্রচলিত আছে, যা ইসলামিক এবং বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে একেবারেই অনুচিত। আর তাহলো মানুষ যখন বৃদ্ধ হয়ে যায় এবং সেমতাবস্থায় তার স্ত্রী মারা যায় অথবা যেকোনো অবস্থায় বিপত্নীক হয়, তখন সেই পরিবারের সদস্যরা আর সেই বৃদ্ধ ব্যক্তিকে পুনঃ-বিবাহে সম্মতি দেয় না। কারণ তারা চিন্তা করে যে, এই বয়সে যদি আবার সে বিবাহ করে, তাহলে আবার তার পরের স্ত্রীর ঘরে হয়ত সন্তান জন্ম নিবে। আর সেমতাবস্থায় হয়ত তার পূর্বের ওয়ারিশদের মিরাসের সম্পদের পরিমাণ কমে যাবে। মূল কথা হল নিজেদের সুবিধা বজায় রাখার জন্য সেই বৃদ্ধের সকল প্রকার অসুবিধা করতেও কোন দ্বিধা করে না।

আমার বাসার খুবই নিকটে একজন সরকারী চাকুরীজীবী আছে, যে পিতার একমাত্র ছেলে এবং বিবাহ করেছে কোন এক পিতার একমাত্র কন্যা। যাহোক বিবাহের পর থেকে সে তার স্ত্রীকে নিজের বাড়িতে নিয়ে স্থায়ী করাতে পারেনি। অতঃপর শশুর বাড়িতে ঘর-জামাইয়ের মত সে থাকে। কারণ তার ধারনা যে, যেহেতু তার শশুরের আর কোন সন্তান নেই, সেই অনুসারে শশুরের স্থাবর-অস্থাবর সকল সম্পত্তির মালিক সে নিজেই হবে। এমতাবস্থায় যদি সে তার নিজের বাড়িতে থাকে, তাহলে তার স্ত্রী শশুরের একমাত্র মেয়ে হওয়াতে সেই সম্পত্তির এক বৃহৎ অংশ শশুরের অন্য শরিক-গন পাবে। কাজেই শশুর জীবিত তাকতেই যদি সম্পত্তির একটা হিসাব নিজেদের নামে করা যায়, তাহলে সেটাই সবথেকে উত্তম ব্যবস্থা। যাহোক মুল আলোচনা হল এর মধ্যেই সেই চাকুরীজীবীর মা মৃত্যু বরন করে। তা সত্ত্বেও তার স্ত্রীকে সে নিজের বাড়িতে নিয়ে স্থায়ী করাতে পারেনি। বোনগুলো বিয়ে হয়ে যাওয়াতে তার পিতা এই কা হয়ে পরে। এমনই পরিস্থিতি তার পিতা আবার বিবাহের জন্য মনস্থির করে। আর সেই সিদ্ধান্তই হয়ে দাড়ায় তার জন্য কাল স্বরূপ। পিতার বিবাহের মাধ্যমে আবার তার ভাই-বোন জন্ম নেয়ার সম্ভাবনা থাকায় সে প্রথমে তার পিতাকে সরাসরি নিষেধ করে। অতঃপর তার পিতা সিদ্ধান্তে অটল থাকাতে একদিন যেয়ে এমন প্রহার শুরু করে যে, সেই পিতা প্রহারের চাপে যায়গায় পায়খানা করে দিতে বাধ্য হয়। এখানে শুধুমাত্র স্বার্থের জন্য কোন মানবিকতার স্থান দেয়া মোটেও সম্ভব হয়নি।

অথচ বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে যে, পুরুষ মানুষ যখন ৬০ বৎসর অতিক্রম করে, তখনই তার সাথিকে বেশী কাছে পাবার জন্য সবথেকে কামনা করে। এমনকি এই সময় তাদের সারা জীবনের চীর-সাথী ঝগড়া পর্যন্তও থাকে না। কাজেই যদি সেই পরিস্থিতিতে কোন বৃদ্ধ যদি সঙ্গত কারণেই বিবাহ করতে চায়, তাহলে কোন অবস্থায়ই তাকে বাধা দেয়া ইসলাম এবং বিজ্ঞান কোন দৃষ্টিতেই উচিৎ না। এই পরিস্থিতিতে অনেকে আবার পুত্রবধূ বা কন্যাদের সাহায্যের অজুহাত দেখিয়ে বিবাহ করতে বাধা দেয়। আসলে যে ব্যাপারটি আমাদের সবার মনে রাখা উচিৎ, তাহলো স্ত্রীর দায়িত্ব কি পুত্রবধূ বা কন্যার দ্বারা পালন করা সম্ভব?  কখনোই না। আমার জানামতে কোন পিতার দুইজন অধ্যাপক সন্তানের কার্যক্রম জানা আছে। তাদের মাতা মৃত্যু বরন করলে পিতার বৃদ্ধাবস্থায় যখন তিনি বিবাহ করার জন্য মনস্থির করলেন, তখন সেই অধ্যাপক সন্তান-দ্বয় এবং তাদের স্ত্রীরা মিলে সেই পিতাকে বিবাহের ব্যবস্থা করে দেন। তাদের শিক্ষা এবং জ্ঞানের আলোকেই তারা যোগ্য সন্তানের দায়িত্ব পালন করেন। সুতরাং আমাদের কারো পিতা যদি সংগত কারণে বিবাহ করার জন্য মনস্থির করে, তাহলে তাকে বাধা না দিয়ে বরং সহযোগিতা করে বিবাহের ব্যবস্থা সম্পন্ন করা উচিৎ। আর সেই ক্ষেত্রে তার সন্তান জন্ম গ্রহণ করলে মিরাস কিভাবে বণ্টন হবে বা কে কতটুকু পাবে তা মহান আল্লহ রব্বুল আলামীন অনেক পূর্বেই আমাদের ভাগ্যে লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন। পিতা বা বৃদ্ধ ব্যক্তিদের বিবাহ বন্ধ করলেই সেই ভাগ্য কখনো পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। যদিও উত্তম বিষয়টি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনই ভাল জানেন, তারপরও এ বিষয়ে আরও অধিক জানার জন্য ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন:

http://www.islam-qa.com/en/ref/87666/marriage%20for%20old%20man

http://www.islam-qa.com/en/ref/12630/marriage%20for%20old%20man

http://www.islam-qa.com/en/ref/146882/marriage%20for%20old%20mann 

You may also like...

8 Responses

  1. EsperBroow says:

    can you take 40mgs of online

    86af online 20mg 12 stck

  2. AveniraBroow says:

    discussion on online online

    6a28 online preis versandapotheke

  3. AveniraBroow says:

    livraison express online

    6a28 spam online store

  4. I believe you have noted some very interesting details, thankyou for the post. 🙂

  5. EddaBroow says:

    online en lnea en

    0f24 online in france

  6. Likely I am likely to save your blog post. 🙂

  7. Like says:

    Like!! I blog quite often and I genuinely thank you for your information. The article has truly peaked my interest.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *