বোরখা পরিধান করেও বে-পর্দায় থাকা

5.2

মহিলাদের জন্য পর্দা প্রথা মেনে চলা ফরজ। বর্তমানে পর্দা করা মানেই আমরা বোরখা পরিধান করা বুঝি। আসলে বোরখা বলতে কোন জিনিস কোর’আন, হাদিস, ইজমা এবং  কিয়াসে লিপিবদ্ধ নেই। বোরখা এইজন্য আমরা আমাদের দেশ সহ কিছু-কিছু দেশের জন্য পর্দার গ্রহণযোগ্য মাধ্যম হিসাবে মনে করি যে, এই পোশাকে পর্দার সব কয়টি আদেশই মানা সম্ভব হয়। যে সকল বিষয়গুলো পর্দার জন্য বাধ্যতামূলক, তাহলো:

   (১) অবশ্যই সম্পূর্ণ শরীর ঢাকা থাকে (মুখমণ্ডল হাত পায়ের পাতা ব্যতীত) , এমন কাপড় পরতে হবে।

   (২) কাপড়টি অবশ্যই এতটুকু টাইট এবং  পাতলা হওয়া যাবে না, যাতে শরীরের চামড়া দেখা যায়।

   (৩) কাপড়টি এমন ভাবে তৈরি করা যাবে না, যাতে তার যৌন সম্পর্কিত বিশেষ অঙ্গ গুলো বাহির থেকে দেখেই বুঝা যায়।

   (৪) কাপড়টি এই জাতীয় হবে না, যা সাধারণত পুরুষ মানুষ ব্যবহার করে।

   (৫) যদি বাহিরে চলাচলের সময় যানবাহনে উঠার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে অবশ্যই তাকে পায়ে মোজা পরিধান করতে হবে। কারণ: রিকশা বা অন্য কোন গাড়িতে উঠার সময় মহিলাদের পায়ের নীচে তথা টাকনার উপরের অনেকাংশের কাপড় অনাবৃত হয়ে যায়। জেনে শুনে এই ধরনের পর্দার খেলাপ করা হারাম। কারণ: মহিলা সাহাবী (রা:) গন যখন যানবাহন হিসাবে উটে আরোহণ করতেন, তখন উট মাটিতে বসানোর পরও পর্দার ব্যবস্থা করতেন; যাতে তাঁর শরীরের গোপন অঙ্গ দেখা না যায়।

উপরোক্ত শর্তের আলোকে দেখা যায় যে, কোন মহিলা যদি একটি ঢিলে-ঢালা বোরখা পরে, তাহলে পর্দা করার কোন শর্ত আর বাকী থাকেনা। আজ থেকে ৩০-৩৫ বৎসর পূর্বে দেখেছি, যে সকল মহিলা বোরখা ব্যবহার করত, তারা কালো রঙ ছাড়া অন্য কোন রঙের কাপড় বোরখার জন্য কল্পনাই করতে পারতো না। জেনে রাখুন, বোরখা বা পর্দার জন্য যে কোন প্রকার রঙ্গিন চাক-চিক্যপূর্ণ কাপড় ব্যবহার করা মাকরুহ। আর এখন যে কত প্রকারে বোরখার কাপড়, কাপড়ের রঙ এবং  ডিজাইন বের হয়েছে, তার কোন হিসাবই কারো জানা নেই। উল্লেখ্য বর্তমানের অনেক প্রকারের বোরখার ধরনই শরীয়ত সমর্থিত নয়। তাছাড়া এখন-তো আর বোরখা সবাই পর্দা করার জন্য পরেনা, বরং বিভিন্ন কারণে পরে যেমন:

  (১) একটি দল আছে, যারা শুধুমাত্র পর্দা রক্ষার জন্যে বোরখা পড়ে।

  (২) একটি দল আছে, যারা তাদের ব্যবহৃত নোংরা এবং  ছেড়া কাপড়গুলো আড়াল করার জন্যে বোরখা পড়ে।

  (৩) একটি দল আছে, যাদেরকে নিম্ন মানের বা কম দামী কাপড় পরিহিত অবস্থায় মানুষ যাতে না দেখতে পায়, সেজন্য পরিধানের কাপড়গুলো মানুষের চোখের আড়াল করার জন্যে বোরখা পড়ে।

  (৪) একটি দল আছে, যারা নিজেদের পরিচয় গোপন করার জন্যে বোরখা পরে।

  (৫) একটি দল আছে, যারা সব সময় যথেষ্ট খোলা-মেলা চলার পরও যখন জন সম্মুখে যায়, তখন নিজেকে পর্দানশীন মহিলা হিসাবে প্রকাশ করা তথা লোক দেখানোর জন্যে বোরখা পরে।

কাজেই বোরখা পরিধানের নিয়তের বিভিন্ন ধরণ থাকার ফলে বোরখার ধরনও বিভিন্ন মানের হয়ে গেছে। আপনি যখন বোরখা পরা কাউকে দেখবেন, অবশ্যই সে মহিলা উপরের কোন না কোন একটি সূত্রের মধ্যেই পরবে। তাই যদি না হয়, তাহলে একজন মহিলা বোরখা পরে কিভাবে চুল বাহির করে রাখতে পারে?  নিজেকে আকর্ষণীয় করার জন্য চিত্তাকর্ষক রঙের এবং  দেহের আকৃতি বুঝা যায়, এমনি টাইটি ডিজাইনের বোরখা কিভাবে পরতে পারে?  মোট কথা কি, যে ধরনের পোশাক পুরুষ পরিধান করে, সে ধরনের পোশাক মহিলাদের জন্য ব্যবহার করা হারাম হওয়া সত্ত্বেও বর্তমানে প্রচুর সংখ্যক মেয়েরা প্যান্ট ও গেঞ্জি পরা শুরু করে দিয়েছে। তাদের কাছে মৃত্যু, জানাজা, কবর, পুনরুত্থান, বেহেশ্‌ত, দোযখ এই গুলো একটা কথার কথা মাত্র। জিন্সের পান্ট পরিধান করে নিজেকে মডার্ণ দেখানোই মূল লক্ষ্য।

আমি আবারও বলছি, তাহলো বোরখা কিন্তু ইসলামের জন্য বাধ্যতামূলক নয়, বরং বাধ্যতামূলক হল পূর্ণ শরীর ঢাকার মত একটি ঢিলে-ঢালা পোশাক এবং  সে সাথে মাথা ঢাকার জন্য একটি হিজাব বা স্কার্ফ। আয়েশা (রা:) বলেছেন, ”যখন মাথা ঢাকার আয়াত নাজিল হল, তখন সকল আনসার গন তাদের স্ত্রী, কন্যা, বোন এবং  সকল মহিলাদের এই খবর দেওয়া মাত্রই তারা তাদের লম্বা কাপড়ের এক অংশ ছিঁড়ে মাথায় হিজাব হিসাবে ব্যবহার করে মহানবী সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের  পিছনে এই সে হাজির হল। তাদের মাথা দেখে মনে হচ্ছিল যে, তাদের মাথায় কাক বসে আছে”। উল্লেখিত বর্ণনা থেকেও মনে হয় যে, কাকের রঙ যেহেতু কাল, তাই মাথার হিজাবের রং বা বোরখার রং কাল হওয়াই সব থেকে উত্তম; যদিও আগে যারা বোরখা পড়তো, তাদের ১০০% মহিলাই কাল কাপড়ের বোরখা পড়তো।

এমন কোন নারী জাতি দুনিয়াতে নেই, যারা নিজের বক্ষদেশ ও লজ্জা-স্থান ঢেকে রাখে না। সে হিসাবে আরব গনও এমন কাপড় পরিধান করতেন, যা দ্বারা পূর্ণরূপে তাদের বক্ষ ও লজ্জা-স্থান সহ পূর্ণ শরীর ঢাকা থাকত। অতিরিক্ত হিসেবে আল্লহ রব্বুল আলামীন আয়াত নাজিল করলেন যে, ”তারা যেন তাদের চাদর (উরনা) দিয়ে মাথা ও কাঁধ ঢেকে রাখে এবং  তার এই কাংশ বুকের উপর দিয়ে দেয়”। আর বর্তমানে মেয়েরা (যারা ব্যবহার করে) আল্লহর উপরোক্ত তিনটি আদেশই অমান্য করে গলার উপর দিয়ে উড়না রাখে, আবার কেউ কেউ থাকে ওপেন ফিল্ড (জিন্স এবং  গেঞ্জি/কামিজ/শার্ট)। কারণ: তারা বাড়তি কাপড়ের যন্ত্রণা সহ্য করতে পারেনা।

যারা উড়না নিয়মিত ব্যবহার করে, তারাও আল্লহর নাজিল-কৃত (মাথা, কাধ ও বুক) এক এবং  দুই নং আদেশ বাদ দিয়ে তিন নং আদেশের ৪০% পালন করে। মোট কথা হল সকল মুসলমান মহিলাদের জন্য মুখ ও হাত ব্যতীত সমস্ত শরীর ঢেকে রাখা ইসলামের আইনে বাধ্যতামূলক তথা ফরজ, তবে যাদের চেহারা অত্যন্ত সৌন্দর্য-প্রবণ অথবা বিভিন্ন কারণে যে সমস্ত মহিলাদেরকে মানুষ দেখার জন্য বেশী আগ্রহ নিয়ে থাকে, তাদের জন্যে মুখ এবং  হাতও ঢেকে রাখা অতি জরুরী। মুসলমান মহিলাদেরকে যেন আল্লহ সবকিছুর মধ্যে সঠিক বিষয়টি বুঝার এবং  সে অনুসারে আমল করার সূ-বুদ্ধি দান করেন। আমিন! যদিও উত্তম বিষয়টি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনই ভাল জানেন, তারপরও এ বিষয়ে আরও অধিক জানার জন্য ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন:

http://www.islamicity.com/qa/action.lasso.asp? -db=services&-lay=Ask&-op=eq&number=34001&-format=detailpop.shtml&-find

http://www.islamicity.com/qa/action.lasso.asp? -db=services&-lay=Ask&-op=eq&number=33789&-format=detailpop.shtml&-find

http://www.islamicity.com/qa/action.lasso.asp? -db=services&-lay=Ask&-op=eq&number=30520&-format=detailpop.shtml&-find

http://www.islamicity.com/qa/action.lasso.asp? -db=services&-lay=Ask&-op=eq&number=27240&-format=detailpop.shtml&-find

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *