মানুষ মৃত্যুর পর ৩রা বা ৪০শা পালন করা

60মানুষ মৃত্যুর পর ৩রা বা ৪০শা পালন করা হল হিন্দু প্রথা। কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অতি জনপ্রিয় একটি ছোট গল্পের বই লিখেছিলেন, যার নাম ‘ঠাকুর মার ঝুলি’। তার মধ্যে একটি অতি জনপ্রিয় গল্প আছে, যার নাম ‘ভুতের মেয়ের বিয়ে’। সে গল্প যারা পড়েছেন, তারা-তো ভালো করেই জানেন, আর যারা পড়েননি-তারা একটু সারাংশ শুনেন।

গল্পে কোন একজন পিতা তার মেয়ের বিয়ে উপলক্ষে স্বর্ণকারের বাড়িতে তৈরিকৃত স্বর্ণের গহনা আনতে যায়। কিন্তু পথিমধ্যে রাত্রি হয়ে পরায় যে বিপদজনক যায়গাটি নিয়ে সে বেশী চিন্তা করছিল, সে যায়গাতেই ডাকাতের কবলে পড়ে এবং তাকে খুন করা হয়। এক সময় সে মৃত ব্যক্তি তার নিজের আকৃতিতেই ভুতের জীবন পায় ও তিনজন ডাকাতকেই হত্যা করে ফেলে। অবশেষে তার স্বর্ণালংকার নিয়ে দুই দিন পর গৃহে ফিরে, তখন মেয়ের বিয়ের লগ্নও আসন্ন হয়ে পরে। যাহোক সে এক মুহূর্তে তার স্ত্রীকে আড়ালে ডেকে নিয়ে বলে যে, ”দেখ, তুমি যে আমাকে দেখতে পাচ্ছ, আমি কিন্তু সে আমি নই। আমি দুইদিন আগে ডাকাতের কবলে পরে মরে গেছি। আমি এখন ভুত হয়ে গেছি। তুমি তারা-তারি একটা ব্রাহ্মন ভোজন (মুন্সি খাওয়ানো/মোল্লা খাওয়ানো)এর ব্যবস্থা করো। যতদিন তুমি ব্রাহ্মণ ভোজন না করাবে, ততদিন আমি ভুত হয়েই থাকবো”। এই বলে লোকটি/ভুতটি চলে যায়।

ঠাকুর মায়ের ঝুলির প্রতিটি গল্পই অতি জনপ্রিয় এবং কমপক্ষে একটি শিক্ষণীয় বিষয় আছে, যা এই কেবারে বোকা লোকের মাথায়ও ধরবে। এই গল্প গুলো একসময় দাদী-নানী তথা বয়স্কদের নিকট থেকে শুনার ব্যাপক প্রচলন ছিল। তখন থেকে মুসলমানদের মধ্যেও এই ধারনা চলে আসে যে, যদি কোন মানুষ মারা যায় এবং তার উদ্দেশ্যে তিন দিন/সাত দিন/চল্লিশ দিনের মাথায় কিছু লোক দাওয়াত করে না খাওয়ায়, তাহলে সে ব্যক্তির আত্মা দুনিয়াতে ভুত হয়ে ঘুরে বেড়ায়। তাই যত তারা তারি খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা করা যাবে, মৃত রুহের জন্য ততই কল্যাণ। এটা সবারই জানা যে, মনোযোগ সহকারে শোনা যেকোনো বিষয়ের উপর প্রত্যেকেরই একটা স্থায়ী ধারনা জন্মে যায়, যার উপর সে দৃঢ় থাকে। আসলে এই ধরনের বিধান সমূহ পালন করার উপরে ইসলামের কোন নির্দেশিকা নেই বরং এটা হল একটি পরিপূর্ণ বিদয়াত। যদিও উত্তম বিষয়টি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনই ভাল জানেন, তারপরও এ বিষয়ে আরও অধিক জানার জন্য ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন:

http://en.allexperts.com/q/Islam-947/disappear-muslim-person.htm

http://www.islam-qa.com/en/ref/1514/quran

 

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *