মিলাদুন্নবী বা সিরাতুন্নবী অনুষ্ঠান পালন করা

মিলাদুন্নবী বা সিরাতুন্নবী নিয়ে জটিলতাঃ

আমাদের দেশে রবিউল আওয়াল মাস আসা মানেই হল ঈদ-এই মিলাদুন্নবী বা সীরাতুন্নবী নিয়ে একটা ঝামেলার সৃষ্টি হওয়া। মিলাদুন্নবী সমর্থনকারী-গন সীরাতুন্নবী অনুসরণকারীদেরকে ভুল পথের পথিক মনে করে থাকেন, আবার সীরাতুন্নবী সমর্থনকারী-গন ঈদে মিলাদুন্নবী অনুসরণ-কারীদেরকে ভুল পথের পথিক বলে থাকেন। প্রকৃত অর্থে এই দুই প্রকার ইবাদতের মধ্যে কোনটাই ইসলাম সমর্থন করে না। কারণ: মহানবী সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জীবিত থাকা অবস্থায় অথবা ওফাতের পরে সাহাবী (রা:) দের মধ্যে কেউই এই আমল করেননি এবং তার পরে তাবেয়ী বা তাঁবে-তাবেয়ী-গনও এই আমল করে যাননি। উল্লেখ থাকে যে, মহানবী সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সোমবারে রোজা রাখা সম্বন্ধে একবার উনাকে জিজ্ঞাসা করা হলে উনি উত্তর দিয়েছিলেন, “সোমবারে আমার জন্ম হয়েছে, তাই আমি এই দিনে রোজা রাখি”। অথচ উনি কিন্তু বলেননি যে, “তোমরাও আমার জন্ম দিনের সম্মানে রোজা রাখ অথবা ধর্মীয় উৎসব পালন কর”।

তাহলে আমরা এত জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তি কিভাবে হলাম যে, আল্লহর আদেশ তথা রসুলের আদেশ হল নামাজ পড়া, যার কোন বিকল্পই পৃথিবীতে নেই। সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ সে আদেশটির দিকে আমাদের তেমন কোন খেয়াল নেই, অথচ যা উনি বলেননি এবং নায়েবে রসুল তথা রসুলের প্রতিনিধি হিসাবে যে ধরনের যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের কথা উনি বলে গেছেন, তারাও সমর্থন করেননা, তাহলে সেটি আবার মুসলমানদের ইবাদত হয় কিভাবে?  এই জন্যই সাহাবিদের বংশধর-গন এই রূপ কল্পিত ইবাদত পদ্ধতির কারণেই আমাদেরকে মিসকিনের দৃষ্টিতে দেখে থাকেন। উনারা জানেন যে, বাংলাদেশের মুসলমান ধর্মের নামে কিভাবে সু-কৌশলে বিদ্‌য়াত তথা কুফরি করে থাকে, যা তার নিজেরাই বুঝে না।

মিলাদুন্নবী বা সিরাতুন্নবী নিয়ে আলেমগণ কর্তৃক সাধারণ জনগণকে ভুল বুঝানোঃ

ধর্মীয় এবং অ-ধার্মিক কার্যক্রমের বিষয়ে সাধারণ জনগণকে বুঝানো তথা ভুল পথে থেকে ফেরানোর দায়িত্ব যদিও আলেমদের, কিন্তু বাংলাদেশের আলেমও আবার দুই বৃন্তের ফল। পৃথিবীর কোন দেশেই ধর্মীয় শিক্ষা ব্যবস্থায় দুই পদ্ধতি না থাকলেও ব্রিটিশ তথা ইংরেজদের সুবাদে ভারত উপমহাদেশের অন্তর্গত বাংলাদেশে আছে। যার কারণে বাংলাদেশে এত ফিতনা বেশি। দেশের সর্বোচ্চ মানের জ্ঞান সম্পন্ন আলেম যারা আছেন, তারা সবাই মিলে যদি এক সাথে বসেন এবং কুর’আন-হাদিসের মাধ্যমে সঠিক বিষয়টি খুঁজে বের করে মানুষকে বলে দেন, তাহলে আর এই সমস্যা থাকেনা। কিন্তু এটা আমরা কখনোই আশা করতে পারিনা এই জন্য যে, আমাদের আলেম-গন সবাই নিজেদেরকে সব থেকে বড় জ্ঞানী বলে মনে করেন। তাদের চিন্তা হয় যে, অন্যের সামনে বসে কোন ধর্মীয় আলোচনা করলে যদি তার সিদ্ধান্তটি না থাকে, তাহলে হয়তো তার মান-সম্মান কমে যাবে, নয়তো মানুষ তাঁকে আর আগের মতন সম্মান করবেনা। মোট কথা হল শয়তান যেভাবে আলেমদেরকে ভুল পথে পরিচালিত করে, এটা তারই একটা ব্যবস্থা আর কি! তার পরও আছে আবার এই দেশের ধর্মের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করার জন্য বিধর্মীদের ছায়া শক্তি। তারা কখনও চায়না যে, বাংলাদেশের মুসলমান-গন ভাল থাকুক অথবা একই পদ্ধতিতে ধর্মীয় উৎসব পালন করুক। তাহলে বাংলাদেশের ইসলামী শক্তি তাদের জন্য হিংসার কারণ হবে।

কোন একটি আন্তর্জাতিক প্রশ্নের উত্তরে একজন ফকীহ জবাব দিয়েছেন যে, “মহানবী সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মের পর আবু জাহেলও আনন্দ উৎসবের ব্যবস্থা করেছিল। অতএব মুসলমানদের মধ্যে কেউ যদি মহানবী সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্ম তথা ১২ই রবিউল আওয়ালের সম্মানে ফকির-মিসকিনদেরকে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেন, তাহলে এখানে দোষের কিছু নেই”। আমার দেখা ও জানামতে আন্তর্জাতিক ফতোয়া বিভাগে প্রচুর প্রশ্ন আছে মিলাদ বা মউলিদ সম্বন্ধে। প্রতিটি প্রশ্নের উত্তরেই কঠোর ভাবে মিলাদকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অপর পক্ষে ১২ই রবিউল আওয়াল উপলক্ষে বর্তমানে প্রচলিত মিলাদ ব্যবস্থার মাধ্যমে ধর্মীয় ইবাদত হিসাবে মনে করে কিছু চিল্লা-পাল্লা তথা হৈ-হুল্লোড় করা, সংঘবদ্ধভাবে সূর করে কিছু গীত -কবিতা পাঠ করা এবং সে সাথে জিলাপি বা মিষ্টি বণ্টন করা ইসলামে মোটেও জায়েজ নেই। যদিও উত্তম বিষয়টি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনই ভাল জানেন, তারপরও এ বিষয়ে আরও অধিক জানার জন্য ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন:

http://www.islamqa.com/en/ref/13810

http://en.allexperts.com/q/Islam-947/2009/3/Celebrating-Prophet-birthday.htm

http://www.islamqa.com/en/ref/10070

http://www.islamqa.com/en/ref/90026/Celebrating%20Valentine%E2%80%99s%20Day

http://www.islamqa.com/en/ref/117651/circumcision food

http://www.islamicity.com/qa/action.lasso.asp? -db=services&-lay=Ask&-op=eq&number=3072&-format=detailpop.shtml&-find

 

 

 

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *