মিলাদ ও কিয়ামের অনুষ্ঠান পালন করা

64

মহানবী সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনের এমন কোন বিষয় সাহাবী (রা:)-গন বাদ দেননি, যা আমাদের জীবনে কখনও না কখনও প্রয়োজন হতে পারে। ধর্মীয় অনুষ্ঠান-তো পরের কথা, বরং উনার জীবনের মানব সুলভ আচরণের কোন অংশ হাদিসের বর্ণনা থেকে বাদ পড়েনি। হাদিসের বর্ণনানুসারে মহানবী সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর দরুদ পাঠ করা ছাড়া কোন দোয়া আল্লহর দরবারে কবুল হয়না এটা যেমন সত্য কথা, তেমনি সত্য কথা হল কিভাবে দরুদ পড়তে হবে এবং কি বলে পড়তে হবে, তার বর্ণনাও তিনি নিজেই দিয়ে গেছেন। যার পুরোটাই তথা সবগুলো তথ্যই হাদিসে লিপিবদ্ধ আছে। বর্তমানে ভারত উপমহাদেশে প্রচলিত মিলাদ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বানোয়াট এবং পরিপূর্ণ বিদ্‌য়াত। যার ফলে কুরআন, হাদিস, ইজমা এবং কিয়াসে প্রচলিত মিলাদের কোন প্রকার সমর্থন বা তথ্য পাওয়া যায় না।

   ১। যদি অর্থের দিক থেকে আলোচনা করি, তাহলে দেখতে পাই যে, মিলাদ পড়ার সময় সুরের সাথে বাংলায় উচ্চারণ করতে গিয়ে আল্লাহুমা—সাল্লিওয়ালা—সাইইদেনা—মাওলানা অর্থাৎ সুর সৃষ্টি করার জন্য প্রতিটি শব্দের শেষেই মাদ্দ করতে হচ্ছে বা টান দিতে হচ্ছে। অথচ আরবি উচ্চারণে এখানে আল্লা উচ্চারণের পরে মাদ্দ বাদ পরে যাচ্ছে, হুম্মা উচ্চারণের পরে অতিরিক্ত মাদ্দ করা হচ্ছে, সাধারণের বেলায় হুম্মা শব্দে মীম বাদ পরে যাচ্ছে, ছল্লিয়ালা শব্দের সাথে ওয়া অক্ষর অতিরিক্ত যোগ হচ্ছে ইত্যাদি। আরবিতে কোন শব্দের সাথে যদি মাদ্দ না থাকে, সেক্ষেত্রে যদি মাদ্দ করা হয় অথবা মাদ্দ থাকলে মাদ্দ না করা হয়, তাহলে অর্থের মধ্যে কতটুকু পরিবর্তন হয় তা আলেম মাত্রই বুঝার কথা। আর যে সকল আলেম মাদ্দ-গুন্না কি বিষয়, তাই বুঝেন না অর্থাৎ শুদ্ধ রূপে কুরআন শরিফই তিলাওয়াত করতে পারেন না, তারা যে কোন বিষয়ে যে কোন কিছু বললেও এই ব্যাপারে বলার কিছুই নেই। বরং তা হবে শুধু মাত্র “উলু বনে মুক্তা ছড়ানো”।

   ২। ইয়া শব্দের অর্থ ‘হে বা এইযে’। ব্যাকরণানুসারে শুধুমাত্র মধ্যম পুরুষ ব্যতীত অন্য কোথাও ইয়া শব্দ ব্যবহার করা যাবে না, কারণ: মধ্যম পুরুষকে অবশ্যই হাজির থাকতে হয়। যে কোন হাজির মানুষকেই ইয়া বলে ডাকা হয় যেমন: ইয়া ফরহাদ, ইয়া রুহুল ইত্যাদি। অথচ মহানবী সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে সম্বোধন করে যদি বলা হয় যে, ইয়া নবী সালাম আলাইকা, ইয়া রসূল সালাম আলাইকা, তাহলে এটা সম্পূর্ণরূপে শিরকী গুনাহ হবে। কারণ: মহানবী সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুনিয়ার সকল স্থানে সমভাবে সর্বাবস্থায় বিরাজমান নয়। একমাত্র আল্লহ পৃথিবীর সকল স্থানে সমভাবে বিরাজমান। যার কারণে বলা হয় ইয়া আল্লহ, ইয়া রহমান ইয়া রহীম ইত্যাদি। কারণ হল মহান আল্লহ রব্বুল আলামীন আমার নিকটেই আছেন। তবে যদি কোন মানুষ অত্যন্ত ভাল আমল করে মহানবী সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে স্বপ্নে দেখার যোগ্যতা অর্জন করেন, তাহলে রসুল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রূহানী ভাবে এই সে উল্লেখিত ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ করে যান। পৃথিবীর যে কোন স্থান থেকে যদি কোন মুসলমান মহানবী সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে সালাম দেয়, তাহলে সে সালাম পৌঁছে দেয়ার জন্য মহান মহান আল্লহ রব্বুল আলামীন অসংখ্য ফেরেশতা নিয়োজিত করে রেখেছেন। মহান আল্লহ রব্বুল আলামীন রব্বুল আলামীনের নির্দেশে সে সালাম তাঁরা মহানবী সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে পৌঁছে দেন।

উদাহরণস্বরূপ শ্রোতার কোন ক্ষমতা নেই মোবাইলের মাধ্যমে বক্তার কথা শোনার যদি মোবাইল কোম্পানি তাদের নেট ওয়ার্ক চালু না করে। সেরূপ আপনি যদি বক্তার যায়গায় হন, মহানবী সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যদি শ্রোতার যায়গায় হন এবং ফেরেশতা যদি মোবাইলের যায়গায় থাকে, তাহলে অবশ্যই মোবাইল কোম্পানির যায়গায় অবস্থান করছেন স্বয়ং আল্লহ তায়ালা নিজে। কাজেই আল্লহর সমকক্ষ অন্য কাউকে বানিয়ে জান্নাত চিরতরে হারাম করবেন না। মিলাদ মাহফিল চলমান অবস্থায় হটাত দাঁড়িয়ে মনে করা হয় যে, এখানে মহানবী সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাজির হয়েছেন, তাই তাঁর সম্মানে দাঁড়ানো উচিৎ। এর অর্থ হল সাক্ষী রেখে শিরক করা। মহানবী সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোন স্থানেই স্ব-শরীরে আসেন না, আসতে পারেন না এবং তাঁকে এই ধরনের ক্ষমতাও দেওয়া হয়নি।

  ৩। সব থেকে বড় কথা হল ভারতীয় উপমহাদেশের বেশীর ভাগ মুসলমান মিলাদকে একটি বৃহত্তম ধর্মীয় ইবাদত বলেই মনে করে। যেখানে থেকে ইসলামের সৃষ্টি এবং সাহাবী (রা:) গন যে সকল যায়গায় অবস্থান করেছেন ও ধর্ম প্রচার করেছেন, সে সমস্ত দেশ সমূহে মিলাদ নামক কোন শব্দেরও ব্যবহার নেই। আমাদের পূর্ব পুরুষ-গন মুসলমান হওয়া শুরু করেছেন আরবদের থেকে ৬০০ – ৭০০ বছর পরে। অথচ বর্তমানে আমরা প্রমাণ করতে চাই যে, আমরা সে সাহাবীদের সন্তানদের থেকে বেশী ধর্মীয় অনুষ্ঠান বুঝি। আমরা ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নত, সম্বন্ধে না জানলেও অথবা আমল না করলেও নফল, মোস্তাহাব ও মুবাহ নিয়ে কিভাবে তর্ক তথা ফ্যাসাদ সৃষ্টি করা যায়, তা খুব ভাল করেই বুঝি। ইতিহাস সাক্ষী দেয় যে, আমাদের প্রথম দিকের পূর্বপুরুষ গন ছিলেন আর্য, দ্বিতীয় পর্যায়ের পুরুষ-গন ছিলেন জৈন, হিন্দু, খৃষ্টান, ও বৌদ্ধ, আর তৃতীয় পর্যায়ে আমরা হলাম মুসলমান। তাই মজ্জাগত ভাবে আমাদের মধ্যে পূর্ব পুরুষদের ধর্মের অনেক কিছুই কিছুটা পরিবর্তন করে আমল করতে ভাল বাসি। হিন্দুরা করে কীর্তন, আর আমরা করি মিলাদ, পার্থক্য এতটুকুই। মুসলমান ধর্মে এমন কোন আমল নেই, যা সাহাবী (রা:) গন পূর্ণরূপে বর্ণনা করে যাননি, তাই বেশী-বেশী করে বই পড়ুন, সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। আল্লহ রব্বুল আ’লামীনও রসুল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রথম আদেশ দিয়েছিলেন, ”পড়”। অথচ আমরা তাঁর উম্মত দাবী করলেও পড়া থেকে একেবারেই দূরে আছি।

   ৪। মুসলমান হিসাবে অবশ্যই একটা বিষয় সব সময় মনে রাখতে হবে, তাহলো কোন মু’মিন/মুসলমানের দোয়া /মোনাজাতই আল্লহর দরবারে কবুল হয় না- যতক্ষণ না রসুল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর হাদিস কর্তৃক স্বীকৃত যে কোন একটি দরুদ পাঠ করা হয়। তবে যতগুলো দরুদ রয়েছে, তার মধ্যে সর্বাবস্থার জন্য দরুদে ইব্রাহীম সব থেকে উত্তম। উল্লেখ থাকে যে, কিছু কিছু সময়ের জন্য কিছু নির্ধারিত দরুদ রয়েছে, যা উল্লেখিত আদেশ থেকে ব্যতিক্রম।

   ৫। (ক) তুমি না এই লে ধরাতে, কিছু না হইতো জগতে….। (খ) নাহইয়া ফেরেশতা খোদার, হয়েছি উম্মত তোমার, তার তরে শুকুর হাজার বার ইত্যাদি ইত্যাদি। এই সকল বচনগুলো সম্পূর্ণরূপে কুফরি/শিরকী গুনাহ। কারণ: কথা গুলো মহানবী সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে উল্লেখ করেই বলা হচ্ছে। (ক) এর বচনে বাংলা ভাষায় ধরা অর্থ পৃথিবী। আর মহানবী সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মের অনেক অনেক পূর্বেই পৃথিবীর কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। মহান মহান আল্লহ রব্বুল আলামীন কুরআনের অনেক যায়গায় ঘোষণা করেছেন যে, আমি তোমাদের পূর্বে অনেক জাতীকে ধ্বংস করেছি, আবার তাদের স্থলে অন্য জাতের সৃষ্টি করেছিসুতরাং মহানবী সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ধরায় আগমনের পূর্বে ধরার সকল কিছুই পূর্ণরূপে চলমান ছিল। কাজেই বর্ণিত বচন বলা মানেই হল আল্লহর ক্ষমতাকে তুচ্ছ করে দেখা এবং মনে করা যে, মহানবী সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে সৃষ্টির জন্য আল্লহ জিম্মি বা বাধ্য ছিলেন। পক্ষান্তরে এই কথাকে স্বীকার করে নেয়াই সম্পূর্ণরূপে কুফুরী। (খ) এর বচনে মহানবী সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে তুমি সম্বোধন করে বলা হচ্ছে, তার তরে বা তার জন্য শুকুর হাজার বার। যেহেতু তুমি বলা হচ্ছে সেহেতু নবী সা: সেখানে হাজির আছে। কারণ: বাংলা ভাষায় মধ্যম পুরুষ বা তুমি সম্বোধন সব সময় হাজির ব্যক্তিকে বলা হয়। কাজেই একমাত্র আল্লহ ছাড়া পৃথিবীর কোন সৃষ্টিই সর্বাবস্থায় সকল স্থানে হাজির থাকতে পারেনা। এই বাক্যে মহানবী সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে সেখানে হাজির হিসাবে মনে করে তুমি সম্বোধন করা হয়। তাই এই বচন সম্পূর্ণরূপে শিরকী গুনাহ। বরং এই ভাবে বলা যায় যে, হে আল্লহ তুমি আমাকে ফেরেশতা হিসাবে সৃষ্টি না করে বরং মহানবী সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উম্মত হিসাবে সৃষ্টি করেছ, এই জন্য তোমার কাছে শুকরিয়া আদায় করছি।

আমি আবারও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি যে, মহানবী সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে শুধুমাত্র রওজা শরীফে গিয়ে সরাসরি সালাম দেয়া যায় বা তুমি সম্বোধন করা যায়, কারণ: তিনি সেখানে স্ব-শরীরে অবস্থান করছেন, আর সেখানে থেকেই ফেরেশতা কর্তৃক আনিত পৃথিবীর সকল প্রান্তের উম্মতদের সালামের জবাব দিয়ে থাকেন। তাই দরুদের নামে বর্তমানে যে মিলাদ ব্যবস্থা প্রচলিত আছে, তা ইসলামে সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাজ্য। তাছাড়া বাংলা ভাষায় সুর আছে সংগীত ও বাদ্যযন্ত্রে। আরবিতে অতিরিক্ত হিসাবে সুর আছে আজান ও কোরআন তিলাওয়াতে। তাই বর্তমানে সুর করে দরুদ মনে করে ছওয়াবের আশায় যে মিলাদ পড়া হয়, এটার-তো কোন ধর্মীয় ডকুমেন্ট নেইই , বরং তা হল হিন্দু ধর্মের কীর্তন নামক দলীয় সংগীতের বিপরীতে বাদ্য-বিহীন দলীয় সংগীত ব্যবস্থা; যদিও পাকিস্তানের কিছু এলাকায় সমবেত হয়ে বাদ্যযন্ত্র বাজিয়েই এটা পালন করা হয়। অতএব মিলাদ হল একটা পরিপূর্ণ ধর্মীয় বিদ্‌য়াত, যেটি আমল করার জন্য ইসলামে কোন প্রকার ধর্মীয় দলিল নেই।

   ৬। একটি অবিবাহিত মেয়ে তার হবু স্বামীর মিলাদ প্রীতি সম্বন্ধে ফতোয়া জানতে চাইলে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ফতোয়া বিভাগ থেকে তাকে যথা নিয়মে বিভিন্ন তথ্য সহকারে উত্তর দেয়া হয়েছে এবং সবশেষে তাকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে যে, “উল্লেখিত বিদ্‌য়াত পন্থি পাত্রকে তুমি বিয়ে ক’রো না, তা নাহলে ঐ পাত্রের ঔরসে তোমার গর্ভে যে সন্তান জন্ম নিবে, সে-ও বিদ্‌য়াত পন্থিই হওয়ার সম্ভাবনা আছে। (ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইটগুলোতেই জানতে পারবেন)

   ৭। মিলাদের উৎপত্তি রহস্যে দেখা যায় যে, ইরাকের মুসল নামক শহরে ৬০৪ হিজরি সনে প্রবৃত্তি পূজারী বাদশা মুজাফফর উদ্দিন কাওকারীর নির্দেশক্রমে তারই অধীনস্থ এক ভণ্ড মৌলভী আবুল খাত্তাব উমর নামক জনৈক আলেম প্রচলিত মিলাদের প্রচলন করে। হিজরি সনের প্রথম ৬০০ বৎসর এই ধরেনের কোন মিলাদের ব্যবস্থা ছিল না। পরবর্তীতে যদিও মধ্য প্রাচ্যের প্রতিটি দেশে মুসলিম শক্তির চাপের মুখে সে মিলাদ ব্যবস্থা বেশী দূর অগ্রসর না হয়ে বরং একেবারেই বাতিল হয়ে গেছে। আর আমরা হিন্দু প্রাধান্য ভারত উপমহাদেশের মুসলমানদের একটি অংশ কীর্তনের মত সম্মিলিত ভাবে গাওয়া সে মিলাদকে ধর্মীয় বন্দেগী হিসাবে মনে করছি।

   ৮। কবি গোলাম মোস্তফা বাংলাদেশের একজন নামকরা কবি ছিলেন। আমার জানা মতে তিনি অনেক ভাল ভাল বই লিখেছেন। তার মধ্যে অনেক ধর্মীয় তথ্য সংক্রান্ত কিতাবও আছে। ইয় নবী সালাম আলাইকা, ইয়া রসুল সালাম আলাইকা…………। এটা উনারই লেখা একটি না’ত বা কবিতা মাত্র। কাজেই মানুষের তৈরি করা কোন কবিতা কখনো ইসলামের ইবাদতের বানী হতে পারেনা। ইবাদতের জন্য নির্ধারিত বানী সবই আল্লহর পক্ষ থেকে হতে হবে এবং তা মহানবী সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক অনুমোদিত হতে হবে। কারণ: তওরাত, যবুর এবং ইঞ্জিলও আল্লহর বানী; তবে তা আমাদের জন্য প্রযোজ্য নয়। তার একমাত্র কারণ হল সেগুলো মহানবী সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক অনুমোদিত নয়।

   ৯। আমার জানা মতে আমার পূর্ব পুরুষের সবাই মিলাদের সাথে জড়িত ছিলেন। আমিও সুদীর্ঘ তিন যুগ মিলাদ পড়েছি। অতঃপর মহান আল্লহ রব্বুল আলামীন আমাকে জ্ঞান দিয়েছেন যে, পিতার ধর্ম বলতে কোন জিনিস নেই। পিতার ধর্ম ছিল আবু জাহেল এবং তার সঙ্গীদের। যার ফলে তারা তাদের পিতার ধর্মকে বাদ দিয়ে মহানবী সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ধর্মে আসতে পারেনি। তাই আমার পিতা কি করে গেছেন এবং আমাদের আগের লোকেরা কি করে গেছেন, এটা আমার মোটেও দেখার বিষয় নয়। সুতরাং আমাদের মনে রাখতে হবে যে, রসুল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ধর্মই আমাদের একমাত্র ধর্ম এবং তাঁর আদর্শই আমাদের একমাত্র আদর্শ। অতএব তাঁর পথ ও মতের বাহিরে যাওয়া যাবে না। যদিও উত্তম বিষয়টি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনই ভাল জানেন, তারপরও এ বিষয়ে আরও অধিক জানার জন্য ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন:

http://www.islam-qa.com/en/ref/10289/shirk

http://www.islamqa.com/en/ref/111019/muhammad%20use%20before%20name

http://en.allexperts.com/q/Islam-947/2010/1/Eid-Milad-Un-Nabi.htm

http://www.islamqa.com/en/ref/13808/ceremony

http://www.islamqa.com/en/ref/90026/Celebrating%20Valentine%E2%80%99s%20Day

http://www.islamqa.com/en/ref/70317

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *