মুহাম্মদ নাম শুনার পর হাতে চুমু খাওয়া এবং চোখে ছোঁয়ানো

29

হাদিসের বিধানানুসারে মুহাম্মদ সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের  নাম শুনার পর প্রত্যেকে মুসলমানেরই দরুদ পড়া ওয়াজিব। নাম বলার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্ব ভূমিকা থাকে হল মুখের। নাম শুনে যদি চুমু খেতেই হয়, তাহলে সে হিসাবে চুমু খাওয়া উচিৎ ছিল সে মুখের, যে মুখ দ্বারা মুহাম্মদ সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নাম উচ্চারিত হল। এই অবস্থায় আমার হাতের কি মরতবা হল যে, আমি শুনলাম কান দিয়ে, অথচ চুমু খেলাম হাতে এবং মুছলাম চোখে। আর মনে করলাম যে খুব বড় একটা ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করলাম। এই ধরনের ইবাদতে ইসলামে বিন্দু মাত্রও স্থান নেই। এটা একটি পরিপূর্ণ বিদ্‌য়াত এবং গুনার কাজ।

আমি টি.ভি.তে প্রশ্নোত্তর পর্বে নিজেই দেখেছি যে, একজন মাওলানা এই ধরনের চুমুর পক্ষে রায় দিচ্ছেন। আসলে নিজেদের বাহাদুরি প্রদর্শন কারী মাওলানাদের কারণেই সমাজে এত ফেতনার বহুল ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়। আমরা কিতাবে দেখতে পাই যে, একজন সাহাবী (রা:) একটি হাদিসের তথ্য জানতে অথবা সন্দেহ মুক্ত হওয়ার জন্য হাজার মাইল পথ অতিক্রম করতেও দ্বিধা করতেন না। টি.ভিয়ের প্রশ্নোত্তর পর্বের সবজান্তা মাওলানারা কি এই পর্যন্ত বলেছেন যে, “আপনার এই প্রশ্নের উত্তর আমার জানা নেই, আমি জেনে আগামী সপ্তাহে বলব”?  কওমি মাদ্রাসার ফতোয়া বিভাগে যে কোন ফতোয়ার জন্য গেলেও তাঁরা বলেন যে, “সমস্যাটা লিখে যান, পরে এই সে নিয়ে যাবেন”; যদিও বড় মাদ্রাসা গুলোতে সব সময় এই কাধিক মুফতি হাজির থাকেন। পূর্বে ঘটিত যে কোন বিষয়ে ধর্মীয় বিশারদ-গন কর্তৃক প্রদেয় কোন সীদ্ধান্ত যে কোন ব্যক্তি বলতে পারেন, কিন্তু নতুন যে কোন বিষয়ে ফতোয়া প্রদান করা যোগ্যতাসম্পন্ন মুফতির কাজ, তাই মুফতি ছাড়া যেন কোন মাওলানা প্রশ্ন-উত্তর পর্বের চেয়ারে না বসতে পারেন, সে দিকে টি.ভি কর্তৃপক্ষ এবং যারা স্রোতা, তাদের দৃষ্টি রাখার জন্য অনুরোধ করছি। কারণ: সবার জানার জন্য বলছি যে, মাওলানা হওয়ার পর কমপক্ষে দুই বৎসর অধ্যয়ন করে তারপরই কেবল মুফতি হওয়া যায়। যদিও উত্তম বিষয়টি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনই ভাল জানেন, তারপরও এ বিষয়ে আরও অধিক জানার জন্য ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন:

http://www.islamqa.com/en/ref/68837/name

 

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *