মৃত্যুর পরে কুলখানি বা ভোজনানুষ্ঠান করা

Image result for কুলখানি খাওয়ার অনুষ্ঠান

মানুষ যখন মারা যায়, তখন সংসারে একজন লোকের অনুপস্থিতি নিশ্চয়ই শুধুমাত্র শুন্যতারই সৃষ্টি করে না, বরং পুরো সংসারে একটা শোকের ছায়া ফেলে দেয়। এমন দেখা যায় যে, জীবিতাবস্থায় যার কোন দায়িত্বই ছিলনা, কিন্তু মারা যাওয়ার পরই দেখা যায় সে কোন কাজ না করলেও তার বিরাট ভূমিকা ছিল। আর সে সুযোগে সমাজের কিছু খাদক ব্যক্তি কুল খানি বা ভোজন অনুষ্ঠানের জন্য অত্যন্ত ব্যস্ত হয়ে পরে। সেখানে সমাজের হুজুর উপাধি ধারি ব্যক্তি-গনও বিভিন্ন ভাবে অনুষ্ঠানটি করার প্রয়োজনীয়তা ফুটিয়ে তুলে। একটু খোঁজ করে দেখবেন কি যে নবী সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে কোন মহীয়সী ব্যক্তিদের কেউ মৃত্যু বরণ করলে তার পরে সে ব্যক্তির কুলখানি বা খাওয়ার অনুষ্ঠান করা হয়েছিল কি-না?  কোথাও পাবেন না; অর্থাৎ এটা নিঃসন্দেহে একটি বিদ্‌য়াত। সাধারণত সে দাওয়াতে আবার একটি বিষয় খুব বেশী করে খেয়াল রাখা হয়, তাহলো যারা জানাজা পরার সময় হাজির ছিল, তাদের সবাই যেন দাওয়াতে হাজির থাকে। কারণ: জানাজার নামাজে অংশ গ্রহণ কারি ব্যক্তি গন জীবনে এক ওয়াক্ত নামাজ নামাজ না পরলেও কি হবে, জানাজা পরার কারণে এই খাওয়াটা তাদের হক হয়ে দাঁড়িয়ে গেছে। এই ছাড়া জানাজার মাঠে দাড়িয়েই যদি মৃত ব্যক্তির পক্ষে কোন প্রতিনিধি দাওয়াত না দেয়, তাহলে জানাজা থেকে ফেরার পথেই কুলখানির দাওয়াত না দেয়ার বিষয়ে সমালোচনা শুরু করে দেয়। হায়রে হতভাগা বাংলাদেশের মুসলমান আমরা!

প্রচলিত প্রথা অনুসারে যদি জানাজার খবর দেয়ার সময় মাইকে বলে দেয়া হয় যে, “মৃত ব্যক্তির জন্য কোন প্রকার খানার ব্যবস্থা হবে না”, তাহলে অবশ্যই সে জানাজার নামাজে পূর্বের তুলনায় মুসুল্লি এক তৃতীয়াংশও হবে না। জেনে নিন, এই প্রকার খাওয়ানোতে মৃত ব্যক্তির পক্ষে কোন প্রকার উপকারই হয় না, তবে যে কয়জন মিসকিন সে দাওয়াতে থাকে, যদি মৃত ব্যক্তির কোন নামাজ কাজা হয়ে থাকে, তাহলে যতজন মিসকিন খেয়েছে তার অর্ধেক পরিমাণ ওয়াক্তের নামাজের ফিদিয়া আদায় হয়ে যাবে; যদিও মিসকিনদের খুব কম পরিমাণই দাওয়াতে অংশ গ্রহণ করানো হয়। সেখানে হাজির থাকে সকল আত্মীয়-স্বজন ও যারা কবর দিয়েছিল তারাই। সে সাথে মিলাদ নামক একটা বিদ্‌য়াতের ব্যবস্থা-তো জড়িত থাকবেই। মনে রাখবেন, আপনি যত মিসকিনকে খাওয়াতে পারেন, তার প্রতিটি খাদ্য কণারই বিনিময় আল্লহ রব্বুল আলামীনের কাছে পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। বিশেষ করে এই পদ্ধতিতে মৃত ব্যক্তির পক্ষে ফিদিয়া আদায় হতে থাকবে। তবে যদি কোন সম্ভ্রান্ত আত্মীয়- স্বজন বা সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিদের দাওয়াত করে খাওয়ান, তার কোন প্রকার উপকারই মৃত ব্যক্তির পাওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই নেই।

হাদিস কর্তৃক প্রমাণিত, যার সারাংশ হল যে, মানুষ মারা গেলে তার যতগুলো দরজা পৃথিবীতে জীবিত থাকা অবস্থায় খোলা ছিল, তার প্রতিটি দরজাই বন্ধ হয়ে যায়। অতঃপর তিনটি দরজা খুলে দেওয়া হয় যেমন:

 (১) সামাজিক ভাবে মানুষ উপকার পাচ্ছে এবং পেতে থাকবে এমন কোন কাজ যদি সে জীবিত থাকাবস্থায় করে যায়। যেমন: বৃক্ষ রোপণ, মসজিদ-মাদ্রাসা স্থাপন, পানির ব্যবস্থা করা, নিঃস্ব ব্যক্তিদের কিছু যায়গা দান করা ইত্যাদি।

 (২) মনস্তাত্ত্বিক ভাবে মানুষ উপকার পাচ্ছে এবং পেতে থাকবে এমন কোন কাজ যদি সে জীবিত থাকাবস্থায় করে যায়। যেমন: ধর্মীয় জ্ঞান উপার্জনের জন্য কিতাব লেখা, যে সকল বিষয় মানুষের জন্য দুনিয়াতে অতি প্রয়োজনীয়, সে বিষয়ে কোন গাইড লাইন বা বই লেখা, যে কোন বিষয়ের ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া, কুর’আন- হাদিস শিক্ষা দেওয়া ইত্যাদি।

 (৩) নেককার সন্তান/আওলাদ দুনিয়াতে রেখে যাওয়া। ব্যক্তি মারা যাওয়ার পরও যারা তাদের সে ওয়ালী তথা বংশের মৃত ব্যক্তিদের জন্য মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনর কাছে ক্ষমা চেয়ে দোয়া করে, তাদের সম্বন্ধেই বলা হয়েছে।

তাহলে আপনি এখন ভেবে দেখুন যে, উপরের তিনটি খোলা দরজার মধ্যে আপনার কুলখানির বিষয়টি আদৌ পরে কি-না। যদি না পরে, তাহলে এখন থেকেই কুলখানির চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন। যদিও উত্তম বিষয়টি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনই ভাল জানেন, তারপরও এ বিষয়ে আরও অধিক জানার জন্য ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন:

http://www.islamqa.com/en/ref/10225/bid’ah

http://www.islamqa.com/en/ref/1333/ceremony

http://www.islamicity.com/qa/action.lasso.asp?-db=services&-lay=Ask&-op=eq&number=3654&-format=detailpop.shtml&-find

http://www.islam-qa.com/en/ref/1514/quran

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *