মেলায় অংশ গ্রহণ করা

37

মেলার উৎপত্তি প্রাচীন কাল থেকেই আছে। তবে তখনকার মেলা আর বর্তমানের মেলার মধ্যে প্রচুর পার্থক্য বিদ্যমান আছে। উদাহরণস্বরূপ: নামাজের মাধ্যমে পাড়ার মুসল্লিদের মধ্যে দৈনিক দেখা হয় পাঁচবার, গ্রামের মুসল্লিদের মধ্যে সপ্তাহে দেখা হয় একবার, কয়েক-গ্রামের মুসল্লিদের মধ্যে বৎসরে দেখা হয় দুই বার। একই ভাবে মেলাটা ছিল তদানীন্তন সময়ে নিত্য প্রয়োজনীয় কেনা-কাটার জন্য একটা যায়গা, যাকে বর্তমানে আমরা বাজার বা হাট বলি। বর্তমান সময়ে বাজার হয় প্রত্যেক দিনের জন্য এবং হাট হল সপ্তাহে এক বা দুই দিনের জন্য। তদানীন্তন সময়ে মেলায় মহিলা/বাদী, গোলাম সহ প্রয়োজনীয় সকল সামগ্রীই পাওয়া যেত। সেখানে বিভিন্ন বড় ধরনের ঘোষণাও প্রচার করা হতো, যাতে করে তথ্যটি দূর-দূরান্তে পৌঁছে যায়। তেমনি একটি মেলার নাম ঐতিহাসিক ওকাজ মেলা।

সময়ের উন্নয়নের ফলে হাট-বাজার হয়ে যাওয়ায় মেলার বিষয়টি মানুষের কাছে গৌণ হয়ে দেখা দেয়। সে সময়ই হিন্দু জমিদার এবং প্রভাব শালী ব্যক্তি-গন প্রতিটি পূজার স্থানে মেলার ব্যবস্থা করে। শুরু হল এক ঢিলে দুই পাখি, অর্থাৎ পূজার ধর্মীয় কাজও হবে, আবার কেনা-কাটাও হবে। পরবর্তীতে যখন হিন্দুদের আবির্ভাব কমে গেল, সে সাথে মেলার দাপটও কমে গেল। বর্তমানে দেশের কিছু এলাকায় এই মেলার প্রচলন আছে। বাংলাদেশের মানব সভ্যতার ইতিহাসে প্রথম তালিকায় আছে মহাস্থান গড়ের নাম। এখানেই পাওয়া গিয়েছে সব থেকে পুরাতন আমলের হিন্দু সাম্রাজ্যর বিভিন্ন নিদর্শন। ফলশ্রুতিতে দেশে সব থেকে বেশী মেলার প্রভাব মহাস্থান গড় থেকে নিকটস্থ এই লাকাগুলোতে। বাংলাদেশে এমন হাজার হাজার বর্গ মাইল এই লাকা আছে, যেখানকার জনগণ শুধু মাত্র মেলার নামই শুনেছে, জীবনে কোন দিন দেখেনি মেলা কিভাবে হয়। আমি ৪২ বৎসর বয়স অতিক্রান্ত হওয়ার পরে কোন একটি মেলাতে কৌতূহল বশত: শুধুমাত্র অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য গিয়েছিলাম।

বর্তমানে হিন্দুদের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ছাড়াও মুসলমান-গন কিছু আউলিয়া দরবেশের মাজারকে ঘিরে মেলার ব্যবস্থা হয়ে থাকে। কোন মেলায়ই বৈধতার কোন বিষয় হয় না। মেলা মানেই তার প্রতিটি কাজ হল ইসলাম পরিপন্থী। সেখানে মদ, গাজা, ভাং, ফ্লাশ, গুটি, বোর্ড, লটারি ইত্যাদি থাকবেই। উত্তর বঙ্গের তথা বাংলাদেশের প্রাচীন স্থান হল মহাস্থান গড়, অথচ সেখানে কোন একটি দিনে সমগ্র বাংলাদেশের গাজা-খোর এক যায়গায় মিলিত হয়। এটা তখন হয় গাজার সাম্রাজ্য। ঐদিন যে কতগুলো গাড়ি বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রিজার্ভ হয়ে বগুড়া আসে, তা বগুড়া মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকলেই সব দেখা যায়। এমনকি সেদিন কোন গাড়িতেই সহজে সীট পাওয়া মুস্কিল। আর ভোরে বা সকালে যখন তারা বাড়ির দিকে ফিরে, তখন গাড়ির ছাদের উপরে ঈদের দিনের মত ভিড় থাকে। ঈদ বাংলাদেশের সব যায়গায় হয় আর গাজার মহা আসর এক যায়গায় হয়। কাজেই ভিড় কেমন হবে তা কল্পনা করে দেখুন। অথচ এত ভিড় অথবা গাড়ির অপ্রাপ্যতা হওয়ার কারণ কিন্তু সহজ সরল জনগণ কিছুই বুঝতে পারেনা; যদিও সকল কার্যক্রম পুলিশের নিয়ন্ত্রণে এবং আওতার মধ্যেই হয়। পুলিশের নিয়ন্ত্রণ কিন্তু আবার অন্য কোন উদ্দেশ্যে নয় বরং সহজে নিরাপদে এবং আরামে যাতে মেলার কাজ সম্পন্ন হয় তার জন্যে। মেলা সম্পর্কে বেশি বলার প্রয়োজন এইজন্য নেই, কারণ: এর মধ্যে সবগুলোই বিধর্মী বা মুশরিকদের কার্যক্রম। কাজেই ভাল বলার মত কোন অংশই এখানে নেই; যেমন ভাবে শয়তানের কার্যক্রমে ভাল বলতে কোন শব্দ নেই।

http://www.islam-qa.com/en/ref/22084/free mixing

You may also like...

1 Response

  1. Klondike says:

    I use eucalyptus in the bath for the kids when they have a cold. That works great. Also, putting lavender and chamomile in lotion helps boost the immune system and also helps to decrease a fever. Overall, using products from a company on the Safe Cosmetics campaign has lessened the amount our family gets sick. wwes.ddingpurpoaw.net

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *