মোহাম্মদ নাম শোনা মাত্রই দরুদ পড়া ওয়াজিব মনে করা

রসুল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নাম শুনা মাত্রই দরুদ পড়া সর্ব সম্মতিক্রমে ওয়াজিব। এই ব্যাপারে জিবরাইল (আঃ) রসুল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক খোতবা প্রদানের উদ্দেশ্যে মিম্বরে আরোহণের প্রাক্কালে আমিন বলিয়ে সম্মতি করিয়ে নিয়েছেন যে, “যে ব্যক্তি রসুল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নাম শোনার পর দরুদ পড়ল না, সে ধ্বংস হোক”। যেহেতু বিষয়টি জিবরাইল (আঃ) করিয়েছেন, কাজেই এটা জিবরাইল (আঃ)এর নিজস্ব কোন ইচ্ছা নয়, বরং মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনেরই আদেশ বা ব্যবস্থাপনা। সেসকল ক্ষেত্রে সবার জন্য দরুদ পড়া ওয়াজিব বা বাধ্যতামূলক। বর্ণনার বিষয় হল কিছু কিছু ক্ষেত্র আছে, যেখানে দরুদ পড়া ওয়াজিব নয়, যেমন:

 (১) কুর’আন শরিফ তিলাওয়াত করার সময় যখন মোহাম্মদ নাম আসে তখন। যেমন: ‘মাকা-না মুহাম্মাদিন আবা………..’। কারণ: এই সকল ক্ষেত্রে স্বয়ং মহান আল্লহ রব্বুল আলামীন নিজেই মোহাম্মদ নাম বর্ণনা করার পর-পরই রসুল বা হাবিব কুনিয়াত জুড়ে দিয়েছেন।

 (২) যখন কালিমা পড়া হয় তখন। কারণ এখানেও মোহাম্মদ নামের সাথে রসুলুল্লাহ বা আল্লহর রসুল কুনিয়াত সংযুক্ত আছে।

 (৩) যখন আজানে বা ইকামাতে মুহাম্মদ নাম আসে তখন। কারণ: সহীহ হাদিস কর্তৃক বর্ণিত আছে যে, “………….যখন মুয়াজ্জিন বলে আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসু’লুল্লাহ, প্রত্যুত্তরে তখন সে-ও (উত্তর দাতা) বলে আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসু’লুল্লাহ………..”। অতএব আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসু’লুল্লাহ শোনার পর প্রত্যুত্তরে আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসু’লুল্লাহ না বলে সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললে কখনোই হাদিসের নির্দেশ মোতাবেক আজানের জবাব আদায় হবে না।

 (৪) হাদিসে বর্ণিত যে কোন দরুদ নামাজে অথবা অন্য কোথাও পাঠ করার সময় যদি মোহাম্মদ নাম আসে তখন। যেমন: আল্লা’হুম্মা ছল্লিয়ালা মুহাম্মাদিও………। এই ক্ষেত্রে দরুদ পড়া টাই সুন্নত, মুহাম্মদ নাম শুনে জবাবে সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলা ওয়াজিব না।

 (৫) সাধারণভাবে কোন মানুষের নাম বলার সময়। যেমন: মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বা মোঃ সোহেল ইত্যাদি। এই সকল ক্ষেত্রে মুহাম্মদ নাম শুনলেই দরুদ পড়তে হবে না। তবে মক্কা শরীফের বা মদিনা শরীফের কোন আলোচনার সময় যদি মোহাম্মদ নাম আসে এবং যার মাধ্যমে বুঝা যায় যে, রসুল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্বন্ধেই আলোচনা হচ্ছে, তাহলে সেক্ষেত্রে মোহাম্মদ নাম শোনা মাত্রই অবশ্যই দরুদ পড়া ওয়াজিব হবে।

একটি উদাহরণ দিয়ে ঘটনাটি বর্ণনা করা যেতে পারে, তাহলো এমন যে, একজন প্রধান শিক্ষকের নাম রশিদ। সর্বসম্মতিক্রমে প্রধান শিক্ষক একটি সম্মান জনক পদের নাম। কেউ যদি তাকে শুধু মাত্র রশিদ বলে সম্বোধন করে, তাহলে নিঃসন্দেহে তার পদমর্যাদার অবমাননা করা হল। নিয়মানুসারে তাঁকে হয়ত পূর্বে নয়তো পরে কুনিয়াত বা উপাধি সহ সম্বোধন করতে হবে। নামের পরে উপাধি দিয়ে যেমন: রশিদ মাস্টার, রশিদ স্যার, বা রশিদ সাহেব অথবা পূর্বে কুনিয়াত সহ যেমন: প্রধান শিক্ষক রশিদ বা জনাব রশিদ বলে সম্বোধন করতে হবে। যথা-নিয়মানুসারেই একজন শিক্ষককে তাঁর প্রাপ্য মর্যাদা দেয়া উচিৎ। তদ্রূপ মোহাম্মদ নামের সাথে যখন কুনিয়াত বা আল্লহর নাম সংশ্লিষ্ট উপাধি থাকে তখন আর সে মোহাম্মদ নাম শুনার সাথেই দরুদ পড়া ওয়াজিব হয় না। কারণ কুনিয়াতই তাঁর জন্য মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে নির্ধারিত সালাম, সম্মান ও মর্যাদা।

মোহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ, আল্লহর রসূল মোহাম্মদ, আল্লহর হাবিব মোহাম্মদ ইত্যাদি বাক্যাংশের সাথে আলাদা করে দরুদ পড়ার কোন দরকার হয় না। দরুদের মুখ্য বিষয় হল মোহাম্মদ সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নামকে অনুভব করা মাত্রই তাঁর নামের সাথে আল্লহর নামের অংশ জুড়ে দেয়া। আমরা দরুদ মানেই ‘সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাহিরে কিছু আছে বলে বুঝতে চেষ্টা করি না। সকল ইংরেজ মুসলমান-গন মোহাম্মদ নাম শোনার পর বলে থাকেন: (Peace and blessings of Allaah be upon him) তাই বলে তাঁরা কি ভুল বলেন?  মোটেও না, কারণ যে বিষয়টি মুখ্য তাহলো তাঁরাও নামের সাথে of Allaah বা আল্লহর শব্দটি যুক্ত করে, আর এটাই হল দরুদ।

মোট কথা হল, ‘আমি যা বলব এটাই সব থেকে নির্ভুল বা বেশি সঠিক এই ধরনের উগ্র মতবাদের উপর বিশ্বাসী না হয়ে বরং মনে করা উচিৎ যে, আমাদের নবী সমগ্র পৃথিবীর জন্য। তাই পৃথিবীর প্রতিটি মুসলমানকে আমার ভাই মনে করে সবার পদ্ধতিকে বিশ্বাস করতে হবে। কারণ: অনেক সাহাবী ছিলেন, যারা রসূল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদেশে একটি বিশেষ ধরনের ইসলামি বিধান নিয়ে পৃথিবীর কোন এক প্রান্তে পৌঁছে গিয়েছেন, সেখান থেকে আর মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত জন্ম ভূমি তথা আরবে ফিরে যেতে পারেননি। এমতাবস্থায় সে সকল সাহাবীদের দ্বারা পরিবর্তিত ইসলাম ধর্ম বা বিধানকে ইসলামের নিয়ম বহির্ভূত বলে আঘাত করা মানেই হল পরোক্ষভাবে রসূল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিধানকে আঘাত করা। কাজেই কথা বলতে সাবধান! হাদিস কর্তৃক প্রমাণিত আছে এমন যে কোন ব্যাপারে বিতর্কে না জড়িয়ে বরং সে মুসলমানকে তাঁর নিয়ম মানতে দিন, আর আপনি আপনারটা পালন করুন।

অতএব, চিলে কান নিয়ে গেছে শুনে নিজের কানে হাত না দিয়ে চিলের পিছনে দৌড়ালে কোন লাভ হবে না। মোহাম্মদ নাম শুনলেই দরুদ পড় ওয়াজিব নয়, বরং রসুল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নাম হিসাবে মোহাম্মদ নাম শুনলেই কেবল দরুদ পড়া ওয়াজিব হবে। মোহাম্মদ নাম শুধুমাত্র কান দিয়ে শুনাটাই বড় বিষয় নয়, সে নামটি যে কেবল মোহাম্মদ সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নামকেই বোঝাচ্ছে, এই ধরনের অনুভূতি মনে জাগ্রত হওয়া মাত্রই দরুদ পড়া ওয়াজিব হবে। আবার অনেক শব্দ বা বাক্যের ক্ষেত্রে মোহাম্মদ নাম ছাড়াও দরুদ পড়া ওয়াজিব হবে, যেমন: মহানবী, রসুলে করিম, রসুলে পাক, পিয়ারা হাবিব ইত্যাদি। তাই দরুদ পড়ার ব্যাপারে ইন্দ্রিয়ের চেয়ে অনুভূতির গুরুত্বই বেশি। অতএব যে কোন আমল করতে গেলে তার সম্বন্ধে সঠিক বিষয়টি আগে জেনে নিয়ে তারপর আমল করতে হবে। যে কোন প্রকার ভুল আমলের জন্য ক্ষতির সম্ভাবনাই বেশি। যদিও উত্তম বিষয়টি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনই ভাল জানেন, তারপরও এ বিষয়ে আরও অধিক জানার জন্য ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন:

http://www.allexperts.com/user.cgi? m=6&catID=947&expID=104392&qID=5014323

You may also like...

9 Responses

  1. AveniraBroow says:

    online pills online online

    6a28 online for men over 30

  2. I believe you have noted some very interesting details, thankyou for the post. 🙂

  3. EddaBroow says:

    precio online lima

    0f24 online naturale india

  4. Likely I am likely to save your blog post. 🙂

  5. Like says:

    Like!! Really appreciate you sharing this blog post.Really thank you! Keep writing.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *