রক্তের সম্পর্ক, বংশ, জাত ও জাতির পার্থক্য না বুঝা

76

হাদিসে বর্ণিত আছে যে, “রক্তের সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবেনা”। বিষয়টি ভালভাবে জানা উচিৎ যে রক্তের সম্পর্ক কাকে বলে। যাদের রক্তের সমন্বয়ে নিজের দেহ গঠিত, সে ব্যক্তিদের সাথে একই রূপ ভাবে যাদের সম্পর্ক আছে, তারা সকলেই রক্তের সম্পর্কের আত্মীয়। বেশির ভাগ মানুষেরই ধারনা যে, বাপের বংশই কেবল রক্তের সম্পর্ক, অর্থাৎ মায়ের বংশের সাথে কোন রক্তের সম্পর্ক থাকেনা। তারা গুলিয়ে ফেলেন রক্তের সম্পর্ক এবং বংশ মর্যাদার পার্থক্য না বুঝতে পেরে। কোন সৃষ্টিরই শুধুমাত্র পুরুষ জাতের মাধ্যমে বংশ বিস্তার সম্ভব না, সেখানে অবশ্যই স্ত্রী জাতের প্রয়োজন আছে। মাতা-পিতা উভয়ের রক্তের সংস্পর্শেই মানব দেহের সৃষ্টি। অতএব পিতৃকুল এবং মাতৃকুলের সকলেই বর্ণিত হাদিস মোতাবেক রক্তের সম্পর্কের আত্মীয়।

তবে বংশের ব্যাপারটি সম্পূর্ণ একমুখী। কারণ বাবার বংশের সাথেই ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে সকল সন্তান তাদের বংশীয় উপাধি বা মর্যাদা বহন করে থাকে। এখানে মা বা নানার বংশের কোন অংশ ব্যবহার করা হয় না। যেমন মহানবী সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুরাইশ বংশে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন। তবে ক্ষেত্রবিশেষ কেউ কেউ তাদের বংশীয় মর্যাদাকে বাদ দিয়ে স্বার্থের কারণে নতুন বংশের নামে পরিচিত হতে পছন্দ করে। উদাহরণস্বরূপ ইন্দিরা গান্ধী ছিলেন ভারতের বিখ্যাত নেহেরু পরিবারের সদস্য। তাঁর স্বামী ফিরোজ ছিলেন জাতীতে একজন মুসলমান। তদের দীর্ঘ দিনের প্রেমের সম্পর্ক শুধুমাত্র ধর্ম ভেদাভেদটি একটি বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। অবশেষে ভারতের রাজনৈতিক নেতৃত্বের কেন্দ্র-মণি নিঃসন্তান মহাত্মা গান্ধী ফিরোজ কে নিজের সন্তানের যায়গায় নিয়ে ফিরোজ গান্ধী উপাধি দিয়ে তাদের বিবাহের ব্যবস্থা করেন। সেক্ষেত্রে নেহেরু পরিবারের মতিলাল নেহেরু বা জহরলাল নেহেরুর বংশীয় উপাধি ইন্দিরা গান্ধী বা বর্তমান গান্ধিদের কোন কাজেই আসছে না। তারা বংশ পরস্পরায় গান্ধী উপাধিই ব্যবহার করে যাচ্ছে। এখানে বুঝার ব্যাপার হল গান্ধী উপাধিটি ফিরোজের। আর তা অন্য ব্যক্তির মাধ্যমে পাওনা হলেও বর্তমানের প্রজন্ম কিন্তু বাবার গান্ধী উপাধিই ব্যবহার করে যাচ্ছে, মা’য়ের নেহেরু উপাধি ব্যবহার করছে না।

জাত হল আবার আরেকটি বিষয়। কারণ অনেকেই বিশেষ করে মহিলারা কোন ব্যক্তির খারাপ আচরণের কারণে বলে থাকেন, “এটা ওর জাতের দোষ”। আসলে যে বলে, সে নিজেও জানে না যে, সে কি বলল। মূলত সে তার বংশের কথাটাই বলতে চেয়েছিল, কিন্তু অর্থ গত ব্যবধান বুঝতে না পেরে এই ধরনের কথাই বলে থাকে। জাত বলতে বুঝায় মহান আল্লহ রব্বুল আলামীন কর্তৃক সৃষ্টির মাধ্যমের দুইটি অংশের যে কোন একটিকে। যেমনঃ মানুষের জন্য পুরুষ জাত এবং মহিলা জাত, গরুর জন্য বলদ হল পুরুষ জাত এবং গাভী হল মহিলা জাত ইত্যাদি। তবে মানুষ কৃত্রিম ভাবে ভ্রূণ গবেষণার মাধ্যমে যদি কোন অনড় বা চলমান-শীল জীব আবিষ্কার করেন। তাহলে সেটি অবশ্যই জাত হিসাবে পরিগণিত হবে। যেমন: ইরি ১১ জাত, ব্রয়লার মুরগীর জাত ইত্যাদি। তবে কোন পুরুষকে যদি জাত তুলে গালি দেয়া হয়, তাহলে সেক্ষেত্রে পৃথিবীর সকল পুরুষই অন্তর্ভুক্ত থাকবে, তার বংশ নয়।

আর জাতি বলতে বুঝায় কোন একটি বিষয়ের একইরূপ আদর্শের সকল অনুসারীকে। উদাহরণস্বরূপ যারা বাংলা বলেন, তারা সকলেই বাঙ্গালী জাতী, যারা মুসলমান ধর্মকে অনুসরণ করেন, তারা সকলেই মুসলমান জাতী, যারা পাহাড়ে বসবাস করেন, তারা পাহাড়ি জাতী ইত্যাদি। অতএব কেউ যদি বলে এটা নারী জাতী বা পুরুষ জাতীর কলঙ্ক, তাহলে সম্পূর্ণ ভুল হবে। এই ক্ষেত্রে অবশ্যই জাতীএর স্থলে নারী জাত বা পুরুষ জাত বলতে হবে

http://www.islam-qa.com/en/ref/793/relative

http://www.islam-qa.com/en/ref/85108

 

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *