রাজনৈতিক উপাধির সাথে আল্লহর দেয়া উপাধিকে মেলানো

উপাধি মানেই হল কারো দোষ বা গুনের কারণে অন্যদের নিকট থেকে প্রাপ্ত খেতাবকেই বুঝায়। তেমনি কিছু কিছু ক্ষেত্রে আল্লাহ এবং তাঁর রসুলও অন্যদেরকে খেতাব দিয়েছেন। আদি-পিতা, মুসলমানদের জাতির পিতা, খলিলুল্লাহ, হাবিবুল্লাহ ইত্যাদি উপাধিগুলো আল্লাহ রব্বুল আলামীন তার প্রিয় রসুলদেরকে দিয়েছেন। রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার প্রিয় সাহাবিদেরকেও বিভিন্ন উপাধিযুক্ত করেছেন, যেমন: সিদ্দিক, সাইফুল্লাহ ইত্যাদি। তবে সেই সকল উপাধি নিয়ে কোন সমস্যা না থাকলেও সমস্যা হয়ে যাচ্ছে জাতির পিতা নিয়ে। কারণ: পাক কালামে মহান আল্লাহ হযরত ইব্রাহিম (আঃ) কে মুসলমানদেরকে উদ্দেশ্য করে “তোমাদের পিতা” বলে সম্বোধন করেছেন। সেই হিসাবে ইব্রাহিম (আঃ) মুসলমানদের জাতির পিতা। তবে বর্তমানে রাজনৈতিকভাবেও অনেককে সেই দেশের জাতির পিতা হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। তুরস্কের কামাল পাশা, ভারতের মহাত্মা গান্ধী, বাংলাদেশের শেখ মুজিবুর রহমান, মালয়েশিয়ার ডঃ মাহাথির ইত্যাদি। উল্লেখ থাকে যে, কোন দেশের জনগণ কর্তৃক বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে যদি কাউকে এই ধরনের উপাধি দেয়া হয়, তাহলে সেটি কোন একটি নির্দিষ্ট ধর্মের জন্য বলবত থাকে না; বরং তা হিন্দু, খৃষ্টান, ইহুদি তথা মুমিন-মুশরিক নির্বিশেষে সকলের জন্যই বিদ্যমান হয়ে যায়। এটা কোন নির্দিষ্ট ধর্মের না হয়ে বরং পৃথিবীর কোন একটি অঞ্চলের সকল ধর্মের জনগণের জন্য বলা হয়ে থাকে, যেখানে ভাষাও একটি ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়।

যদিও আল্লাহর দেয় উপাধি অনুসারে মুসলমানদের জন্য একমাত্র ইব্রাহিম আঃ ছাড়া আর অন্য কাউকে জাতির পিতা হিসাবে মেনে নেয়া মানেই হল আল্লাহর বিধান বা উপাধিকে তুচ্ছ মনে করা। তার পরও যদি কোন ব্যক্তি জাতির পিতা হিসাবে নিজের নাম শুনতে অথবা অপরকে উপাধিযুক্ত করতে পছন্দ করে, তাহলে সেই ব্যক্তিদের সাথে কোন মু’মিনদের তর্কে না যাওয়াই হল সর্বোত্তম কাজ। কারণ: লোহাকে বালু দিয়ে শান দিলে তা ক্ষয় হয়ে একটা প্রয়োজনীয় অস্ত্রে পরিণত হবে। অপরপক্ষে কাঠকে বালু দিয়ে শান দিলে তা ক্ষয় হয়ে শুধুমাত্র দুর্বলই হতে থাকবে এবং আশে-পাশের এলাকায় ভুষি উড়িয়ে পরিবেশ নষ্ট করবে। তাই যে কোন দেশের কোন ব্যক্তিকে যারা জাতির পিতা হিসাবে মেনে নিতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে, তাদের কাছে অন্য কোন কথা বুঝালেও তাদের দ্বারা সেই বিষয়ে বুঝা সম্ভব নয়, কারণ: তারা দেশের সব থকে বড়-বড় ডিগ্রীগুলো গ্রহণ করলেও ধর্মীয় জ্ঞানে একেবারেই অপরিপক্ব। কাজেই তাদের সাথে তর্কে না যেয়ে বরং তাদের জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করা উচিত যে, আল্লাহর দেয় জাতির পিতা উপাধিটি একমাত্র কার জন্য, তা যেন তারা বুঝতে পারেন এবং আল্লাহ সেই তাওফিক তাদেরকে দান করুন।

আমাদের জানা উচিত যে, মুসলমানদের জন্য পিতা হল ৫ প্রকারের যেমন:

   ১। আদি পিতা:-            হযরত আদম (আঃ)।

   ২। জাতির পিতা:-         হযরত ইব্রাহিম (আঃ)।

   ৩। পিতা:-                   যারা ঔরসে মানুষ জন্ম গ্রহণ করে।

   ৪। আইনি পিতা:-          বিবাহের পর স্বামী বা স্ত্রীর পিতা।

   ৫। দুধ পিতা:-              শিশু অবস্থায় যে মহিলার দুধ পান করা হয়, তার স্বামী।

এখানে উল্লেখ করা দরকার যে, মায়ের স্বামী কখনো পিতা হতে পারে না, এমনকি মায়ের স্বামী কখনো বিবাহের বেলায় ওয়ালীও হতে পারে না; যদিও আমাদের সমাজে এই কূ-প্রথাই প্রচলিত আছে।  তাহলে অন্য লোককে আমরা পিতা বলি কিভাবে?  মোট কথা হল পিতা ছাড়া কাউকেই পিতা বলে ডাকা এবং মানা সম্পূর্ণরূপে হারাম। যদিও উত্তম বিষয়টি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনই ভাল জানেন, তারপরও এ বিষয়ে আরও অধিক জানার জন্য ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন:

http://www.islam-qa.com/en/ref/6195/father%20is%20one

http://www.islam-qa.com/en/ref/170317/ruling%20of%20wali

http://www.allexperts.com/user.cgi? m=6&catID=947&expID=104392&qID=5019797

You may also like...

1 Response

  1. 20/07/2018

    […] মধ্য  পন্থা অবলম্বন করতে বলেছেন। যাচাই স্বরূপ একজন ৫’৬” থেকে ৫’৮” এর […]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *