শিক্ষক বা কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে দাঁড়িয়ে যাওয়া অথবা দাঁড়াতে বাধ্য করা

69

মানুষ মাত্রই তার থেকে তুলনা মূলক বয়স্ক এবং সম্মানীয় ব্যক্তিকে শ্রদ্ধা করতে অভ্যস্ত। হতে পারে সে শক্তির দিক দিয়ে বড়, অথবা মর্যাদার দিক দিয়ে বড়। মহান আল্লহ রব্বুল আলামীন মানুষকে এই শক্তি এবং মর্যাদার মধ্যে বিভিন্ন ধরনে সৃষ্টি করে তা দিয়ে নিম্নতর ব্যক্তিকে ঊর্ধ্বতন ব্যক্তির কাছে এবং ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিকে নিম্নতর ব্যক্তির কাছে নির্ভরশীল করে ভারসাম্য বজায় রেখেছেন। কারণ মুনিবের টাকা দিয়ে যেমন চাকরের সংসার চলে, তেমনি চাকরের শ্রমের মাধ্যমে উপার্জিত সম্পদ দিয়ে মুনিবের সংসার চলে। কাজেই এই অস্থায়ী দুনিয়াতে কেউই স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়।

শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং মুনিবও সর্বদাই তেমনি একটি সম্মানের উপাধি বা অবস্থান। এই ব্যক্তি-গন যখন কোথাও আগমন করেন, তখন সেই স্থানের সকল অধস্তন ব্যক্তি-গন একসাথে উঠে দাড়ায়। ইসলাম এই ধরনের শিষ্টাচার কখনো মানুষকে শিক্ষা দেয়নি। রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন কোথাও আগমন করতেন, তখন কেউই সেখানে উঠে দাঁড়াতেন না। কারণ: তাঁরা জানতেন যে, “রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই ধরনের সম্মান পছন্দ করেন না এবং এই রূপ দাড়াতে নিষেধ করতেন”। কেউ যদি রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর চেয়ে নিজেকে বড় মনে করে, (নাউজুবিল্লাহ) তাহলে সেই ব্যক্তি এই ধরনের সম্মান কামনা করতেই পারে। বর্তমানে একমাত্র কওমি মাদ্রাসাগুলোতেই শিক্ষক কক্ষে প্রবেশ করলে ছাত্র-গন দাঁড়িয়ে সম্মান দেখায় না; বরং ধর্মীয় বিধান মুতাবেক যে কোন একজনে সালাম দেয়। তাছাড়া বাকি সকল ক্ষেত্রেই দাঁড়িয়ে যাওয়ার পদ্ধতি ইংরেজ-গন শিক্ষা দিয়ে গেছেন। এমন কি বিজাতিদের দেখাদেখি মুসলমান শাসক-গনও একসময় মাথা নিচু করে সম্মান গ্রহণের রেওয়াজ চালু করেছিলেন। যাহোক একজন মানুষকে দেখে অন্য আর একজন মানুষ দাঁড়িয়ে যাওয়া সম্পূর্ণ রূপে ইসলামী বিধানের পরিপন্থী। ইসলামের হক হল সালাম দেয়া এবং নেয়া। নিয়মানুসারে যখন কোথাও একটি বসার যায়গা থাকে এবং সেখানে দুইজন লোক থাকে। তাহলে অবশ্যই সেই বসার যায়গাটিতে দুইজনের মধ্যে তুলনামূলক সম্মানী ব্যক্তিই বসবে, এই নিয়মে সকল ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলেই একমত। যদিও উত্তম বিষয়টি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনই ভাল জানেন, তারপরও এ বিষয়ে আরও অধিক জানার জন্য ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন:

http://islamqa.com/en/ref/121635/greeting 

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *