শিশুদের মসজিদে নেওয়া এবং জামায়াতে দাড় করানো

32.2

মহানবী সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা করেন, “তোমাদের সন্তানদের বয়স যখন সাত বছরে পৌঁছে, তখন তাদের নামাজ শিক্ষা দাও (দীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠাও), যখন বয়স দশে পৌঁছে, তখন বাধ্যতামূলক ভাবে নামাজ পরাও। যদি না পরে তাহলে মার-ধর করে পড়াও”। এই ক্ষেত্রে নির্দেশ দেয়া হয়েছে যে, নামাজের জন্য চাপ সৃষ্টি করার সর্ব নিম্ন বয়স সাত বছর। তবে প্রতিটি শিশুকেই চার বৎসর বয়স থেকে তার মায়ের সাথেই নামাজের দিকে ঝোঁকানো উচিৎ। আর নামাজ বাধ্যতামূলক করা বা নামাজের জন্য শাস্তি প্রয়োগের বয়স হল দশ বছর। অথচ আমরা নিজেরা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ না পরলেও শুক্রবারে নিজের পাঁচ বছরের ছোট ছেলেটিকে মসজিদে নিয়ে যেতে কোন দ্বিধা করি না। হাজার হলেও নিজে একটা ছেলের পিতা হয়েছি, তাছাড়া বাজার থেকে তার জন্য নতুন পায়জামা পাঞ্জাবীও কিনেছি, এমতাবস্থায় ছেলেকে মসজিদে না নিলে কি চলে!

নামাজ পড়ার জন্য কিছু নিয়ম বা সর্ত আছে, আর সেগুলো জানা, বুঝা এবং মেনে চলার জন্যও একটা সর্বনিম্ন বয়স মহান আল্লহ রব্বুল আলামীন মানুষের জন্য নির্ধারিত করে দিয়েছেন, যা মহানবী সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাধ্যমে মানুষকে জানানো হয়েছে, তাহলো ‘সাত বছর’। সাত বছরের নীচে কোন শিশুর পবিত্রতা সম্পর্কে জ্ঞান হয় না এবং তা মেনে চলাও সম্ভব না। তার পরও তিন বছর প্রশিক্ষণ পিরিয়ড রেখে অতঃপর দশ বছরকেই নামাজের জন্য বাধ্যতামূলক বয়স সীমা নির্ধারণ করেছেন। এমন একজন লোক-ও কি আছেন যে হলফ করে বলতে পারবেন যে, সে তার ছোট শিশুকে নিয়ে মসজিদে গিয়েছেন, অথচ তার মন বেশীর ভাগ সময় শিশুর দিকে পরে থাকেনি?  যদি আপনি বলেন যে আপনার মনের কোন পরিবর্তন হয় না, তাহলে নিশ্চিত করে বলা যায় আপনি মিত্যা কথা বলছেন।

এমন কোন শিশু নেই যে পূর্ণ নামাজ চলাকালীন সময়টুকু স্বস্তির সাথে থাকতে পেরেছে। এটা তখনই সম্ভব হবে যেদিন দুনিয়াতে ইবলিস বা শয়তান থাকবেনা। আপনার সন্তানের কারণে শুধু মাত্র আপনারই নয় বরং আপনার আশে পাশের বেশ কয়েকজন লোকের নামাজ নষ্ট হতে বাধ্য। তাই এর জন্য আপনাকেই দায়ী হতে হবে। হাদিসে আছে, “তোমাদের মধ্য নামাজের জন্য যখন আজান দেয়া হয়, তখন শয়তান কুফা পর্যন্ত (৩৬ মাইল দুরে) চলে যায়। আর যখন আজান শেষ হয়, তখন তোমাদের উভয়ের মাঝে ভেড়ার বাচ্চার আকারে (খুব ছোট) এই সে কুমন্ত্রণা যোগাতে থাকে”। এমতাবস্থায় আমার এবং আপনার শিশু সন্তান যদি আমাদের পাশেই থাকে, তাহলে কষ্ট কর শয়তানের আর ভেড়ার বাচ্চার মত হওয়ার দরকার পরবেনা, সেখানে আমাদের বাচ্চাই শয়তানের জন্য যথেষ্ট।

একদিন আমি জুমার নামাজের সুন্নত পড়ে ইমামে খুতবার অপেক্ষায় বসেছিলাম। এমন সময় একজন মুসল্লি ছোট একজন শিশুকে নিয়ে মসজিদে প্রবেশ করল এবং আমার সামনেই নামাজ শুরু করলো; যদিও সেখানে পূর্ব থেকেই একজন শিশু ছিল। তার নামাজ পড়া শুরু করতেই শিশুটি তার পকেটে হাত ঢুকিয়ে দেয়া শুরু করলো। নামাজ চলমান অবস্থায়ই বেচারি নামাজী বার-বার তার শিশুর হাত পকেট থেকে সরিয়ে দিচ্ছিল, আর শিশুটিও বার-বার তার পকেটে হাত ঢুকাতে চাচ্ছিল। আমার মনে হয় এতথ্য শিশুটি ভাল করেই বুঝতে পেরেছিল যে, নামাজ পড়া অবস্থায় তার বাবা দুই হাত দিয়ে তাকে ঠেকাতে পারবে না। আর এমন সুযোগই বা কে ছাড়তে চায়! যাহোক যখন জুমার ফরজ নামাজ শুরু হল, তখন তার দুই পার্শে দুইজন শিশু ছিল। আমার মনে হয় সম্ভবত তারা দুইজনই পূর্বপরিচিত। আমার দেখা মতে নামাজ তো দুরেই থাকুক, পূর্ণ নামাজের মধ্যে ১০ সেকেন্ড সময় ছিল না যে, তারা স্বস্তির সাথে দাড়িয়ে ছিল। তাদের আশে-পাশে সেদিন আমরা যারা ছিলাম, সেদিনের নামাজ আল্লহ রব্বুল আলামীনের দয়ার উপর ছেড়ে রাখলাম কারণ: তিনি ক্ষমাশীল। নামাজের সালাম ফেরানোর পরে আমি দুই শিশুর পিতার মধ্যে কোন একজন পিতাকে বিষয়টিতে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি কোন কথা না বললেও অপরাধ-জনিত বিচলিত ভাব বোধ করেন। অর্থাৎ বিষয়টি তার কাছেও সম্ভবত অপছন্দনীয়ই হয়েছে।

২০০১ সালে ডিফেন্সের একটি স্কুলে আমার তত্বাবধানে শ্রীলংকান আর্মীর একজন ছাত্র (সার্জেন্ট) ছিল। যদিও সে বৌদ্ধ ছিল, কিন্তু তার নিকট থেকে শ্রীলংকার মুসলমানদের বিশাল একটি তথ্য আমি জেনেছিলাম। তাহলো শ্রীলংকার কোন মুসলমানের সন্তানই কুর’আন শরীফ পড়ার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত মসজিদে প্রবেশ করতে পারেনা। কুর’আন শরীফ পড়তে পারার পরীক্ষায় পাস করার পর তাকে মসজিদে প্রবেশ করিয়ে একটি খাতায় নাম লিখা হয় এবং প্রতিদিনের নামাজের হিসাবটা সে খাতায় লিপিবদ্ধ করা হয়। সে সাথে নাম লিপিবদ্ধ হওয়া শিশুটিকে প্রতি মাসে একটা চাঁদা পরিশোধ করতে হয়। যখন সে পূর্ণবয়স্ক হয়, তখন মসজিদে ভর্তি হওয়ার মাস থেকে শুরু করে সকল টাকা তাকে একসাথে বুঝিয়ে দেয়া হয়। এতে হটাৎ করে তার হাতে নগদ অংকের একটা ফান্ড চলে আসে, যা দ্বারা তার বিবাহের খরচটা পূর্ণভাবে হয়েও কিছু উদ্বৃত্ত থাকে। কত মহৎ ব্যবস্থা!

তাই এখন থেকেই প্রতিজ্ঞা করুন যে, আপনার শিশু সন্তানকে মসজিদে না নিয়ে বরং মক্তবে পাঠাবেন। আর শিশুকালের নামাজটা আপনার সাথে না পড়িয়ে যাতে বাচ্চার মায়ের সাথে পড়তে অভ্যস্ত হয়, সেদিকে খেয়াল করবেন। যদিও উত্তম বিষয়টি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনই ভাল জানেন, তারপরও এ বিষয়ে আরও অধিক জানার জন্য ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন:

 

http://www.islamicity.com/qa/action.lasso.asp?-db=services&-lay=Ask&-op=eq&number=3539&-format=detailpop.shtml&-find

http://en.allexperts.com/q/Islam-947/child-praying-praying-aloud.htm

 

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *