শিশু জন্মের পর সাঠি বা সাঠর পালন করা

শিশু জন্মের পর ৭ম দিবসে যার যে ধরনের তৌফিক আছে, সে অনুসারে শিশুর আকিকা পালন করার কথা ইসলামী বিধান মোতাবেক লিপিবদ্ধ আছে। সে দিনে শিশুর একটি ভাল নাম রাখাও উচিৎ। ৭ম দিনে সম্ভব না হলে ১৪তম অথবা ২১ তম দিনে করলেও অসুবিধা নেই। কিন্তু জন্মের সপ্তম দিবসে চাপের মুখে বাধ্য করে সে পরিবারে একটা বিশাল খরচের ব্যবস্থা করা এবং সে পরিবারের বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজন সহ হৈ-হুল্লোড় করা ইসলামে মোটেও কোন সমর্থন নেই। কম-বেশী আমাদের সমাজের সর্বত্রই এই বিষয়টি বিভিন্ন নাম ভেদে প্রচলিত আছে। অনেক সময় ৪০ দিন পরেও এই অনুষ্ঠানটি পালন করা হয়ে থাকে।

৪০শা শব্দটা আমাদের সমাজে একটা বড় ধরনের বিদ্‌আতের উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। আসলে মহান আল্লহ রব্বুল আলামীন ৪০ কে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন। হাদিস-কুর’আনের তথ্যানুসারে সন্তান মায়ের পেটে থাকা অবস্থায় প্রতি ৪০ দিন পর পর তার আঁকার পরিবর্তন হয়ে থাকে। পৃথিবীর কোন নবীকেও ৪০ বৎসরের পূর্বে নবুয়ত প্রদান করা হয়নি। ৪০ বৎসর বয়স থেকেই মানুষকে প্রৌঢ় হিসাবে গণনা করা হয়। সে সুবাদে সব যায়গায়ই ৪০ কে ব্যবহার করা যাবে না। মানুষ মরে গেলেও ৪০ দিনকে আমরা খুব বেশী গুরুত্ব দিয়ে থাকি; যার কোন তথ্যই ইসলামে নেই। সন্তান জন্মের পর সর্বোচ্চ ৪০ দিন পর্যন্ত মহিলাদের নেফাজ হিসাবে গণনা করা হয়। তাই বলে এই পদ্ধতি ইসলামে মোটেও জায়েজ নেই যে, ৪০ দিন পর প্রসূতি মাকে গোসল সহ নতুন কাপড় পরিধান করিয়ে একটা বিশাল হৈ- হুল্লোড় অনুষ্ঠান করতে হবে এবং ৪০ দিন পার হওয়ার পূর্বে (যদি কন্যা তার বাপের বাড়ি থাকে তাহলে) সে স্বামীর বাড়িতেও যেতে পারবে না।

বিধানানুসারে কারো যদি ১০ দিন পর নেফাজ বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে তখন থেকেই তাকে পবিত্র হয়ে নামাজ আদায় করতে হবে, এটাই হল ইসলামের শিক্ষা। তাহলে কেন সমাজের এই কুসংস্কার সাঠর, সাঠি, হাঠি (অঞ্চল ভেদে বুলি) বা ৪০ শা ধরে থাকতে হবে?  এটা সম্পূর্ণ ইসলাম বিরোধী অনুষ্ঠান, যার কোন অস্তিত্ব ইসলামে নেই। যদিও উত্তম বিষয়টি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনই ভাল জানেন, তারপরও এ বিষয়ে আরও অধিক জানার জন্য ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন:

http://www.islamqa.com/en/ref/32554/ceremony 

http://en.allexperts.com/q/Islam-947/2010/8/sharayi-importance-barsi.htm 

 

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *