শিশু সন্তানের জন্য আনকমন বা অর্থ বিহীন নাম রাখা

বর্তমান সমাজে একটা জঘন্য পদ্ধতি ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে , তাহলো যদি কারো সন্তান জন্ম গ্রহণ করে, তাহলে সে এবং তার পরিবার চায় যে, তাদের সন্তানের এমন একটি নাম হোক- যে নাম সে সময় পর্যন্ত সে এলাকায় কেউ রাখেনি। এটা আমাদের ইসলামী সমাজের জন্য একটি কু-সংস্কারই বটে। কারো নাম রাখার সময় অবশ্যই চিন্তা করতে হবে যে সে নামটি আদৌ কোন অর্থবোধক নাম কি-না, অথবা ইসলাম সে নামকে সমর্থন করে কি-না। কিছু নাম আছে যেগুলো হিন্দু না মুসলমান তা বুঝার কোন উপায় নেই যেমন: মানিক, রতন, বাদল, স্বপন ইত্যাদি। আবার কিছু নাম আছে, যার কোন সংজ্ঞা খুঁজে পাওয়াই মুশকিল যেমনঃ সুইচ, বল্টু, ভোট ইত্যাদি। কিছু নাম প্রচলন হয় ক্ষেপানোর নামকে কেন্দ্র করে যেমনঃ কালু, গিট্টু, ধলু, ফেলু ইত্যাদি। এই সকল নাম ইচ্ছার বিরুদ্ধেই এক সময় সমাজে চালু হয়ে যায়।

সাহাবী (রা:) দের সময়ে তাকালেই আমরা নাম সংক্রান্ত ভ্রান্তির অবসান ঘটাতে পারি। উদাহরণস্বরূপ নবী সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের  পিতার নাম ছিল আব্দুল্লাহ আবার ছেলের নাম ছিল আব্দুল্লাহ। উনার স্ত্রীর নাম ছিল জয়নব এবং কন্যার নাম ছিল জয়নব। আলী (রা:)এর মাতার নাম ফাতেমা, স্ত্রীর নাম ফাতেমা এবং ফুপুর নাম ছিল ফাতেমা। আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুর রহমান তিন পুরুষের নামই আব্দুর রহমান। তখন অসংখ্য নাম ছিল আব্দুল্লাহ। এমতাবস্থায় যে সকল নাম এলাকায় আছে, সে সকল নামগুলো কেন আবার রাখা হবে, এই ধরনের কোন কল্পনাও তারা করেননি, বরং তারা গুরুত্বপূর্ণ এবং ইসলামের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নাম গুলোর প্রতি রহমতের আশায় বার-বার বংশ পরস্পরায় একই ধরনের নাম রাখতে পছন্দ করতেন, আর আমরা করি সম্পূর্ণরূপে তার বিপরীত।

যদি কখনো এই রূপ নাম প্রমাণিত হয় যে এই নামে ডাকাটা একটা গুনার কাজ, তাহলে অবশ্যই সে নাম নিজের থেকে পরিবর্তন করতে হবে। বিখ্যাত সাহাবী আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রা:)এর নাম নবী সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে পরিবর্তন করেছিলেন। তাঁর নাম পূর্বে ছিল আব্দুল কাবাহ। সাধারণত নাম রাখার সময় যে সকল বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখা দরকার, তাহলো-

  (১) আল্লহ এবং তার যে কোন একক গুনগত নাম রাখা ও সে নামে ডাকা হারাম, যেমন: আল্লহ, রহমান, রহিম, রাজ্জাক, কহর, মালিকুলমুলক্‌ ইত্যাদি। এই সকল নাম রাখলে অথবা কাউকে ডাকলে অবশ্যই তার পূর্বে আব্দুল যোগ করতে হবে। এই ধরনের নাম রাখা ও কাউকে ডাকার অর্থই হল তাকে আল্লহর গুণবাচক নামের অর্থের অংশী করা, যা সূরা মরিয়মের ৬৫ নং আয়াতের পরিপন্থী তথা শিরকী গুনাহ। আল্লহ আমাদেরকে ক্ষমা করুন।

 (২) কাফের দের নামের সাথে মিলিয়ে নাম রাখা হারাম, যেমন: হামান, কারুন, ইত্যাদি

 (৩) আল্লহর সাথে যাদের শিরক করা হয়, তাদের সাথে সম্পর্ক রেখে নাম রাখা হারাম, যেমন: আব্দুল মসীহ, বিশাখা, জর্জ, বুট্রোস ইত্যাদি। উপরোক্ত তিনটি ক্রমিক সংখ্যার মধ্যে কারো নাম থাকলে জরুরী ভিত্তিতে পরিবর্তন করা বাধ্যতামূলক। এই সকল নাম রাখা ও ডাকা হল নিজের অজান্তেই আল্লহর সমকক্ষ কাউকে মনে করা এবং শয়তানের কাজকে সহযোগীতা করা।

 (৪) কোন অবস্থা বা সময়ের উপর ভিত্তি করে নাম রাখা মাকরুহ, যেমন: হায়েজ, নেফাজ, মনসুখ, জামিন, শুকুর ইত্যাদি।

 (৫) মেয়েদের নামের জন্য উত্তেজনাকর অথবা আকর্ষণ কারী যে কোন নাম রাখা মাকরুহ, যেমন: বিউটি, লাভলী, মনোরমা, কোকিলা ইত্যাদি।

 (৬) যে কোন অমর শিল্পী, অভিনেতা, অভিনেত্রীকে স্মরণ রাখার জন্য তার সাথে মিলিয়ে নাম রাখা মাকরুহ, যেমন: রবি, মাইকেল, রাজ্জাক, শাবানা, ববিতা ইত্যাদি।

 (৭) যে কোন খারাপ পেশার সাথে মিলিয়ে নাম রাখা মাকরুহ, যেমন: শরীক (চোর) জালিম, ফারাউ, বিদাত, হারাম ইত্যাদি

 (৮) যে কোন জন্তুর সাথে মিলিয়ে নাম রাখা মাকরুহ, যেমন: জামাল, কালীব, হীমার, কিরাদ ইত্যাদি।

 (৯) যে কোন নামের সাথে ইসলাম অথবা দীন যোগ করা মাকরুহ, যেমন: নুরুল ইসলাম, সামসুদ্দীন, রাফিউল ইসলাম, ছগীর উদ্দীন ইত্যাদি।

 (১০) আল্লহর নামের পূর্বে শুধুমাত্র আব্দ যোগ করা (আব্দুল্লাহ) ছাড়া অন্য যে কোন অংশ যোগ করা মাকরুহ, যেমন: হাসিবুল্লাহ, রহমতউল্লাহ, করিমুল্লাহ, নুরুল্লাহ ইত্যাদি।

 (১১) কুর’আন শরীফের যে কোন সুরার সাথে মিলিয়ে নাম রাখা মাকরুহ, যেমন: ইয়াসিন, তোহা, রহমান ইত্যাদি।

 (১২) ফেরেশতাদের নামের সাথে মিলিয়ে নাম রাখা মাকরুহ, যেমন: ইসরাফিল, জিবরাইল, মিকাইল, হারুত ইত্যাদি।

অতএব আমাদের পিতৃ-প্রদত্ত নাম গুলো কোন ভাষা থেকে রাখা হয়েছে এবং তার অর্থই বা কি, তা একজন মুসলমান হিসাবে প্রত্যেকের অবশ্যই জানা দরকার। সে সাথে যাদের নাম হারাম পর্যায়ে আছে, জরুরী ভিত্তিতে তাদের নাম পরিবর্তন করা উচিৎ। আর যদের নাম মাকরুহ পর্যায়ে আছে, সম্ভব হলে তাদের নামও পরিবর্তন করা উচিৎ, তবে কোন নাম যদি তার পিতার পক্ষ থেকে অর্থ অজানা বশত: রাখা হয়ে থাকে এবং সে নামেই সমাজে বহুল ভাবে পরিচিত থাকে, তাহলে পরিবর্তন না করেই বরং আল্লহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে এবং সে সাথে নিয়ত করতে হবে যে আমার পরবর্তী বংশধরদের মধ্যে আর এই রূপ কোন নাম সমর্থন করবো না। যদিও উত্তম বিষয়টি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনই ভাল জানেন, তারপরও এ বিষয়ে আরও অধিক জানার জন্য ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন:

http://www.islamqa.com/en/ref/7180/name

http://www.islamqa.com/en/ref/14622/name

http://www.islamqa.com/en/ref/70272/gift 

You may also like...

10 Responses

  1. I believe you have mentioned some very interesting points, regards for the post. 🙂

  2. It is in reality a great and useful piece of info. Thanks for sharing. 🙂

  3. Like says:

    Like!! Thank you for publishing this awesome article.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *